kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

হারানোর হাহাকার অন্য অঙ্গনেও

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হারানোর হাহাকার অন্য অঙ্গনেও

ক্রিকেট মাঠেও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফক্স স্পোর্টসের সাংবাদিক জ্যাক অস্টিন লিখেছেন, ‘ম্যারাডোনাকে নিয়ে সবারই কোনো না কোনো গল্প আছে।’ সত্যিই তাই। তাঁর সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ হোক বা না হোক, আর্জেন্টাইন এই ফুটবল ঈশ্বর অন্য রকম এক আকর্ষণে টেনেছেন বিশ্বজুড়ে সব অঙ্গনের মানুষকেই। নিষিদ্ধ মাদকের কাছে নিজেকে বারবার সঁপে দেওয়া মানুষটিই অদ্ভুত মাদকতায় আবিষ্ট করে গেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।

বাঁ পায়ের ফুটবল জাদু দিয়ে যুগ থেকে যুগান্তরে নিজের চিহ্ন এমন ছড়িয়েছেন যে রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিক থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খেটে খাওয়া মজুর পর্যন্ত বিস্তৃত ম্যারাডোনা ভক্তি। তাঁর প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই শোকের মাতম উঠেছে। ব্যথিত হৃদয়ের দুয়ার খুলে দিয়েছেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবাই। উসাইন বোল্ট-মাইক টাইসন-রাফায়েল নাদাল থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকার-সৌরভ গাঙ্গুলি হয়ে বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মর্তুজা-সাকিব আল হাসান, বাদ যাননি কেউই। এঁদের মধ্যে প্রথম তিনজনেরই দেখা হয়েছে ম্যারাডোনার সঙ্গে। সেই ছবি দিয়ে ওপারের জীবনে কিংবদন্তি ম্যারাডোনার শান্তি কামনা করেছেন বোল্ট। নিজের জীবনের একজন ‘হিরো’ মনে করে এসেছেন যাঁকে, সেই ম্যারাডোনাকে কোলে তুলে নেওয়ার ছবি দিয়েছেন বক্সিং কিংবদন্তি টাইসন। ম্যারাডোনার সঙ্গে দেখা হওয়ার ভিডিও শেয়ার করে রাফায়েল নাদাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ করে ফুটবলে শূন্যতা তৈরি হলো। ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা অ্যাথলেট। আমরা আপনাকে কখনো ভুলব না।’ ২০১৭ সালে তাঁর কলকাতা সফরে ম্যারাডোনার সঙ্গে চ্যারিটি ম্যাচ খেলা সৌরভ গাঙ্গুলি লিখেছেন, ‘আমার হিরো আর নেই। সর্বকালের সেরা। আপনার জন্যই ফুটবল দেখেছি এবং ফুটবলকে ভালোবেসেছি।’

ফুটবল দেখতে শুরু করার পর শুধুই ম্যারাডোনাতে বুঁদ হয়ে থাকার স্মৃতিই তুলে ধরেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারাও, ‘আশির দশকে ফুটবল দেখতে দেখতে বড় হয়ে উঠেছি আমি। এবং সেই সময়ে কেবল একজনই ছিলেন, যিনি আমাকে সম্মোহিত করে রাখতেন। তিনিই সর্বকালের সেরা ডিয়েগো ম্যারাডোনা।’ ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোরও দুই বছর পর জন্ম ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির। বোধবুদ্ধি হওয়ার আগেই ফুটবল ছেড়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। তবু তাঁকে নিয়ে দেখা ডকুমেন্টারি এখনো আচ্ছন্ন করে রেখেছে কোহলিকে, ‘ওনাকে নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখেই বুঝেছি কী এক সম্মোহনী ক্ষমতা ওনার। বিউটিফুল গেম ফুটবল খেলার ধারাই বদলে দিয়েছিলেন তিনি।’ ম্যারাডোনা-কাব্যে পিছিয়ে ছিলেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। দেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা যেমন নিজ চোখে একটিবার ম্যারাডোনাকে দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপও করেছেন, ‘তোমার থেকে বড় সুপারস্টার আমার চোখে আর কেউ ছিল না, আর আসবেও না। ব্যক্তিজীবনে তুমি আমার একমাত্র সুপারস্টার ছিলে, যাঁকে আমি একটিবার হলেও সামনাসামনি দেখতে চেয়েছিলাম। তোমার বাঁ পায়ে আঁকা নিখুঁত গোলের ছবিগুলো আজীবন মনের ক্যানভাসে থেকে যাবে। ওপারে ভালো থেকো জাদুকর, দ্য ড্রিবলিং মাস্টার।’ ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘এমন কিছু খেলোয়াড় থাকেন, যাঁরা সব প্রজন্মের আইকন। যাঁরা খেলাটির পরিচয় হয়ে ওঠেন। ম্যারাডোনা তেমনই একজন। যিনি ফুটবল খেলাটির সঙ্গেই একাত্ম হয়ে গেছেন।’

মন্তব্য