kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

আমার রেকর্ডের অংশীদার বাদলও

সালাম মুর্শেদী, সাবেক ফুটবলার

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমার রেকর্ডের অংশীদার বাদলও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আমার জীবনে আজ বড় কষ্টের দিন। একজন আপনজন হারিয়েছি আমি। বাদলের সঙ্গেই তো জীবনের সেরা সময়টা পার করেছি। সেই খেলোয়াড়ি জীবনে মোহামেডানে পার করেছি আনন্দময় দিনগুলো, এরপর ১২ বছর ফুটবল ফেডারেশনে সাংগঠনিক জীবন আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি। এত দিন যার সঙ্গে কাটিয়েছি, সেই মানুষটি কাল থেকে শুধুই স্মৃতি—এটা মেনে নেওয়া বড় কষ্টের। আমার গোলের পর তার হাত উঁচিয়ে ছুটে আসার স্মৃতিটা বারবার উঁকি মারবে আমার অবসরে।

বাদলের সঙ্গে কত স্মৃতি—বলে শেষ করা যাবে না। শুধু একসঙ্গে খেলা বা মাঠে একে অন্যকে বোঝা নয়, দুষ্টুমিগুলোও করেছি একসঙ্গে। একবার প্রতাপদা কিছুদিনের জন্য মোহামেডানের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। আমি, বাদল ও অন্যরা মিলে উনাকে একদিন পানির ট্যাংকে চুবিয়েছিলাম। স্বাভাবিকভাবে প্রতাপদা খুব রাগ করেছিলেন, আমরা আবার ক্ষমা চেয়ে নিতেই তাঁর রাগ পানি হয়ে যায়। মাঠে খেলার কথা বললে, বাদলকে ছাড়া সালামের বড় ফুটবলার হয়ে ওঠা যেন অসম্ভব ছিল। দুজনের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া ছিল। তার পায়ে বল থাকলে আমার কী করতে হবে, সেটা জানতাম। সে বল পায়ে সময় নিলে বুঝে ফেলতাম আমাকে কোন জায়গায় সে চাচ্ছে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুফলই হলো আমার ২৭ গোলের রেকর্ড। আমার এই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের অংশীদার বাদলও। খেলাটা সে ভালো গোছাতে পারত আর গোল বল বানিয়ে দেওয়ায় তার জুড়ি ছিল না। ফুটবল সেন্স ছিল খুব ভালো। ফুটবল তার জন্মগত প্রতিভা, এই মানের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর আসবে কি না জানি না।

খেলা ছাড়ার পরও এ ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেই কাটিয়ে দিয়েছে বাকি জীবন। সে সব সময় চাইত ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি, ফুটবলের উন্নতি। ফেডারেশনে থেকে একবার দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণের কাজ করেছে। অনেক খুদে ফুটবলার পেয়েছিলাম সেবার। ওদের দিয়েই সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ জিতেছি আমরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও ক্রীড়া পরিষদে কাজ করেছে। ২০১৭ সালে হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তার চিকিৎসা হয় সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে ফিরলেও বাদল আর সেভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। সবাইকে যেতে হবে, আগে আর পরে। আমার বন্ধু বাদল যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুুক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা