kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সেই জার্সিটা ছিল ম্যারাডোনারই

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেই জার্সিটা ছিল ম্যারাডোনারই

ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা কতটা লুকিয়ে ছিল অন্তরে, ভালোভাবেই বোঝালেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার হয়ে গোলের পর খুলে ফেলেছিলেন জার্সি। এর নিচে পরা ছিল ১৯৯৩ সালে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের আরেকটি জার্সি। এরপর শূন্যে দুই হাত তুলে প্রয়াত ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেন গোলটি।

মেসির সেই জার্সি মোটেও নব্বইয়ের দশকের নিউয়েলসের রেপ্লিকা নয়। বরং খোদ ম্যারাডোনা এই ক্লাবে যে জার্সি পরে খেলেছেন তারই একটি পরে এসেছিলেন মাঠে! কিভাবে মেসির কাছে এলো ১৯৯৩ সালে ম্যারাডোনার পরা জার্সিটা? এই গল্পের নায়ক লাইন জাজ বা সহকারী রেফারি সের্হিয়ো ফার্নান্দেস। জার্সি সংগ্রহও তাঁর নেশা। নিউয়েলসে খেলার সময় ম্যারাডোনার কাছ থেকে একটি জার্সি চেয়ে নিয়েছিলেন ফার্নান্দেস। মেসি তারকা হওয়ার পর দুইবার চেষ্টা করেছিলেন মূল্যবান স্মারকটি তাঁকে উপহার দিতে; কিন্তু সফল হননি।

তৃতীয়বার রাশিয়া বিশ্বকাপের ঠিক আগে দেখা পেয়ে যান মেসির। কাকতালীয়ভাবে সেদিনই পৃথিবীতে এসেছিল মেসির তৃতীয় সন্তান। ম্যারাডোনার জার্সিটা উপহার পেয়ে মেসি তুলে রাখেন তাঁর বিশাল জাদুঘরে। ২৭ বছর আগের সেই জার্সিতে মেসি অভিনবভাবেই শ্রদ্ধা জানালেন ম্যারাডোনাকে। ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের বিস্ময়, ‘কী সুন্দর পুরো ব্যাপারটি। অথচ আমরা ম্যাচের আগে জানতাম না কিছুই।’

শুধু কি তাই, মেসির গোলটিও ছিল ১৯৯৩-এর ৭ অক্টোবর নিউয়েলসের হয়ে অভিষেকে ম্যারাডোনার গোলের মতো। ইকুয়েডরের ক্লাব এমেলেকের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিতে ৬৭ মিনিটে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে ডি বক্সের ডান দিকের মাথা থেকে দারুণ শটে গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা। নিউয়েলস জেতে ১-০ ব্যবধানে। মেসিও গোলটি করেন প্রায় একইভাবে। গোলের পর ম্যারাডোনা যেভাবে উদযাপন করেছিলেন শূন্যে দুই হাত উঁচিয়ে, মেসিও তা-ই! নিজের আদর্শকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন একেবারে তাঁর মতো করেই।

নিউয়েলসের হয়ে ম্যারাডোনার অভিষেকের সেই ম্যাচে বাবা হোর্হের হাত ধরে মাঠে এসেছিলেন মেসি। গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জোনাথন উইলসন জানিয়েছিলেন, বল নিয়ে কারিকুরি করতেই নাকি সেদিন মাঠে আনা হয়েছিল মেসিকে। এ নিয়ে তিনি টিওয়াইসি স্পোর্টসকে জানিয়েছিলেন, ‘সব কিছু মনে নেই। তবে ম্যারাডোনাকে অভিষেকের দিন খেলতে দেখেছিলাম।’

মনে না থাকা স্মৃতিটা ২৭ বছর পর কী অসাধারণভাবেই না ফিরিয়ে আনলেন মেসি। ওলে

মন্তব্য