kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাঠ থেকে শেষযাত্রায় বাদল

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠ থেকে শেষযাত্রায় বাদল

কিছুদিন আগেই ক্যাসিনোকাণ্ডে মোহামেডানে যখন তালা, তখন বাদল রায়ের নেতৃত্বেই এক ঝাঁক সাবেক তারকা ফুটবলার এসে ক্লাবটির হাল ধরেন। অভিভাবকহীন মোহামেডানের অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কাল সেই বাদলের ডাকে আবার সবাই হাজির মতিঝিল ক্লাব প্রাঙ্গণে। কিন্তু গতকাল অন্যের কাঁধে চড়ে এসেছেন শুধু বিদায় বলতে চিরতরে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কিছুদিন আগেই ক্যাসিনোকাণ্ডে মোহামেডানে যখন তালা, তখন বাদল রায়ের নেতৃত্বেই এক ঝাঁক সাবেক তারকা ফুটবলার এসে ক্লাবটির হাল ধরেন। অভিভাবকহীন মোহামেডানের অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কাল সেই বাদলের ডাকে আবার সবাই হাজির মতিঝিল ক্লাব প্রাঙ্গণে। কিন্তু গতকাল অন্যের কাঁধে চড়ে এসেছেন শুধু বিদায় বলতে চিরতরে। সবার চোখ অশ্রুসজল করে দিয়ে সবুজবাগ শ্মশানের পথ ধরার আগে একবার তাঁকে ঘুরিয়ে নেওয়া হলো যৌবনের তীর্থ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। বাদল রায় আর ফিরবেন না। বুট জোড়া তুলে রেখেছিলেন তিন দশক আগে, কাল স্মৃতি রেখে গেলেন চিরজীবনের জন্য।

স্টেডিয়ামের মশাল গেট দিয়ে যখন বাদলের মরদেহ বয়ে আনা গাড়িটি ঢুকছে, পুরনো এক ফুটবল দর্শক আহাজারি করে উঠলেন, ‘আগা খান গোল্ড কাপে এই গেট দিয়ে প্রথম মাঠে ঢুকেছিলেন মোহামেডানের জার্সি গায়ে।’ সেই মোহামেডানেরই সাদাকালো পতাকা জড়িয়ে তাঁর দেহ। খুব কাছে স্ত্রী মাধুরী রায়ের আহাজারি, মেয়ে গঙ্গোত্রী, পুত্র বর্ণ রায় পেছনে নিথর, শূন্যদৃষ্টি।

বাদলের শরীর ভালো ছিলেন না কয়েক বছর ধরেই। শরীরে দানাবাঁধা মারণব্যাধির সঙ্গে লড়ছিলেন প্রাণপণ। এর পরও তো অকালেই চলে গেলেন। জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা শেষবার যখন তাঁর মুখটি দেখতে গেলেন পৃথিবীর তাবৎ ভার যেন তখন তাঁদের পায়ে। আরেক সিনিয়র খেলোয়াড় হাসানুজ্জামান বাবলু নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না কিছুতেই, স্নেহের বাদলকে নিয়ে কিছু বলতে গিয়ে বারবারই কেঁদে উঠছিলেন হাউমাউ করে। বন্ধু আব্দুল গাফ্ফার চোখ ঢেকে রেখেছিলেন কালো চশমায়। কায়সার হামিদ পেয়েছিলেন তাঁর স্নেহছায়া, ‘আমি যখন রহমতগঞ্জে, তখন বাদলদা মোহামেডানের জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন। তাঁর হাত ধরেই আমার মোহামেডানে আসা।’

বাবার নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ে গঙ্গোত্রী রায়ও একই আকুতি জানিয়েছেন, ‘আমার বাবা ফুটবলকে ভীষণ ভালোবাসতেন। চেয়েছিলেন আরো কিছুদিন যেন ফুটবলের সঙ্গে থাকতে পারেন। পারেননি। তবু এই ফুটবল যেন এগিয়ে যায়।’ বাদল রায়ের নামটি যেন ফুটবলে অমর হয়ে থাকে দাবি নিয়েই বলেছেন তা, ‘শুনেছি ভালো মানুষগুলো নাকি আগেভাগে চলে যায়। আজ আপনাদের সবাইকে দেখেও সে কথাই মনে হচ্ছে, আমার বাবা ভালো মানুষ ছিলেন। আপনারা তাঁকে অমর করে রাখবেন ফুটবলের একজন হিসেবে, একজন ভালো মানুষ হিসেবে।’ প্রায় একই সময় ঢাকায় ক্যারিয়ার শুরু করা শেখ মোহাম্মদ আসলামের কণ্ঠেও সেই স্বীকৃতি, ‘মাঠের বাইরেও এত ভালো মানুষ ছিলেন বাদলদা, এত সুন্দর ব্যবহার। মুখে সব সময় স্মিত হাসি।’ একই সঙ্গে খেলা আরেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন চুন্নুর স্মৃতিতে মিশে থাকা অসাধারণ ফুটবলার ও মানুষ বাদল রায়, ‘মাঠে যেমন সুন্দর ফুটবল খেলত, তেমনি ছিল ব্যবহার। সত্যি বলতে আমি আগ্রহ নিয়েই দেখতাম ওকে, ভালো লাগত।’

করোনার বিধি-নিষেধ মেনেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ক্রীড়াঙ্গনের মানুষে ভরে ছিল মাঠ। সীমানা তুলে দিয়ে সব খেলার সংগঠকরাই এসেছিলেন এদিন বাদলকে শেষবিদায় দিতে। বাদল রায় জড়িয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি দলীয়ভাবেও শ্রদ্ধা নিবেদনে বাহাউদ্দিন নাছিম, অসীম কুমার উকিলসহ হাজির ছিলেন অনেকে। স্টেডিয়াম থেকে শহীদ মিনার ঘুরে সবুজবাগ কালীমন্দিরে হয়েছে দাহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা