kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ম্যাচের পর আনিসুরের আক্ষেপ

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ম্যাচের পর আনিসুরের আক্ষেপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ গোল খাবে, হারবে—এতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হয়েছে নাকি গোলের সংখ্যায়। দলের কেউ এত গোলের দুঃস্বপ্ন দেখেননি। তাঁদের চোখে শেষ ২২ মিনিটে (ইনজুরি টাইমসহ) লাল-সবুজের খেলাটা গুলিয়ে গেছে। মনঃসংযোগ হারিয়ে এই সময়ে খেয়ে বসে আরো তিন গোল।

পাঁচটি দুর্দান্ত সেভ করেও আনিসুর রহমানের মনে শান্তি নেই। বাংলাদেশ দলের এই গোলরক্ষক নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর আক্ষেপ করেছেন, ‘চেষ্টা করেছি, নিজের সেরাটা দিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে। এত চাপের মধ্যেও দুই গোল পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। আমরা ঠিকঠাক খেলছিলাম, কিন্তু ওই পেনাল্টির পর আমাদের সব কিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। সবার মনঃসংযোগ নষ্ট হয়ে যায় এবং আরো তিন গোল খেয়ে বসি আমরা।’ লড়াইটা হয়েছে বাংলাদেশি রক্ষণের সঙ্গে কাতারি আক্রমণভাগের। লাল-সবুজেও তার প্রস্তুতি ছিল, দলের সবাই মিলে রক্ষণ প্রহরা দিয়েছেন। একের পর এক কাতারি আক্রমণ সামলে ৭১ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে ধরে রেখেছিলেন ম্যাচটা। এই কৃতিত্ব বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুরের সঙ্গে দলের ডিফেন্ডারদেরও। কিন্তু ৭২ মিনিটে রেফারির পেনাল্টি গোলের বাঁশিতে রক্ষণ সংগঠনের ঐক্যে যে ফাটল ধরে, সেটা আর মেরামত করতে পারেননি। মিডফিল্ডার সোহেল রানাও স্বীকার করেন, ‘ওই গোলে ম্যাচের মোমেন্টাম নষ্ট হয়ে যায়। ম্যাচটা তিন গোল পর্যন্ত থাকলে ভালো হতো।’

কিন্তু বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডে-ও যে ৫-০ গোলে হারের জ্বালায় জ্বলছেন না। এই ব্রিটিশ বাহবা দিচ্ছেন তাঁর ফুটবলারদের, ‘তারা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। তারা চার মাস ট্রেনিং করেছে, খেলার মধ্যে ছিল আর আমরা ট্রেনিং করেছি মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। তারা ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। এ রকম দলের বিপক্ষে ২-০ ও ৩-০ গোলে হারব কিভাবে। আমি বুঝতে পারছি না, খেলোয়াড়দের এই প্রেরণা আসবে কোত্থেকে! আমি মনে করি, খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত খেলেছে।’ ফুটবল মানে কাতার ও বাংলাদেশের অবস্থান যোজন যোজন দূরে। সঙ্গে লাল-সবুজের ট্রেনিংয়ের ঘাটতি অনেক। কাতার যখন ঘরোয়া ফুটবল খেলছে এখানকার ফুটবলাররা তখন করোনায় ঘরবন্দি। গত মাসে তাঁরা মুক্ত হয়ে নেপালের সঙ্গে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এরপরই হঠাৎ করে বাফুফে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে রাজি হয়ে যায়। ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ বছরের শেষ পর্যন্ত এশীয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই বন্ধ থাকলেও রহস্যময় কারণে কাতারের অনুরোধে ৪ ডিসেম্বরে ম্যাচ খেলতে রাজি হয় বাংলাদেশ। তাতে কোচও বিস্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এশীয় ফুটবলের সেরা দলের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিলেন সোহেল-আনিসুররা।

তাই হয়তো এই হারে খেলোয়াড়দের কোনো দায় দেখেন না কোচ। তাঁর চোখে ইনজুরি টাইমের গোলটি বেশি হয়ে গেছে, ‘ইনজুরি টাইমের গোলটি বেশি হয়ে গেছে। ৪-০ হলে ভালো হতো। তবে এ জন্য আমি খেলোয়াড়দের দোষ দিতে পারি না। পাঁচ সপ্তাহের ট্রেনিং ও চারটি প্র্যাকটিস ম্যাচ দিয়ে এর চেয়ে বেশি আশা করতে পারি না তাদের কাছে।’ এরপর  জেমি ডে যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্ব করি। আমি আবার দেখেছি, এই দলের বিপক্ষে খেলা কঠিন। শুধু গোলটা করতে পারি না। ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করেছে। আট মাস খেলার বাইরে থেকে তারা দুর্দান্ত ম্যাচ খেলেছে।’ তবে বিশেষভাবে বলেছেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমানের কথা, ‘জিকো (আনিসুর) চমৎকার খেলেছে। সেরা দলের বিপক্ষে তার দারুণ কিছু সেভ আছে। এই ম্যাচের জন্য তাকে একাদশে নিয়ে আমি ভুল করিনি।’

সবার ধারণা ছিল, দলের এক নম্বর গোলরক্ষক আশরাফুল রানাই খেলবেন। দ্বিতীয় ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে আনিসুরের পারফরম্যান্সে আশ্বস্ত হয়ে কোচ কাতার ম্যাচে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষকও ভাবেননি, ‘আমি কল্পনাও করিনি, এই ম্যাচ খেলব। সুযোগ পেয়ে আমি সেরাটা দিয়েছি। দ্বিতীয়ার্ধে ঊরুর ব্যথা নিয়ে গোলকিপিং করে গেছি। কারণ ফিজিও বলেছিলেন, নতুন গোলরক্ষক এসে মানিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে। তাই ব্যথা নিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলে গেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা