kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

ফুটবলারদের মাঠে দেখার আনন্দটাই মুখ্য জেমির

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবলারদের মাঠে দেখার আনন্দটাই মুখ্য জেমির

জেমি ডে গতকাল ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় ফিরেছেন পুরনো সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস ও নতুন গোলরক্ষক কোচ লিস ক্লিভলিকে সঙ্গে নিয়ে। ছবি : সৌজন্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক : খেলোয়াড়রা মাঠে ফিরেছেন। তাঁদের ফেরাটাকে স্মরণীয় করে তুলতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন জাতীয় দলের বিদেশি কোচিং স্টাফরা। সবাই মিলে প্র্যাকটিস মাঠে নেপাল জয়ের রেসিপি খুঁজবেন আগামী দুই সপ্তাহ।

১৩ নভেম্বর ঢাকায় নেপালের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের, পরের ম্যাচ ১৭ তারিখ। হাতে সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। তাই অনেক দিন পর ঢাকায় ফিরে হেড কোচ জেমি ডে ফুটবলের ফেরাটাকে বড় করে দেখছেন, ‘অনেক দিন পর ফুটবলাররা মাঠে ফিরছে, এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য খুব ভালো খবর। সামনে দুটো ম্যাচ খেলব আমরা, সুতরাং ট্রেনিংয়ের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। সামনের দিকে তাকিয়ে আছি আমি।’ জেমি ঢাকায় ফিরেছেন পুরনো সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস ও নতুন গোলরক্ষক কোচ লিস ক্লিভলিকে সঙ্গে নিয়ে। বড় কোনো উপলক্ষ থাকলে কোচিং স্টাফের বহর বড় হয়, যোগ হয় বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। স্বল্প সময়ের জন্য বিশেষজ্ঞযোগে খেলোয়াড়দের কতটা উন্নতি হয় কে জানে। তবে নেপালের ম্যাচ দুটোর আগেও অনেকে যোগ দেবেন। তাঁদের অবশ্য প্রথাগত কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না, কভিড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁরা মাঠে নামতে পারবেন।

চার গোলরক্ষকের মানোন্নয়নের জন্য এসেছেন লিস ক্লিভলি। এই ইংলিশ গোলরক্ষক কোচ আগে গোলরক্ষকদের অবস্থা বুঝে নিতে চান, ‘করোনার পর গোলরক্ষকরা কী কন্ডিশনে আছে, সেটা দেখতে হবে। প্রথমে আমার দেখতে হবে গোলরক্ষকদের হাত-পা কিভাবে কাজ করছে এবং তাদের পজিশন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কী রকম। এগুলো দেখতে দেখতে তাদের টেকনিক্যাল সামর্থ্য সম্পর্কে আমার ধারণা হয়ে যাবে।’ এই মুহূর্তে প্রাথমিক ক্যাম্পে থাকা চার গোলরক্ষক আশরাফুল রানা, আনিসুর রহমান, শহীদুল আলম ও পাপ্পুকে নিয়ে কাজ করবেন ক্লিভলি। তাঁর অবশ্য বাংলাদেশের ফুটবল কিংবা গোলরক্ষকের খেলা দেখার সুযোগ হয়নি। এদিক-ওদিক থেকে কিছুটা জ্ঞান নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গোলরক্ষক সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে আগের গোলকিপিং কোচ ববি ও জেমির কাছ থেকে জেনেছি। এখানকার গোলরক্ষকদের মানসিকতা ও গেম টেম্পারামেন্টের ব্যাপারগুলো দেখতে হবে। সাত মাস পর তারা মাঠে নামবে এবং তাদের সব কিছু ঠিকঠাক হবে, এটা বলা কঠিন। সাধারণত কয়েকটা গেম খেলার পর গোলরক্ষকদের আত্মবিশ্বাস ফেরে, তাদের হাত-পা ঠিকমতো কাজ করে।’ ম্যাচের আগে মাত্র দুই সপ্তাহে বেশি কিছু করারও সুযোগ নেই। এর পরও ক্লিভলির প্রতিশ্রুতি, ‘এর মধ্যে আমি চেষ্টা করব গোলরক্ষকদের টেকনিক্যালি উন্নত করতে।’

শুধু গোলরক্ষক কেন, অন্যদের বেলায়ও দুই সপ্তাহে খুব বেশি কিছু করার নেই। এ জন্য লম্বা বিরতির পর ম্যাচ খেলার আগে জেমি আট সপ্তাহ চেয়েছিলেন ট্রেনিংয়ের জন্য। সেই জায়গায় পেয়েছেন মাত্র তিন সপ্তাহ, তার মধ্যে প্রথম সপ্তাহ কেটেছে ফুটবলারদের ফিটনেস ফেরানোর লড়াইয়ে। তাতেও ফিটনেস ফিরবে না। কিন্তু মাঠে ফুটবল ফেরাতে হবে। তাই জোড়াতালি দিয়ে হলেও মাঠে নামার মতো একটা দল চায় বাফুফে, যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে ফেরার রেকর্ড গড়তে পারে! করোনার বন্দিদশা কাটিয়ে অন্যান্য খেলা মাঠে ফিরলেও কেউ এখনো আন্তর্জাতিক আয়োজন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ম্যাচের মেডেল পরার জন্যই দুটো ম্যাচ নিয়ে বাফুফে কর্তাদের এত তোড়জোড়। জেমি ডে-ও সেটা বুঝেছেন, তাই ম্যাচ জেতার চেয়ে ফুটবলারদের ট্রেনিং ফেরাটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ‘নাবিল (জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান) আমাকে বলেছেন ফুটবল ফেরানোর কথা। এটা খুব ভালো যে খেলোয়াড়রা আবার ফুটবলে ফিরেছে, তারা ট্রেনিং করছে। ম্যাচ জেতা মূল উদ্দেশ্য নয়, খেলোয়াড়দের ট্রেনিংয়ে ফেরানো এবং সামনের বছরের জন্য তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ ম্যাচ জয়ের চাপ না থাকলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচের মেডেল খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা