kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জে মনোযোগ র‌্যাডফোর্ডের

এইচপি দলকে নিয়ে বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতিতেও জোর দিচ্ছেন র‌্যাডফোর্ড, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওদের পার্থের দ্রুতগতির উইকেটে মিচেল স্টার্কের বল খেলতে হবে। এই ছেলেদের কেউ যদি জাতীয় দলে যায়, সে ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ে লর্ডসে জিমি অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড ও ক্রিস ওকসদের খেলতে হতে পারে। ওই কন্ডিশনে ভালো করার জন্য অবশ্যই ওদের ওরকম জায়গায় নিয়ে খেলানোও জরুরি।’

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জে মনোযোগ র‌্যাডফোর্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই বছর আগে অ্যান্টিগা আর জ্যামাইকা টেস্টে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্ব খুব কাছ থেকেই দেখেছেন তিনি। তখন যে টবি র‌্যাডফোর্ড ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ। তাই ভাগ্য যখন এই ইংলিশকে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) হেড কোচ হিসেবে বাংলাদেশে উড়িয়ে আনল, তখন নতুন দায়িত্বে নিজের লক্ষ্য স্থির করাও সহজ হয়ে গেল। ঠিক করেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ নিতে জানা ব্যাটসম্যান তৈরির দিকেই মনোযোগটা দেবেন সবচেয়ে বেশি।

সেই লক্ষ্যে শুরুতেই আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলেও জানালেন গতকাল দুপুরে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ শেষ হওয়ার পর এখন মিরপুরের একাডেমি মাঠে পুরোদমে চলছে এইচপির অনুশীলন শিবির। সেখান থেকেই দিলেন একই দিন সকালের টাটকা উদাহরণ, ‘‘কয়েকজন প্রতিভাবানকে নিয়ে আমার মুগ্ধতার কথা বলতে পারি। এখানে (অনুশীলনে) একটা ছেলে আছে, যে কিনা ডগস্টিক দিয়ে থ্রো ডাউন করে। সবাই ওকে ‘জফ্রা’ বলেই ডাকে। কারণ সে সম্ভবত ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতিতে বল ছোড়ে। ওই গতির বিপক্ষেও তিন থেকে চারজনকে পেলাম, যারা দারুণ টেকনিক ও সাহস নিয়ে ব্যাটিং করেছে। এটা উঁচু দরের টেস্ট ব্যাটসম্যান হওয়ার লক্ষণও। ভীষণ উৎসাহব্যঞ্জক ব্যাপারই এটি।’’

ওই ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য নিয়ে র‌্যাডফোর্ড এতটাই নিশ্চিত যে তাঁদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন, ‘আমার মাথায় তিন থেকে চারজন আছে। আমি যেটি করতে চাই, দু-তিন দিনের মধ্যেই ওদের আলাদা করে ফেলা। কারণ আমার মনে কোনো সংশয়ই নেই ওদের নিয়ে।’ র‌্যাডফোর্ডের আগে এইচপির হেড কোচ সাইমন হেলমট নিবার্চকদের হাতে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান থেকে যাঁকে লেগস্পিনারও বনে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ওই অস্ট্রেলিয়ান। র‌্যাডফোর্ডেরও সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাজে আসার সুনাম আছে। এউইন মরগ্যান এঁদের অন্যতম। র‌্যাডফোর্ডের অধীন কাজ করে উপকৃত হওয়ার কথা ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক স্বীকারও করেন।

তবু টেস্ট ক্রিকেটার তৈরির দিকেই বেশি ঝোঁক র‌্যাডফোর্ডের। সেটি সম্ভবত এ ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই। বেশ গর্ব করেই কাল বলছিলেন, ‘২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাডেমিটা (বার্বাডোজে হাই পারফরম্যান্স সেন্টারের পরিচালক ছিলেন) আমিই চালু করি। সেই সময়ে ১৯ বছর বয়সী জেসন হোল্ডার ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের কথা মনে করতে পারি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান টেস্ট দলের অর্ধেকই ওই গ্রুপ থেকে আসা। ১৬ ক্রিকেটারকে নিয়ে তিন মাসের শিবির করেছিলাম আমরা।’ ২০১৮ সালের সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বেশ বড় ভূমিকা ছিল তাঁর সাবেক শিষ্য হোল্ডার-গ্যাব্রিয়েলেরও।

এখন তাঁর শিষ্যদের ব্যাটিংয়ে জোর দেওয়ার কারণ সম্ভবত দেশের বাইরে প্রতিকূল কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কথা ভেবেই, ‘প্রথম দিনই ছেলেদের যে কথাগুলো বলেছি, তার একটি এটিও যে আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশ বাংলাদেশে খুব ভালো দল। নিজেদের কন্ডিশনে কিভাবে খেলতে হয়, সেটি তারা খুব ভালো জানে। আমি দেখছি, এখানে সবচেয়ে বড় যে ভূমিকাটি রাখতে পারি, সেটি হলো এমন কিছু খেলোয়াড় বের করা, যারা জাতীয় দলে গিয়ে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় পারফরম করতে পারবে। সেটি যেকোনো ফরম্যাটেই।’

তাই এইচপি দলকে নিয়ে বিরুদ্ধ কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতিতেও জোর দিচ্ছেন র‌্যাডফোর্ড, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গেলে ওদের পার্থের দ্রুতগতির উইকেটে মিচেল স্টার্কের বল খেলতে হবে। এই ছেলেদের কেউ যদি জাতীয় দলে যায়, সে ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ে লর্ডসে জিমি অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড ও ক্রিস ওকসদের খেলতে হতে পারে। ওই কন্ডিশনে ভালো করার জন্য অবশ্যই ওদের ওরকম জায়গায় নিয়ে খেলানোও জরুরি। যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার পর মনে হয় ওরা আগে থেকেই অভ্যস্ত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা