kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বেলা ভিস্তায় সশস্ত্র প্রহরা

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেলা ভিস্তায় সশস্ত্র প্রহরা

বেলা ভিস্তায় ঘুমিয়ে আছেন শান্তিতে। তার পরও শঙ্কায় বুয়েনস এইরেসের স্থানীয় প্রশাসন। ডিয়েগো ম্যারাডোনার পাঁড় কোনো ভক্ত না আবার সমাধিস্থল থেকে চুরি করে নিয়ে যায় লাশটা? তাই আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বসিয়েছে পুলিশি পাহারা। ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, ২০০ সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বেলা ভিস্তায়। অন্তত এক সপ্তাহ কঠোর পাহারায় থাকবেন তাঁরা।

১৯৮৭ সালে আর্জেন্টাইন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল দেশটিতে। তাঁর শেষ যাত্রায় মাতম শুরু করেছিল ভক্তরা। এরপর সমাধি ভেঙে তাঁর মরদেহ চুরি করেছিল কিছু অন্ধ ভক্ত। ম্যারাডোনার শেষ যাত্রাতেও ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। বেলা ভিস্তার বাইরে ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এখনো আসছেন শত শত ভক্ত। তাই হুয়ান পেরনের মরদেহ চুরির মতো কোনো কিছুর পুনরাবৃত্তি এড়াতেই সতর্ক আর্জেন্টাইন সরকার।

এদিকে ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনায়। তাতে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব খবর। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে তিগ্রের বাড়িতে নাকি পড়ে গিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি। অথচ তাঁকে সাহায্য করার মতো ছিল না কেউ। এভাবে টানা তিন দিন অসহায়ভাবে থাকার কথা স্বীকার করেছেন ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত নার্স জিসেলা মাদ্রিদের আইনজীবী রোদলফো বাক, ‘তিনি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন মাথায়। কিন্তু ওরা কেউ তাঁকে হাসপাতালে নেয়নি এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের জন্য। ম্যারাডোনা কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছিলেন না। পড়ে যাওয়ার পর নিজের রুমে তিন দিন অসহায় অবস্থায় ছিলেন তিনি। কেউ তাঁর খোঁজ করেনি, সাহায্যও পাননি কারো।’

মস্তিষ্কের বাঁ দিকে জমাট রক্ত অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছিল ম্যারাডোনার। পড়ে গিয়ে মাথার ডান দিকে ব্যথা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রদলফোর। ম্যারাডোনার সাবেক বান্ধবী ভেরোনিকা ওজেদার আইনজীবী মারিও বাদ্রি এনেছেন আরেকটা অভিযোগ, ‘ম্যারাডোনার মৃত্যুটা এড়ানো যেত। তাঁকে তিগ্রের যে ছোট্ট বাড়িতে রাখা হয়েছিল সেটা প্রস্তুত হয়নি ঠিকঠাক। এমনকি ম্যারাডোনার ঘরের সঙ্গে কোনো বাথরুমও ছিল না। তিনি হার্টের রোগী হলেও সেরকম কোনো ওষুধ দেখিনি আমরা।’

তদন্তকারী দল এরই মধ্যে তল্লাশি চালিয়েছে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত ডাক্তার লোরেনজো লুকের বাড়িতে। তিনি অবশ্য অস্বীকার করেছেন অবহেলার সব রকম অভিযোগ, ‘এটা হত্যা নয়। ওকে আমি ভালোবেসেছি, সেবা করেছি, দীর্ঘজীবী হতে সাহায্য করেছি—এটাই কি আমার অপরাধ? বন্ধু ম্যারাডোনার জন্য যা করেছি, তাতে আমি গর্বিত। ওর মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু ম্যারাডোনা সেটা চায়নি।’ চিকিৎসক লুকের পাশে দাঁড়িয়েছেন ম্যারাডোনার আইনজীবী মাতিয়াস মোরলাও, ‘লুকে, তুমি অনেক ঘাম, রক্ত আর অশ্রু ঝরিয়েছ। ডিয়েগো তোমাকে ভালোবাসত। তোমাকে কোনোভাবে একা ছাড়তে পারি না আমি।’ ওলে, ডেইলি মেইল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা