kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

দুই অলরাউন্ডারের লড়াইয়ে বিজয়ী মেহেদী

ঢাকার জয়ের পথ খুলে রাখেন মুক্তার। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁকে বেদম মারতে দেখে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শেষ ওভারে বল দেন অফস্পিনার মেহেদীকে। দলের বিপর্যয়ে নেমে ৩১ বলে যাঁর ঝোড়ো ফিফটি রাজশাহীকে দেয় ১৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি। বল হাতেও শেষ ওভারে সেই পুঁজিকে যথেষ্ট বলে মনে করানোর দায়িত্ব পান এ অলরাউন্ডারই।

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই অলরাউন্ডারের লড়াইয়ে বিজয়ী মেহেদী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লড়াইটি আর শেষ পর্যন্ত দুই দলের থাকল না। ম্যাচের শেষ ওভারে সেটি হয়ে গেল ব্যাটে-বলে দুর্বার দুই অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান ও মুক্তার আলীর লড়াই।

আগের ওভারে ফরহাদ রেজাকে তিন ছক্কায় উড়িয়ে ১২ বলে ৩০ রানের কঠিন সমীকরণ সহজ বানিয়ে বেক্সিমকো ঢাকার জয়ের পথ খুলে রাখেন মুক্তার। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁকে বেদম মারতে দেখে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শেষ ওভারে বল দেন অফস্পিনার মেহেদীকে। দলের বিপর্যয়ে নেমে ৩১ বলে যাঁর ঝোড়ো ফিফটি রাজশাহীকে দেয় ১৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি। বল হাতেও শেষ ওভারে সেই পুঁজিকে যথেষ্ট বলে মনে করানোর দায়িত্ব পান এ অলরাউন্ডারই।

৬ বলে ৯ রানের প্রয়োজন যখন ঢাকার, তখন চাতুরীর সঙ্গে বোলিংয়ে মুক্তারের ওপর চাপও বাড়াতে থাকেন। যতই লেগের দিকে সরে গিয়ে মারতে যান এই ব্যাটসম্যান, ততই পায়ের ওপর বল ফেলে তাঁকে আটকে রাখেন মেহেদী। প্রথম তিন বল তাই ডট। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লড়াই আবার সমতায় নামিয়ে আনেন মুক্তার। পঞ্চম বলে তাঁকে আটকে রাখলেও ওভার স্টেপিংয়ের জন্য ‘নো বল’ হওয়ায় ম্যাচ নেয় আরো নাটকীয় মোড়। অবশ্য ফ্রি হিটেও মুক্তার রান তুলতে না পারায় শেষ বলে বাউন্ডারি মারা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না মুক্তারের। কিন্তু নিতে পারেন মাত্র সিঙ্গেল। তাতে ২ রানের জয় দিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে শুভ সূচনা রাজশাহীর।

অথচ একপর্যায়ে বরং ঢাকাই বেশি দেখতে পাচ্ছিল জয়ের তীর। কারণ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ততক্ষণে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক আকবর আলীকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৬৯ রানের পার্টনারশিপে জয়ের ভিত গড়ে ফেলেছেন। ২৯ বলে ৩৪ রান করে ফরহাদের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আকবর ফিরে গেলেও সেই ভিত নড়বড়ে হয়নি মুশফিক ছিলেন বলেই। কিন্তু সেটি নড়বড়ে করে যাওয়ার দায়টা শেষ পর্যন্ত ঢাকার অধিনায়কের কাঁধেই বর্তাচ্ছে।

গত মাসে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক আসর সর্বোচ্চ ২১৯ রান করেছিলেন একটি সেঞ্চুরি আর দুটি ফিফটিসহ। সেই ওয়ানডে আসরে প্রায় প্রতি ম্যাচেই লাগাতার রিভার্স সুইপ ও স্কুপ খেলার চেষ্টায় বেশির ভাগ সময়ই সফল হননি তিনি। কালও সেই একই চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের তো বটেই, ডেকে আনলেন দলের বিপদও। পেসার এবাদত হোসেনের লেগ স্টাম্পের ওপর করা স্লোয়ারে স্কুপ করতে গেলেন। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হলো না; কিন্তু ব্যাটের ছোঁয়া নিয়ে বল ঠিকই জমা পড়ে রাজশাহীর উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানের বিশ্বস্ত গ্লাভসে।

৩৪ বলে তিন বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৪১ রান করে মুশফিকের বিদায়ের পর দলকে জেতানোর দায়িত্ব নেওয়া মুক্তার এর আগে বোলিংয়েও ছিলেন উজ্জ্বল। ২২ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পথে ভেঙেছেন ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী আর নুরুল হাসানের ৮৯ রানের পার্টনারশিপ। ৬৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর নুরুলও ব্যাট হাতে কম ঝড় তোলেননি। দুই বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় মাত্র ২০ বলে ৩৯ রান করে মুক্তারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। পরের ওভারে মেহেদীও বিদায় নেওয়ার আগে তিনটি বাউন্ডারির সঙ্গে মেরে যান চারটি ছক্কাও।

ম্যাচের শেষ ওভারে দুই অলরাউন্ডারের লড়াইয়ে জিতেও মেহেদী দলকে উপহার দেন জয়ের হাসি!

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী : ২০ ওভারে ১৬৯/৯ (মেহেদী ৫০, নুরুল ৩৯, আনিসুল ৩৫, নাজমুল শান্ত ১৭, ফরহাদ ১১*; মুক্তার ২২/৩, মেহেদী রানা ১/৩১, নাঈম ১/৩২, নাসুম ১/৪১)।

বেক্সিমকো ঢাকা : ২০ ওভারে ১৬৭/৫ (মুশফিক ৪১, আকবর ৩৪, মুক্তার ২৭*, নাঈম শেখ ২৬, তানজিদ ১৮; মেহেদী ১/২২, ফরহাদ ১/৩৩, এবাদত ১/৩৬, আরাফাত ১/৩৮)।

ফল : রাজশাহী ২ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মেহেদী হাসান (রাজশাহী)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা