kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পাঁচ গোলের হারই বাস্তবতা

সনৎ বাবলা   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ম্যাচটা কি আরো ভালো হতে পারত?

জেমি ডে : দুটি গোল কম হলে ভালো হতো।

এই ম্যাচের শিক্ষা কী?

জেমি : ফুটবলারদের জন্য এটা একটা অভিজ্ঞতা। এই হার মেনে নিতে হবে, এশিয়ার সেরা দলের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা।

অর্থাৎ কাতারের বিপক্ষে হারই বাংলাদেশের নিয়তি। কন্ডিশন অনুকূলে থাকলে ও গোলরক্ষক ভালো খেললে হারের মাত্রা সহনীয় থাকবে নইলে গোলের ধাক্কায় দেশের ফুটবল ভূকম্পন হবে। যেমন ৫-০ গোলে হারের পর নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। দেশের ফুটবল কর্তারা বুঝতে পারছেন, এশীয় মানের চেয়ে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে। নেপাল-শ্রীলঙ্কাকে দেশে ডেকে এনে হারিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ফুটবলের সুরভি বাড়াতে হলে অনেক কাজ করতে হবে। তৃণমূল থেকে সংস্কার করে ফুটবলকে নতুন হাওয়ায় ভাসাতে হবে। এশীয় মানে চোখ রেখে চলতে গেলে আসলে দেশের ফুটবলের খোল-নলচে বদলে ফেলতে হবে।

কাতার কিন্তু এশীয় ফুটবলের নতুন পরাশক্তি। বছর দশেক আগেও তাদের ফুটবলে ছিল না আজকের রং। ‘ফুটবল জাতি’ হওয়ার জন্য তারা বিপুল অর্থ লগ্নি করেছে, ইউরোপীয় ধাঁচে একাডেমি গড়েছে, বড় বড় তারকাদের এনে ফুটবলের হাওয়া তৈরি করাসহ বিস্তর প্ল্যান-প্রগ্রামের পর সফল হয়েছে কাতারি ফুটবল বিপ্লব। গত বছর তারা এশিয়ান কাপ জিতে পেয়েছে বিপ্লবের বড় সাফল্য। এরই মধ্যে এশিয়ার অনেক দেশ বিশ্বকাপ খেললেও কাতার ফুটবলে এখনো তার রং লাগেনি। মাত্রই গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে তারা হেরেছে ২-১ গোলে, তার আগের মাসে ঘানার বিপক্ষে বিধ্বস্ত হয়েছে ৫-১ গোলে। এত বড় হারে কিন্তু কাতারি ফুটবলে শোরগোল পড়েনি। কারণ তারা জানে, আফ্রিকান ফুটবল এশীয় ফুটবলের চেয়ে ঢের এগিয়ে এবং আফ্রিকার দলের সামনে পড়লে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা নাস্তানাবুদ হবেই। আর সেই পিছিয়ে থাকা এশিয়ান ফুটবলের ‘ব্যাক-বেঞ্চার’ হিসেবে বাংলাদেশের ৫-০ গোলে হারও যথার্থ প্রাপ্য। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ১৮৪ নম্বর দল আর ৫৯-এর কাতারের সঙ্গে ব্যবধান ৫ গোলের হতেই পারে!

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, পিছিয়ে থাকা ভারত কী করে দোহায় গিয়ে গোলশূন্য ড্র করেছে? প্রথমত, ভারতীয় ফুটবল গত এক দশক পার করেছে একটা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে। এর পরও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তাদের ওই গোলশূন্য ড্র একটা আপসেট। ভারতীয় গোলরক্ষক গুরুপ্রীত সিংয়ের ১১টি দুর্দান্ত সেভের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ফল। এটা প্রতি ম্যাচে হয় না। ভারতের মাঠে কাতারের ফিরতি ম্যাচের স্কোরলাইনে হয়তো দুই পক্ষের মানের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে যাবে। ফুটবলে সামগ্রিক মান একটা বড় ব্যাপার। ফুটবল দলটা হলো মালার মতো, দুটো ফুল শুকিয়ে গেলে মালার সৌন্দর্য আর থাকে না, তেমনি দলের সবাই একটা নির্দিষ্ট মানের না হলে দলের খেলাও খোলে না। ধরুন, এই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে জুড়ে দেওয়া হলো। তাতে কি কাতারের সঙ্গে জিততে পারত বাংলাদেশ? পারত না। কারণ বাকিরা মানের দিক থেকে এতটাই পিছিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে নিখুঁত পাসে বলটা তাঁর পায়ে দিতে পারবে না।    

এখানেই ফুটবলের সঙ্গে ক্রিকেটের একটা বড় পার্থক্য। দু-একজনের ওপর ভর করে ক্রিকেট ম্যাচ জেতা যায়। সাকিব আল-হাসান বল হাতে পাঁচটা উইকেট নিলেই তো ম্যাচ সহজ হয়ে যায়। ফুটবলে এটা হয় না। ১১ জনকেই সমানতালে খেলতে হয় এবং তাতে ওই দলের গুণগত মানের পরিচয় মেলে। সর্বোপরি ওই দেশের ফুটবল ঐতিহ্যও সামনে চলে আসে। তাই আইসল্যান্ডের মতো দল গত বিশ্বকাপে ম্যাচ ড্র করে চমকে দিয়েছিল মেসির আর্জেন্টিনাকে। অথচ তাদের জনসংখ্যা চার লাখেরও কম, কিন্তু দেশে ফুটবলের পরম্পরা আছে, ঘরোয়া ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। সুবাদে ভালো ফুটবলারের জন্ম এবং আইসল্যান্ডের বিশ্বকাপযাত্রা। সেই জনসংখ্যার দিক থেকে এ দেশে কোনো ঘাটতি নেই, ১৮ কোটি থেকে ১৮ জন চমৎকার ফুটবলার পাওয়ার প্রত্যাশা বাড়াবাড়ি নয়। কিন্তু গরমিল যে ঐতিহ্যে। সেই সত্তর-আশির দশক হলে বাংলাদেশের পক্ষে এশীয় মানে পৌঁছানো খুব কঠিন হতো না। ক্ষয়ে যাওয়া ফুটবল ঐতিহ্যের কারণে এখন গোড়া থেকেই শুরু করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা