kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গোলবন্যায় ভেসেছে প্রতিরোধ

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোলবন্যায় ভেসেছে প্রতিরোধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচের আগের অনুশীলন ও উদ্দীপনামূলক বক্তব্য সবই ছিল গোল ঠেকানো নিয়ে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত র্যাংকিংয়ে ৫৯ নম্বর দলের সঙ্গে ১৮৪-তে থাকা বাংলাদেশের গুণগত পার্থক্যই স্পষ্ট হয়েছে। রক্ষণের সব প্রতিরোধ ভেঙে কাতার ৫ গোলের ফুটবল শিক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশকে। 

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে কাতার আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগে। আহমেদ আলার হেড গোলরক্ষককে পরাস্ত করে পোস্টে লেগে ফেরায় রক্ষা পায়। অবশ্য ৯ মিনিটে ঠিকই জাল খুঁজে নেয় আব্দেল আজিজ হাতিমের শট। তপুর পায়ে লেগে শটটি দিক পরিবর্তন করায় বিভ্রান্ত গোলরক্ষক আনিসুর রহমানের বিশেষ কিছু করার ছিল না। মিনিট দুয়েক বাদে বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষক দুর্দান্ত এক সেভে স্কোরলাইন বড় হতে দেননি। দলের এক নম্বর গোলরক্ষককে টপকে তিন কাঠির নিচে দাঁড়ানো আনিসুর আহমেদ আলার হেড ফিরিয়ে দেন। ম্যাচ যত গড়িয়েছে ততই বেড়েছে তাঁর সেভের সংখ্যা। বড় দলের সামনে ছোট দলের গোলরক্ষককে তো এমন পরীক্ষা দিতেই হবে। এ রকম ম্যাচ কঠিন চ্যালেঞ্জের হলেও নিজেকে চেনানোর সুযোগও বটে।

কাতারের শক্তির মূল উৎস দুই উইং, দুই দিক থেকে বক্সে বল ফেলে তারা পুরোটা সময় সন্ত্রস্ত করে রেখেছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে বাঁ দিকে আফিফকে আটকে রাখা বড় কঠিন। তাঁর পায়ে স্কিল আছে, অনায়েসে ড্রিবল করে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁর সঙ্গে আহমেদ আলার চমৎকার বোঝাপড়ায় চাপে পড়ে লাল-সবুজের রক্ষণভাগ। ৩২ মিনিটে এই আফিফের চমৎকার ফ্লিকে ব্যবধান বড় হতে দেননি আনিসুর। কিন্তু মিনিটখানেক বাদে তাঁকে কিছু করার সুযোগ না দিয়ে এই উইঙ্গার দুর্দান্ত এক শটে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে দিয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন কাতারকে। অর্থাৎ ঢাকার ম্যাচের ব্যবধান নিশ্চিত করে ফেলে তারা প্রথমার্ধেই। এর মধ্যে বাংলাদেশ দুইবার বল নিয়ে ছুটেছিল কাতারি পোস্টের দিকে। ২৯ মিনিটে জামালের থ্রু বল ধরে বিশ্বনাথ সেন্টার করলেও মাহবুবুর রহমান বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। আর এই মুভে দোহার স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে উঠেছিল লাল-সবুজের সমর্থনে। ওই দর্শকের জায়গায় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ, স্বাগতিক দর্শকের চেয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দখলে ছিল স্টেডিয়াম।

তারা বড় আশা নিয়ে মাঠে এলেও বাংলাদেশ দল পারেনি তাদের সে রকম কিছু ফিরিয়ে দিতে। বিরতির পর রক্ষণ এলোমেলো হয়ে যায়। আসলে ক্রমাগত চাপের মধ্যে তপু-রিয়াদুল-বিশ্বনাথ-রহমতের মনোযোগ ঠিক রাখাটাও কঠিন বৈকি। তাই ৭২ মিনিটে হাসানকে ফাউলের অপরাধে পেনাল্টি পায় কাতার। পেনাল্টি গোলে শুরু হয় আল মোয়েজের। গত এশিয়ান কাপের সেরা গোলদাতা দেরিতে গোলের খাতা খুললেও ৮০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর দক্ষতা। এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে ওই আফিফের আরেকটি চমৎকার গোলে ব্যবধান বেড়ে হয় ৫-০। দুই ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলে কাতার চরম ফুটবল শিক্ষা দিয়েছে বাংলাদেশকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা