kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রান-উইকেটের খোঁজে সাকিব

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রান-উইকেটের খোঁজে সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেটে তাঁকে ব্যাটিং করতে দেখে কারোরই মনে হয়নি যে এক বছর ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন সাকিব আল হাসান। তাই মাঠে নেমেই এই অলরাউন্ডারের ঝলসে ওঠার সম্ভাবনায় সবাই এতটাই বিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন যে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ শুরুর আগের দিনও জেমকন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমি বিশ্বাস করি, ও প্রথম ম্যাচেই নিজেকে মেলে ধরতে পারবে।’

সাকিবের নিজেকে চেনা চেহারায় মেলে ধরা নিয়ে যে ‘মিথ’, সেটি তিন ম্যাচ শেষে ভেঙে চুরমার একরকম। ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে করেছিলেন ১৫ রান। সেদিন ১৮ রানে ১ উইকেট পেলেও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর সঙ্গে পরের ম্যাচে ২৭ রান খরচায় শিকারশূন্য। রানও করেছিলেন ৯ বলে ১২। ভাগ্য বদলাতেই কিনা কাল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ম্যাচে সবাইকে চমকে দিয়ে ওপেনার হিসেবে নেমে গেলেন আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ এই অলরাউন্ডার।

তাতে না বদলাল তাঁর নিজের ভাগ্য, না খুলনার! টি-টোয়েন্টিতে ৫ হাজার রান ও ৩৫০ উইকেটের ‘ডাবল’ অর্জনে এদিন মাত্র ৩ রান দরকার ছিল সাকিবের। ৩ রানেই অফস্পিনার নাহিদুল ইসলামকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেওয়ার আগে অন্য ওপেনার এনামুল হকের রান আউটেও দায় ছিল তাঁর। ব্যাট হাতে তাঁর রান যেমন কমছে, তেমনি খুলনারও। প্রথম ম্যাচে শেষ ওভারে আরিফুল হকের মারা চার ছক্কায় হারা ম্যাচ জিতে যাওয়া খুলনার অবনমনও চলছেই। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর টেনেটুনে প্রায় দেড় শ করলেও কাল মাহমুদের দলের ব্যাটসম্যানরা পূর্ণ করলেন ব্যর্থতার ষোলোকলা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকাকে মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে দেওয়া চট্টগ্রাম কাল খুলনাকে গুঁড়িয়ে দিল আরো কম, ৮৬ রানে। এই রান তাড়ায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটের অনায়াস জয়ে রীতিমতো উড়ছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। বোলার ব্যবহার থেকে শুরু করে ফিল্ডিং পরিবর্তন, সব কিছুতে দারুণ নেতা হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া তাঁকে ব্যাটিংয়ের পরীক্ষায় অবশ্য এখনো নামতেই হয়নি। আগের ম্যাচের মতো এবারও ৩৮ বল বাকি থাকতে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ২৬ রান করে আউট হয়ে গেলেও লিটন (৫৩*) অপরাজিত ছিলেন ফিফটি করে।

প্রতিপক্ষকে অল্পতেই বেঁধে ফেলে দারুণ বোলিংয়ে জয়ের ভিত গড়েছেন আসলে মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসার ৩.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান খরচে নিয়েছেন ৪ উইকেট। নতুন বলে শুরু করা অফস্পিনার নাহিদুল ইসলামও ৪ ওভারের টানা স্পেলে ১৫ রানে দুই শিকার ধরে চাপ বাড়িয়েছেন খুলনার ওপর। তাঁর শিকারও খুলনার দুই বড় তারকা সাকিব ও মাহমুদ (১)। অবশ্য প্রতিপক্ষকে চড়ে বসতে দেওয়ায় খুলনার ব্যাটসম্যানদেরও দায় কম নয়। তাই হারের বৃত্তেও ঢুকে পড়তে হলো। ভাঙল সাকিবকে নিয়ে মিথও। তাতে প্রত্যাশার চাপও কমে গেল অনেকটাই। এবার যদি ছন্দে ফেরেন সাকিব!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জেমকন খুলনা : ১৭.৫ ওভারে ৮৬ (ইমরুল ২১, আরিফুল ১৫, জহুরুল ১৪, শামীম ১১; মুস্তাফিজ ৪/৫, নাহিদুল ২/১৫, তাইজুল ২/৩০)।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম : ১৩.৪ ওভারে ৮৭/১ (লিটন ৫৩*, সৌম্য ২৬, মমিনুল ৫*; মাহমুদ ১/১৬)।

ফল : চট্টগ্রাম ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : মুস্তাফিজুর রহমান (চট্টগ্রাম)।

মন্তব্য