kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বাকি ৪০ দিনের জন্য চুক্তি বাড়ছে ভেট্টোরির

চুক্তি অনুযায়ী ১০০ দিনের মধ্যে ভেট্টোরি কাজ করেছেন ৬০ দিনের মতো। বাকি আছে আরো ৪০ দিন। আপাতত ওই সময়টা কাজ করার জন্য নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আকরাম।

মাসুদ পারভেজ   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাকি ৪০ দিনের জন্য চুক্তি বাড়ছে ভেট্টোরির

অ্যাকশন বদলানোর পর তাইজুল ইসলামের বোলিংয়ে আগের সেই ধার আর নেই বলেই মনে করিয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে এই বাঁহাতি স্পিনারের পারফরম্যান্স। যদিও জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সে জন্য আরো সময় চেয়ে রেখেছেন, ‘তাইজুলকে নিয়ে আরো অনেক কাজ করার বাকি আছে আমাদের।’

সেই কাজগুলো তাঁর অ্যাকশন বদলে দেওয়া ডেনিয়েল ভেট্টোরিরই সবচেয়ে ভালো করতে পারার কথা। কিন্তু ডমিঙ্গোসহ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের বাকি সদস্যরা এরই মধ্যে ঢাকায় এসে ৫০ দিনের মতো কাজ করে গেলেও আসেননি স্পিন বোলিং পরামর্শক। বলা ভালো, নিজ দেশের কোয়ারেন্টিন জটিলতায় আসতে চাননি। এদিকে আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে এই নিউজিল্যান্ডারের চুক্তির মেয়াদও ফুরিয়ে আসছে। দুয়েমিলে পরিবর্তিত অ্যাকশনে তাইজুলের আরো কার্যকরী হওয়ার ব্যাপারটি অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়ে আছে।

২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর থেকে বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই কিউই কোচের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ নভেম্বর। প্রায় ১৩ মাসের এই চুক্তি অনুযায়ী দিনপ্রতি আড়াই হাজার ইউএস ডলার (কর কাটার পর) পারিশ্রমিকে ১০০ দিন কাজ করার কথা ভেট্টোরির। সংগত কারণেই অত দিন কাজ করার সুযোগ এই সাবেক বাঁহাতি স্পিনারের হয়নি। করোনাভাইরাসের ছোবলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জীবন থেকে যেমন প্রায় সাত মাস হারিয়ে গেছে, তেমনি ভেট্টোরিরও চুক্তি অনুযায়ী পুরোটা সময় দেওয়া হয়নি।

আরো কিছুদিন দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডের জটিল কোয়ারেন্টিন নীতির জন্য। যে বাস্তবতাও উপেক্ষা করতে পারেননি ডমিঙ্গো, ‘ড্যান আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারলে অবশ্যই ব্যাপারটি খুব ভালো হতো। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ড থেকে ভ্রমণের নিয়ম-কানুনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে আমাদের।’ বর্তমান নিয়মানুযায়ী দেশের বাইরে থেকে যাওয়া কোনো নিউজিল্যান্ডারকে নিজ খরচে হাসপাতালে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করতে হয়। সে কারণেই মাঝে একবার বাংলাদেশে আসার উদ্যোগ নিয়েও পিছিয়ে যান ভেট্টোরি।

তাতে অ্যাকশন বদলানোর পর তাইজুলের ‘ফলো আপ’ও থেমে যায়। এর মধ্যে ভেট্টোরির চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে ওই বাঁহাতি স্পিনারের অগ্রগতিও থেমে যাওয়ার আশঙ্কা। যদিও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান আকরাম খান তেমন সংশয় নেই বলেই আশ্বস্ত করতে চাইলেন। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ দিনের মধ্যে ভেট্টোরি কাজ করেছেন ৬০ দিনের মতো। বাকি আছে আরো ৪০ দিন। আপাতত ওই সময়টা কাজ করার জন্য নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আকরাম।

বলতে ভোলেননি আপাতত নতুন করে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে না যাওয়ার চিন্তার কথাও, ‘ভেট্টোরির ১০০ দিন কাজ করার কথা থাকলেও যৌক্তিক কারণেই তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আমরা ঠিক করেছি, বাকি যে দিনগুলো তাঁর কাজ করার কথা, তা পুরো করার জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়াব। আপাতত এ রকমই চিন্তা আছে। এটা শেষ করার পরই আমরা পুনর্বিবেচনা করে দেখব যে পরে আরো দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তি করা যায় কি না।’ অবশ্য বাকি ৪০ দিনের জন্য চুক্তির মেয়াদ আরো কয় মাস বাড়বে, সে বিষয়ে কালই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি আকরাম।

সম্ভবত আসন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি এখনো নিশ্চিত নয় বলেই। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফর করার কথা আছে। তবে সেটিও চূড়ান্ত নয় এখনো। চূড়ান্ত হলেও সেই সিরিজের আগে ঢাকায় আসার মতো অবস্থায় ভেট্টোরি থাকবেন কি না, এখনই বলার উপায় নেই তাও। বরং আগামী মার্চে তিনটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরই বেশি নিশ্চিত। ১৩ মার্চ ওয়ানডে দিয়ে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। তবে এর অন্তত ২০ দিন আগেই বাংলাদেশ দলকে ক্রাইস্টচার্চে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিসিবির। সেখানকার একটি একাডেমিতে রেখে অনুশীলন শিবির করার কথাবার্তাও চলছে। কে জানে, ভেট্টোরির বাকি ৪০ দিন পুরো করার জন্য শেষ পর্যন্ত ওই সময়টিই বেছে নিতে হয় কি না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা