kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৯০ মিলিয়ন ডলারের উত্তরাধিকার

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৯০ মিলিয়ন ডলারের উত্তরাধিকার

বোকা জুনিয়র্স থেকে তখনকার বিশ্বরেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে এসেছিলেন বার্সেলোনায়। কাতালান ক্লাবটি থেকে নাপোলিতেও গেছেন নতুন রেকর্ড গড়ে। ক্যারিয়ারজুড়ে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক, স্পন্সরশিপ, নানা স্বত্ব মিলিয়ে কম উপার্জন করেননি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বর্ণিল জীবনাচরণে খরচও করেছেন লাগামহীন। এর পরও মৃত্যুর আগে রেখে গেছেন মোটা অঙ্কের টাকা ও সম্পত্তি।

ব্যাংক হিসাব, নানা স্বত্বের চুক্তি, স্মারক ও সম্পত্তি মিলিয়ে অঙ্কটা প্রায় ৯০ মিলিয়ন বা ৯ কোটি ডলার। স্বাভাবিকভাবে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন হবে এসব। কিন্তু ম্যারাডোনার ছেলে-মেয়ে আসলে কতজন? তিনি নিজে স্বীকৃতি দিয়েছেন পাঁচ সন্তানের। পাশাপাশি ম্যারাডোনার সন্তান হওয়ার দাবিদার আরো ছয়জন! তাদেরই একজন মজা করে বলেছিলেন, ‘সন্তানদের দিয়ে ফুটবল একাদশ গড়তে পারবেন বাবা।’ সেই সন্তান মজা করলেও তাঁদের কারণে আগামীতে ব্যাপক ঝামেলায় পড়তে চলেছেন ম্যারাডোনার আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা। এ নিয়ে ম্যারাডোনার পরিবারের একজন নাম উল্লেখ না করার শর্তে এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘সামনে বড় ধরনের লড়াই হতে চলেছে। কারণ সম্পত্তির কোনো দলিল করে যাননি ম্যারাডোনা।’

গত বছর পরিবারের সদস্যদের ওপর বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন ম্যারাডোনা। রেগে গিয়ে সব সম্পত্তি দানও করতে চেয়েছিলেন তিনি, ‘জানি, আমি এখন বুড়ো হচ্ছি। আমি পরিবারের জন্য কী করেছি, এটা মনে না রেখে সবাই হিসাব করবে ওদের জন্য কী রেখে যাচ্ছি। ওদের বলে দিয়েছি, এক কানাকড়িও দেব না কাউকে। সব দান করে যাব কোনো দাতব্য সংস্থায়।’ তবে আর্জেন্টিনার আইন অনুযায়ী, চাইলেই সব কিছু দান করা যায় না। অন্তত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ রাখতে হয় উত্তরাধিকারীদের জন্য। ম্যারাডোনা নিজেই স্বীকৃতি দিয়েছেন পাঁচ সন্তানের। এই পাঁচজন নিশ্চিতভাবে পাবেন সম্পত্তির বড় অংশ।

১৫ বছর বয়স থেকে ক্লাউদিয়া ভিলাফেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ম্যারাডোনা। এই কিংবদন্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন শুধু তাঁকেই। দালমা ও জিয়ানিনা নামের দুই মেয়ে আছে তাঁদের। ভিলাফেনের সঙ্গে ২০০৩ সালে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ম্যারাডোনার। এরপর আরো তিন সন্তানের স্বীকৃতি দিয়েছেন ম্যারাডোনা। এর একজন ইতালিয়ান বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ক্রিস্তিয়ানা সিনাগ্রার ছেলে ডিয়েগো জুনিয়র। দালমার জন্মের কিছুদিন আগে পৃথিবীর মুখ দেখলেও ডিয়েগো জুনিয়রকে ২৯ বছর পর স্বীকৃতি দেন ম্যারাডোনা। এরপর বান্ধবী ভেলেরিয়া সাবালাইনের সন্তান জানাকে নিজের বলে মেনে নেন তিনি। জানার জন্ম ১৯৯৬ সালে। ২০১৩ সালে পৃথিবীতে আসে সাবেক আরেক বান্ধবী ভেরোনিকা ওজেদার ছেলে ডিয়েগো ওজেদা।

এই পাঁচজনের বাইরে ম্যারাডোনার সন্তান দাবিদার আরো ছয়জন। তাদের তিনজনই কিউবান বলে জানান ম্যারাডোনার আইনজীবী মোরলা। সম্পত্তির ভাগ তাঁরা ছাড়তে চাইবে না নিশ্চিতভাবে।

এদিকে ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য তাঁর আইনজীবী মোরলা দায়ী করেছিলেন লা প্লাতা আইপেনসো ক্লিনিককে। এই ক্লিনিক থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে চলছিল চিকিৎসা। তবে মৃত্যুর আগে ১২ ঘণ্টা পাননি কোনো চিকিৎসকের সেবা। হার্ট অ্যাটাকের পর অ্যাম্বুল্যান্সও ৩০ মিনিট দেরিতে এসেছিল বলে দাবি তাঁর। এ ছাড়া বাড়িতে মারা যাওয়ার পর মৃত্যু সনদে কেউ স্বাক্ষর না করায় বাড়ছে সন্দেহও। তাই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনায়। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজের ছবি আর চিকিৎসার সব নথি। মার্কা

মন্তব্য