kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ম্যারাডোনাকে দেখেই বদলে গিয়েছিলাম

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমি উইংয়ে খেলতাম। ডিয়েগো ম্যারাডোনাকেই প্রথম দেখলাম, যাঁর আসলে কোনো পজিশন ছিল না। যেখানে বল সেখানেই দেখতাম তাঁকে। পুরো মাঠে একরকম একাই রাজত্ব করতেন। বল কাড়তেন, পাস দিতেন, সেই বলের গন্তব্য কোথায় হবে তাও ঠিক করে দিতেন, গোল করাতেন, করতেন... ম্যারাডোনা সব করতেন অবলীলায়। কিন্তু ভীষণ কঠিন কাজ ছিল সেটা।

আমিও উইং ছেড়ে যখন এই স্বাধীন ম্যারাডোনা হতে চাইলাম, বুঝেছি কতটা পরিশ্রম, দম, স্কিল, ভিশন, কন্ট্রোল, কনফিডেন্স প্রয়োজন হয় তাতে। কিছুটা হয়তো পেরেছিও। আর আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর প্রদত্ত কিছু গুণ আমারও ছিল। মনে আছে ’৮৮ কি ’৮৯-এর দিকেই সমর্থক, সাংবাদিকরা আমাকেও ম্যারাডোনা ডাকা শুরু করল। সে এক অনির্বচনীয় আনন্দের অনুভূতি। যে ফুটবলারে তখন সারা বিশ্ব বুঁদ, আমার কাছেও স্বপ্নের তারকা, তাঁর সঙ্গে তুলনায় আমি ভীষণ আপ্লুত ছিলাম। কখনো ম্যারাডোনাকে সামনাসামনি দেখা হয়নি। মাঠে বসে তাঁর খেলা দেখিনি। সঙ্গোপনে থাকা সেই ইচ্ছাটা প্রকাশ করা হয়নি, কখনো সুযোগও হয়নি। আর আমাদের দেশে যোগ্যতমকে জায়গা করে দেওয়ার রেওয়াজ কখনো তো ছিল না, তাই জিনেদিন জিদান যখন এলো আমাকে ডাকেনি কেউ, লিওনেল মেসি আসার পরও না। ম্যারাডোনা এলেও বাংলার ম্যারাডোনা হিসেবেই আমি তাঁর সামনে যেতে চাইতাম, জানি না সেই সুযোগ হতো কি না।

মৃত্যু তো অমোঘ। ৬০ পেরোলেও সেই হাতছানি শুরু হয় বেশি করে। ম্যারাডোনা চলে গেছেন, চলে যেতেন। তবে ফুটবল মাঠে তিনি যা দিয়ে গেছেন এরপর তাঁর এই মর্ত্যে থাকা না থাকাটা সমান। অবশ্যই আমরা তাঁকে মিস করব। কারণ মাঠের বাইরেও ভীষণ আলোচিত এক চরিত্র ছিলেন। যেখানেই যেতেন, সেখানেই খবর হতেন। আর প্রতিবাদী ছিলেন, মনে যা আসতেন রাখঢাক রাখতেন না। সেই ম্যারাডোনাকে তো মিস করবই। কিন্তু ফুটবলে জাদুকরী অক্ষয় হয়ে গেছে ’৮২, ’৮৬, ’৯০-এর বিশ্বকাপজুড়ে। ’৮২-র বিশ্বকাপে যখন এলেন তার আগেই বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ মুঠোয় পুরেছেন। ঐ বিশ্বকাপে তরুণ ম্যারাডোনাকে ভীষণ মারা হলো, একের পর এক ফাউলে ধৈর্য হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিপক্ষে ওই লাল কার্ড। এরপর ’৮৬-র ম্যারাডোনাকে দেখলাম। তার পরের বছরই মোহামেডানের জার্সি গায়ে জড়াই আমি। তখন ফুটবল বিশ্ব ম্যারাডোনাময়। তাঁর প্রভাব আমাদের ওপর না পড়াটাই হতো বিস্ময়কর।

বলের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ দেখে একজন ফুটবলার হিসেবে তাঁর প্রেমে না পড়ার কোনো কারণ ছিল না। আমি অন্তত ম্যারাডোনাই হতে চেয়েছি। ওয়াসিম ভাই যেমন উইংয়ে খেলতেন, চুন্নু ভাই ছিলেন উইঙ্গার। তাঁরা তাঁদের ক্যারিয়ারটা শেষ করেছেন সেই উইঙ্গার হিসেবেই। কিন্তু আমি বদলে গিয়েছিলাম ম্যারাডোনাকে দেখে। হয়ে উঠেছিলাম মিডফিল্ডার সাব্বির।

মন্তব্য