kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অন্যদের চেয়ে আলাদা

সাইদুজ্জামান   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্যদের চেয়ে আলাদা

ইমিগ্রেশনে ভিড় নেই অত। তবু অভিবাসন কর্মকর্তা দুই চায়নিজ তরুণীকে নিয়ে ব্যস্ত। তারা সরে যাওয়ার পর আমি পাসপোর্ট যখন দিই তখনো কর্মকর্তাটির চোখেমুখে বিরক্তি! আমার পাসপোর্ট হাতে নিয়ে তিনি এবার স্তব্ধ, ‘বাংলাদেশ থেকে! কেন?’ কারণ শুনে তাঁর আকর্ণ হাসি, ‘দূর, ও তো থাকে স্পেনে। তুমি ম্যারাডোনার ক্লাবটা দেখে যেও।’

খাতির জমিয়ে জানলাম চীনাদের ওপর মহাখাপ্পা আর্জেন্টাইনরা। শুধু যে ব্যবসা কিনে নিচ্ছে তা না, ওরা নাকি বস্তা ভরা নকল পেসো (আর্জেন্টাইন মুদ্রা) এনে দেশটার অর্থনীতি শেষ করে দিচ্ছে! সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে আর্জেন্টিনায় এক সপ্তাহ ঘুরে জেনেছি, এ দেশ ডিয়েগো ম্যারাডোনার। বুয়েনস এইরেসে তেভেজ, হুয়ান রিকুয়েলমে এমনকি টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করার কারণে আলোচিত মার্টিন পালেরমোও বেশি জনপ্রিয়।

আগস্টের হিমধরা ঠাণ্ডা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। মেসির শহর রোসারিওর বাস ধরব এক দিন পরে। তাই মাঝের দিনটায় ট্যাক্সি ধরে চলে যাই বোকা জুনিয়র্স ক্লাবে। উন্নত দেশের মতো যথারীতি সেখানেও গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা আছে। স্প্যানিশ আর পর্তুগিজ ভাষার গাইডকে বাড়তি কষ্ট করতে হলো শুধু আমার জন্য। ইংরেজিতে তরজমা করতে হলো যে! তো, দর্শনার্থীদের ভিড়ে দেখি ব্রাজিলিয়ান পর্যটকের সংখ্যাই বেশি। তাদের আগ্রহও আমার মতো, ম্যারাডোনার ক্লাব দেখা। ছবির মতো মাঠ আর সাজানো-গোছানো প্লেয়ার্স লাউঞ্জ দেখে অবাক লেগেছিল, এটা যদি প্রলেতারিয়েতদের ক্লাব হয় তবে না জানি বনেদিদের রিভার প্লেট কতটা বাহারি! গাইড ভাঙা রেকর্ডের মতো বর্ণনা দিয়ে চলেছে আর আমি আনমনে ডাগআউট, বোকার ট্রেডমার্ক কালার নীল-হলুদে সাজানো গ্যালারি দেখি। গাইডের কথাতেই আচমকা চমকে ওঠার মতো একটা কাচে ঢাকা বক্সে নজর আটকে গেল, ‘ওটা ম্যারাডোনার জন্য বরাদ্দ।’ ১০ জনের করপোরেট বক্স। মৌসুমে ১০ হাজার ডলার ফি। তবে গাইড ফিসফিসিয়ে জানাল, ‘ম্যারাডোনাকে ওসব দিতে হয় না।’ আজকাল খুব একটা আসেন না, তাই ফাঁকাই থাকে। আর এলে বন্ধুবান্ধব নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে খেলা দেখেন।

সেসময়টায় ম্যারাডোনা দেশের বাইরে। তবে তাঁর ঠিকই দেখা মেলে বোকায় গেলে। স্টেডিয়াম এরিয়ার ভেতরে স্যুভেনির শপের দরজাতেই যে বসে ফুটবল ঈশ্বর! অবশ্য তিনি একা নন, বেঞ্চে হাস্যোজ্জ্বল মেসির পাশে হুয়ান রিকুয়েলমে। দুপাশে দাঁড়িয়ে তেভেজ ও মার্টিন পালেরমো। এঁরা সবাই বোকার অলটাইম গ্রেট। তবে পর্যটকের কাছে ফুটবল গ্রেট তো একজনই, নাম না বললেও চলে! তাইতো তেভেজ আর পালেরমোকে আড়াল করে ফ্রেমবন্দিও হলেন দুই ব্রাজিলিয়ান তরুণ।

মন্তব্য