kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাত ১২টায় দৌড়াতেন আরিফুল

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাত ১২টায় দৌড়াতেন আরিফুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অদ্ভুত এক শূন্যতাবোধই তৈরি হয়েছিল তাঁর মধ্যে। ঠিক কখন? আরিফুল হকের নিজের মুখেই শোনা যাক সবিস্তারে, ‘জাতীয় দলের বাইরে গেলেই আর সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। ইনডোরে গেলে বের করে দেয়, ঢুকতে দেয় না। (বোলিং) মেশিন ব্যবহার করতে দেয় না। তখন হঠাৎ করেই যেন চারদিকটা শূন্য হয়ে যায়।’

শূন্য পৃথিবী ফিরে আসার চ্যালেঞ্জও বাড়িয়ে দেয় আরো, ‘একবার বাদ পড়ে গেলে আপনাকে ফিরে আসার লড়াইটি করতে হয় জাতীয় দল এবং এইচপির (হাই পারফরম্যান্স) খেলোয়াড়দের সঙ্গে। যারা সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই থাকে। আমার মতো খেলোয়াড়রা তা না পেলেও আমাদের কাছেই কিন্তু পারফরম্যান্স খোঁজা হয়। আমাদের কাছেই ফিটনেসে ১১ স্কোর চাওয়া হয়।’

এই যখন বাস্তবতা, তখন ফিরে আসার লড়াইয়ে অন্য পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয় আরিফুলকে। খুলনা টাইটান্সের হয়ে বিপিএল খেলেই তাঁর উত্থান। ওই দলের হয়ে পারফরম্যান্সের সূত্র ধরেই ২০১৮ সাল তাঁর জন্য ছিল স্বপ্নপূরণের বছর। জাতীয় দলের হয়ে একাধারে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি, সব খেলে ফেলেন ওই বছরই। কিন্তু এরপরই দৃশ্যপট থেকে উধাও আরিফুল আবার নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনে। সেই খুলনার হয়েই ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে শেষ ওভারে চার ছক্কায় মিলিয়ে ফেললেন জয়ের অঙ্ক। অথচ অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেওয়ার আগেও ২৯ বলে তাঁর রান ছিল ২৪! কে ভাবতে পেরেছিল যে ছক্কার বিস্ফোরণে নিজেকে এভাবে আলোচনায় তুলে আনবেন আরিফুল!

নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের ভাবনাও বাড়তি পরিশ্রমের দিকে টেনে নিয়েছিল তাঁকে, ‘ওই জায়গাটি (জাতীয় দল) দেখে এসেছি। টিকে থাকা এত সহজ নয়। টিকে থাকতে গেলে অনেক কাজ করতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেই বুঝেছি এটি কত কঠিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলি, আকাশ-পাতাল তফাত। বুঝেছি কোনো দিকেই দুর্বল থাকা যাবে না। ওরা (প্রতিপক্ষ) একটি পথ বন্ধ করলে আরেকটি পথ খুলতে হবে। এ রকম চিন্তাভাবনা করেই নিজেকে অন্যভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেছি। ওই জায়গায় না খেললে হয়তো বিষয়টি বুঝতেও পারতাম না।’

তাই খাটুনি বাড়িয়ে দিলেন। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে নিজেকে বদলে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন ছিল। তবু অন্য পথ ঠিকই বের করে নিয়েছিলেন আরিফুল, ‘রোজার মাসে সাহরির আগে ঘুমাতাম না। রংপুর শহরে নিজেদের এলাকায় রাত ১২টার দিকে নীরব রাস্তায় দৌড়াতে বের হতাম। এক-দেড় ঘণ্টা দৌড়াতাম। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ টিভিতে দেখলাম। এরপর ঢাকায় ফিরে একটি জিমেও ভর্তি হলাম।’ পরিশ্রমের ফলও পেলেন হাতেনাতেই, ‘বিপ টেস্টে আগে সাড়ে ১০ থেকে টেনেটুনে ১১ দিতাম। এবার দিলাম ১২.৪। ওজনও কমিয়েছি ১২ কেজি।’

পরিশ্রম বাড়িয়ে ওজন কমিয়েছেন এ জন্যই যে, ‘জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তো এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যেতে পারে না।’ যদিও তাঁর মতো ক্রিকেটারের নিয়তি মেনে নিয়েই হাল ছাড়ছেন না, ‘‘আমি তারকা নই। আমার মতো ক্রিকেটারের পৃথিবীটা তাই একটু কঠিনই। সুযোগও কম পাব, পারফরমও করতে হবে। ‘ডু অর ডাই’-এর মতো।’’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা