kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দোহায় লড়াইয়ের সঙ্গে শঙ্কাও আছে

কাতারে গত চার মাস ধরে চলছে ঘরোয়া ফুটবল। আমাদের ঘরোয়া ফুটবল শুরুই হয়নি। তাতে করে আগের জায়গা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে, ওরা তাদের নিজেদের সেরা জায়গাটা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। আশরাফুল রানা

সনৎ বাবলা   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দোহায় লড়াইয়ের সঙ্গে শঙ্কাও আছে

এক বছর আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সেই বাস্তবতা এখন নেই। কাতার আর বাংলাদেশ ফুটবলের মধ্যে যোজন যোজন ব্যবধান। সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে লড়াইয়ের কথা বলা হলেও বাংলাদেশ শিবিরে শঙ্কার ওড়াউড়ি, ৪ ডিসেম্বর দোহায় যেন ভয়ংকর কিছু না ঘটে!

কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো ফল ১৯৭৯ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে গোলশূন্য ড্র। সেই সমান-সমান লড়াইয়ে দিন কবেই শেষ হয়ে গেছে! এখনকার বাস্তবতায় ভালো ফল নির্ধারিত হয় হারের ন্যূনতম গোল ব্যবধানে। হারেও দেখা হয় সম্মান! এই হিসাবে দ্বিতীয় ভালো ফল গত বছর অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঢাকায় কাতারের কাছে বাংলাদেশের ২-০ গোলে হার। এক বছর বাদে দোহায় ফিরতি ম্যাচের দিন তিনেক আগে গোলরক্ষক আশরাফুল রানা দেখছেন দুই দলের বিস্তর ফারাক, ‘এই মুহূর্তে দুই দলের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য আছে। কাতারে গত চার মাস ধরে চলছে ঘরোয়া ফুটবল। আমাদের ঘরোয়া ফুটবল শুরুই হয়নি, গত মাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা শুরু করেছি। তাতে করে আগের জায়গা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে, ওরা তাদের নিজেদের সেরা জায়গাটা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। মুখে আমরা যত বড় স্বপ্নের কথা বলি, বাস্তবে খুব কঠিন এক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি।’

এমনিতে গুণে-মানে দুই দলের ব্যাপক পার্থক্য। সৌভাগ্য যে, গত বছর অক্টোবরে ঢাকায় বৃষ্টিভেজা মাঠে কাতার সেই পার্থক্যটা ফুটিয়ে তুলতে পারেনি স্কোরলাইনে। ২-০ গোলে হারা ম্যাচে বাংলাদেশ গোলের কয়েকটি চমৎকার সুযোগও তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই ম্যাচ দিয়ে আগামী ম্যাচের বড় প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলতে চান না বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক, ‘দেশে নেপালের সঙ্গে দুটি ম্যাচ আর এখানে দুটি ম্যাচ খেলেছি। সবগুলোই আসলে প্র্যাকটিস ম্যাচ। খেলতে গিয়ে আমরা খেলোয়াড়রা নিজেদের সমস্যাগুলো বুঝতে পারছি। আগের সেই বোঝাপাড়া এবং টিম কম্বিনেশন এখনো ফেরেনি দলে। এখানে দুটি ম্যাচে আমরা ভুল-ভ্রান্তি করেছি এবং এগুলো নিয়ে কাজ করছেন কোচ। লক্ষ্য হলো, ভুল যত কম করা যায়।’ ভুল কমানোর জন্য কোচরা ট্রেনিং মাঠে অনেক কাজ করছেন। কাতার দলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করে ট্যাকটিকস ঠিক করা হবে, সেই ট্যাকটিক্যাল ট্রেনিং শুরু হবে আজ থেকে।

সেই ট্রেনিংয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকবে গোল না খাওয়ার চিন্তা। আশরাফুল রানা নিজেই বলছেন তাঁরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, বাংলাদেশ কাউন্টার অ্যাটাক-নির্ভর ফুটবল খেলবে। আমাদের গোলরক্ষক ও রক্ষণের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে কাতার ম্যাচে। রক্ষণ সংগঠন ঠিক না হলে বড় বিপদ হয়ে যাবে। ওদের জায়গা না দেওয়া এবং ব্লকগুলো ঠিকমতো করা না গেলে বড় বিপদ হয়ে যাবে। তাদের সেই মানের অ্যাটাকার আছে। তাই আমাদের ওপরের খেলোয়াড়দেরও নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করতে হবে।’ জেমি ডে’র অধীনে বাংলাদেশ কোনো ট্রফি না জিতলেও বড় উন্নতির জায়গা হলো রক্ষণভাগ। তপু-ইয়াসিন-বিশ্বনাথদের নিয়ে গড়া রক্ষণভাগের বেশ সুনাম। সুবাদে বড় দলেরও বাংলাদেশের জালে বল পাঠানো কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু করোনাকালের ফুটবলে বাংলাদেশ সেই শক্তি এখনো ফেরত পায়নি। কাতারে দুটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলে হজম করেছে চার গোল। এ জন্য ভয়টাও বেশি, ভয়ংকর বাজে ফল না হয়ে যায়।

এদিকে করোনা আক্রান্ত কোচ জেমি ডে-র অনুপস্থিতিতেও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ দল। আশরাফুল রানা-মামুনুল ইসলামের মনেও খুঁতখুঁত আছে, ‘এখনকার কোচিং স্টাফরাও ভালো, তার পরও দলে জেমির উপস্থিতি অবশ্যই অনুপ্রেরণা। আমাদের সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা আছে।’ বড় ম্যাচের আগে অনুপ্রাণিত হতে হেড কোচকে পাশে চাইছেন ফুটবলাররা।

মন্তব্য