kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কাতারে কঠিন পরীক্ষা বাংলাদেশ রক্ষণের

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাতারে কঠিন পরীক্ষা বাংলাদেশ রক্ষণের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচের স্কোরলাইন কখনো কখনো আপনাকে ধন্দে ফেলে দেবে। যেমন—আগের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-০ গোলে হার, সেখানে ম্যাচ ভেন্যু ও কন্ডিশন সবই থাকে উহ্য। এমনকি দুই দলের শক্তিরও প্রকৃত প্রকাশ থাকে না। সেই স্কোরলাইন দেখে আগামীকাল দোহার ম্যাচকে মেলাতে গেলে গরমিল হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা। ফুটবলাররাই সেই ম্যাচকে ভালো আন্দাজ করতে পারছেন। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মণের কাছে এই ম্যাচের ট্যাগলাইন ‘কাতারি আক্রমণভাগ বনাম বাংলাদেশি রক্ষণভাগ’। এই কঠিন সত্যকে সামনে রেখে দোহায় লাল-সবুজের ট্রেনিংয়েও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রক্ষণভাগ।

ডিফেন্ডারদের মুহূর্তের ভুলে চড়া মাসুল দিতে হবে। শঙ্কাটা উপলব্ধি করেই তপু বর্মণ বলছেন দলগত রক্ষণের গুরুত্বের কথা, ‘এই ম্যাচে আসল লড়াই হবে কাতারি আক্রমণের বিপক্ষে আমাদের রক্ষণভাগের। শুধু রক্ষণভাগের দিকে চেয়ে থাকলে হবে না, পুরো দল মিলে রক্ষণ করতে হবে। মাঠে আমাদের তিনটি লাইন কখন কিভাবে থাকবে, এ নিয়ে ট্রেনিংয়ে কাজ হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, তারা যেন আমাদের রক্ষণভাগের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করতে না পারে।’ জেমি ডের রক্ষণাত্মক ফুটবলে বাংলাদেশ ভালো মানিয়ে নিয়েছিল, সুনামও হয়েছিল রক্ষণভাগের। কিন্তু করোনা-উত্তরকালে সেই সুনাম কি আগের মতো আছে? নেপালের বিপক্ষে দুই ম্যাচে গোল হজম না করলেও কাতারে ওয়ার্ম আপ ম্যাচ দুটিতে চার গোল হজম করলেও এই স্টপারের দাবি, ‘আমরা চেষ্টা করছি সেই বোঝাপড়া ফিরিয়ে আনতে। ওয়ার্ম আপ ম্যাচে গোল খেলেও রক্ষণভাগে সবাইকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন কোচ। মাঝখানে আমার সঙ্গে কখনো ইয়াসিন, কখনো রিয়াদুল রাফি খেলেছে। ম্যাচ একাদশে কারা খেলবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি, তবে আমাদের ফিটনেস আগের চেয়ে অনেক ভালো এখন।’ দুই ফুলব্যাক রহমত ও বিশ্বনাথের মাঝে তপু খেলবেনই, সঙ্গে ইয়াসিন ও রিয়াদুলের একজন খেলবেন। তাঁদের পেছনে এক নম্বর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা।

শুধু তাঁদের ওপর গোল ঠেকানোর ভার দিয়ে রাখলেই হবে মহা বিপদ। দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া ও মানিকসহ বাকিদেরও নিচে নেমে খেলতে হবে। গত ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কাতারের ম্যাচ দেখে কাতারি আক্রমণভাগ সম্পর্কে ধারণা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের নাগরিকত্ব দিয়ে তৈরি কাতার ফুটবল দল আক্রমণে ও সেটপিসে ভালো। তাই নিজেদের বক্সে ফাউল না করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ কোচ। সঙ্গে প্রথম ২০ মিনিট গোল না খাওয়ার ধারা বজায় রাখার কথা বলেছেন বসুন্ধরা কিংসের তপু, ‘জেমির অধীনে কোনো ম্যাচে বোধ হয় ২০ মিনিটের মধ্যে আমরা গোল খাইনি। এই ধারাটা বজায় রেখে শুরু করতে পারলে সবার মধ্যে সাহস সঞ্চার হবে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখতে পারলে কথাই নেই, উল্টো চাপ তৈরি হবে কাতারিদের ওপর। ম্যাচের অবস্থা সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়াটা হবে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

করোনামুক্ত হয়ে হেড কোচ জেমি ডে-ও গতকাল পৌঁছে গেছেন দোহায়। তাঁর সান্নিধ্যে লাল-সবুজের রক্ষণ আবার প্রাচীর হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারে কাতারকে। চ্যালেঞ্জের জন্য তপু বর্মণ চাইছেন সাহস, ‘কাতার মহা শক্তিশালী, এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন—এসব মাথায় নিয়ে নামলে কিন্তু আমরা কোনো খেলাই খেলতে পারব না। তারা ব্রাজিল-জার্মানি নয় যে আমাদের উড়িয়ে দিতে পারবে। কাতার এশিয়ারই দেশ, আমাদের চেয়ে না হয় একটু ভালো খেলে, কিন্তু তাদের মাটিতে এসে ভারত ড্র করেছে। ভারতের বিপক্ষে আমরা ড্র করেছি কলকাতায়। সুতরাং মনে সাহস নিয়ে লড়তে হবে।’ কাতারে ভারতের ড্রয়ের গর্বেও আছে অসীম সাহসের গল্প আর ভারতীয় গোলরক্ষকের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স। বাংলাদেশের বেলায়ও সে রকম ছাড়িয়ে যাওয়া পারফরম্যান্স লাগবে। ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হবে কাউকে না কাউকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা