kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

মাঠে নেমেছে ফুটবল ক্লাবগুলো

নেপাল ম্যাচ দিয়ে দেশে ফিরেছে ফুটবল। এখন ফেরার পালা ঘরোয়া ফুটবলের। বাফুফে ঘোষিত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ফেডারেশন কাপকে লক্ষ্য ধরে মাঠে নেমে পড়েছে প্রিমিয়ারের ক্লাবগুলো।

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেপাল ম্যাচ দিয়ে দেশে ফিরেছে ফুটবল। এখন ফেরার পালা ঘরোয়া ফুটবলের। বাফুফে ঘোষিত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ফেডারেশন কাপকে লক্ষ্য ধরে মাঠে নেমে পড়েছে প্রিমিয়ারের ক্লাবগুলো। করোনাকালে মাঠে নামতে গেলে কভিড পরীক্ষা অত্যাবশ্যক। ‘নিউ নরমাল’ ফুটবলের এই নতুন অনুষঙ্গ মেনে বেশির ভাগ দল শুরু করেছে প্রাক-মৌসুম ট্রেনিং।

অন্যবারের চেয়ে এবারের প্রাক-মৌসুম একটু ভিন্ন। আগে এই প্রস্তুতি পর্বে দলের শক্তি ও চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠত। এবার প্রথাগত দলবদল না হওয়ায় স্থানীয় ফুটবলাররা খেলছেন আগের দলে। তাই চেহারা-চরিত্রে খুব বদল আসেনি। বদলের একমাত্র সূত্রধর বিদেশি, সেখানেও বেশ কিছু ক্লাব ভরসা রাখছে পুরনোদের ওপর। যারা বদলেছে তাদেরই একরকম নতুন সাজ বলা যায়। সেদিক থেকে সর্বশেষ লিগ চ্যাম্পিয়নদের নবসাজ, সব কজন পুরনো বিদেশিকে ছেঁটে নতুন বিদেশি ফুটবলার যোগ করা বসুন্ধরা কিংস চায় নতুন পথচলা শুরু করতে। তাতে দলের চরিত্রে কী পরিবর্তন আসছে, সেটা গোপন করে কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোন বলছেন নতুন মিশনের কথা, ‘দলের শক্তির কতটা কী হয়েছে, সেটা মাঠেই বোঝা যাবে। ট্রেনিংয়ে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে দলের একটা ফুটবল স্টাইল তৈরির কাজ চলছে। সব ঘরোয়া ইভেন্টে চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলতে হবে। এ ছাড়া এএফসি কাপের চ্যালেঞ্জ আছে।’ দুই ব্রাজিলিয়ান রোবিনহো-ফার্নান্দেজের সঙ্গে দু-এক দিনের মধ্যে যোগ হচ্ছে স্ট্রাইকার রাউল বেসেরা। কাতারি লিগ খেলা এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সুবাদে কিংসের আক্রমণভাগে পুরো লাতিন ফুটবলের সাজ। তাদের পেছনে ডিফেন্স সামলাবেন ইরানিয়ান খালেদ। চার বিদেশিতে নতুন চেহারার কিংসের ট্রেনিংও শুরু হয়েছে সবার আগে, সেপ্টেম্বর থেকে।

তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী কেবল ট্রেনিং শুরু করেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে তারা স্থানীয়দের নিয়ে শুরু করেছে। বিদেশি ফুটবলারদের ব্যাপারে আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন, ‘আগের বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলা আছে, তবে এশিয়ান কোটায় একজন ভালো বিদেশি খুঁজছি। কোচ মারিও লেমোস আসবেন এ মাসের শেষদিকে।’ সম্ভবত পুরনো হাইতিয়ান বেলফোর্ট আর নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবার দিকেই ঝোঁক আবাহনীর। তবে একজন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে নেওয়ার গুঞ্জন এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু নয়।

ওদিকে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রও আগের চার বিদেশিকে ছেঁটে নিয়েছে নতুন বিদেশি। যদিও দিন তিনেক আগে শুরু ট্রেনিং ক্যাম্পে নেই কোনো বিদেশি। শেখ রাসেলের স্পোর্টস ডিরেক্টর সালেহ জামান সেলিম পুরনো বিদেশিদের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না, ‘আমাদের পুরনো বিদেশিদের পারফরম্যান্স আগের মতো নেই। তাই ওদের বাদ দিয়ে আমরা ঢাকা মাঠে ভাল পারফরমারদের নিয়েছি দলে। তিনজন ঢাকা মাঠে খেলা বিদেশি, সঙ্গে একজন নতুন স্ট্রাইকার যোগ হবে। আশা করি, এই দল খুব ভালো করবে।’ মোহামেডানে খেলা দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড ওভি মোনাকেকে এবার দেখা যাবে রাসেলের জার্সিতে। সাইফ স্পোর্টিং থেকে আসছেন কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার দিনের আন্দ্রেস, সঙ্গে রহমতগঞ্জে খেলা তাজিক ডিফেন্ডার আসরোভ। এঁদের সঙ্গে ভালো স্ট্রাইকার যোগ হলে দলটি ঘুরে দাঁড়াবে।

রাসেলের মতো সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবও ঝেঁড়ে ফেলেছে তাদের পুরনো বিদেশিদের। তিন নাইজেরিয়ান জন ওকোলি, কেনেথ ও ইমান্যুয়েলের সঙ্গে উজবেক মিডফিল্ডার সিরাজউদ্দিনকে নিয়ে এবার ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে সাইফ স্পোর্টিং। বিদেশি খেলোয়াড়দের চেয়ে অবশ্য বেলজিয়ান কোচ পল পুটের ওপর বেশি আস্থা। ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ‘পাঁচটি জাতীয় দলে কাজ করা কোচ এর আগে কখনো বাংলাদেশে আসেনি। তিনি ট্রেনিং শুরু করে দিয়েছেন একটা চ্যাম্পিয়ন দল তৈরির লক্ষ্যে।’ তবে চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেওয়া গতবারের চট্টগ্রাম আবাহনীতে কোনো পরিবর্তন নেই। আগের দল নিয়েই তারা ক্যাম্প শুরু করছে। ক্লাব ম্যানেজার আরমান আজিজ জানিয়েছেন, ‘আমাদের ক্যাম্পের প্রথম সপ্তাহ ঢাকায় কাটিয়ে পরের তিন সপ্তাহ হবে ময়মনসিংহে।’ শফিকুল ইসলাম মানিকের অধীনে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আগে। তবে দলে তেমন পরিবর্তন নেই বলে জানিয়েছেন শেখ জামালের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন চুন্নু, ‘দলটা আগের মতোই। একজন উজবেক মিডফিল্ডার যোগ করেছি আমরা।’ বিদেশির যোগ-বিয়োগে কার কেমন শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে, তা দেখা যাবে মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা