kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

ফুটবলারদের প্রস্তুতি

ফিটনেসই দলে ঢোকার মানদণ্ড

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিটনেসই দলে ঢোকার মানদণ্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রতিপক্ষ নেপাল এখনো আলোচনায় আসেনি। ফুটবলারদের লড়াই চলছে নিজের সঙ্গে নিজের। ফুটবলহীন লম্বা সময় পার করে তাঁরা জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে মরিয়া হয়ে লড়ছেন নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে। উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম ক্যাম্পে যোগ দিয়েই বুঝতে পারেন, ‘এবার মূল স্কোয়াডে ঢোকার কম্পিটিশন অনেক বেশি। করোনার কারণে দীর্ঘদিন আমরা খেলার বাইরে, এখন কার কন্ডিশন কেমন কেউ জানে না। ক্যাম্পে ট্রেনিংয়ে বোঝা যাবে কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে।’ এগোনো-পেছানোর অঙ্কে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, এই পরীক্ষায় যাঁরা এগিয়ে থাকবে তাঁদের দলে ঢোকার পথ সহজ হয়ে যাবে।

এই মুহূর্তে বেশ এগিয়ে বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা। কিংসের ফুটবলাররা পরশু যোগ দিয়েছেন ক্যাম্পে। গতকাল সকালে ট্রেনিংয়ে তাঁরা ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার ফল নিয়ে তাঁরা কেউ মুখ খুলতে চান না। কারণ ফিটনেস-বিষয়ক আলাপে ফুটবলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন সহকারী কোচরা। ফিটনেস পরীক্ষায় এগিয়ে থাকলেও মুখ ফুটে বলতে পারবেন না কিংসের খেলোয়াড়রা! বলার অধিকার শুধু সহকারী কোচের, মাসুদ পারভেজ কায়সার খানিকটা রাখঢাক করেই বলার চেষ্টা করেছেন, ‘কিংসের খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তাদের লেভেল ক্যাম্পের অন্যদের কাছাকাছিই আছে।’ সত্যিটা তিনি অকপটে বলতে পারেননি। সেটা হলো, ফিটনেসের দিক দিয়ে ক্যাম্পের অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে কিংসের খেলোয়াড়রা। এএফসি কাপের প্রস্তুতির জন্য তাঁদের যে এরই মধ্যে ছয় সপ্তাহ ট্রেনিং সম্পন্ন হয়েছে, তাতে ইব্রাহিম-তপুরা অন্য ক্লাবের খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলে এখন ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি। বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তপু বর্মণও মনে করেন, ‘ফিটনেস লেভেল দিয়ে বিচার করলে আমরা কিংসের খেলোয়াড়রা ভালো অবস্থায় আছি। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে সেটা কাজে লাগাতে হবে আমাদের।’

নভেম্বরে ফিফা-উইন্ডোতে ১৩ ও ১৭ তারিখ বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ খেলবে নেপালের সঙ্গে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গত ২৩ অক্টোবর থেকে। এর আগে টানা সাত মাস ফুটবলের বাইরে খেলোয়াড়রা। তবে এএফসি কাপ উপলক্ষে কিংসের খেলোয়াড়রা গত সেপ্টেম্বরে ট্রেনিংয়ে ফেরেন, যদিও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় ওই টুর্নামেন্ট। কিন্তু এই ট্রেনিংয়ের সুবাদে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিটনেস টেস্টে এগিয়ে কিংসের ১২ ফুটবলার। পিছিয়ে আছেন অন্যান্য ক্লাব থেকে আসা ক্যাম্পের বাকি ২৩ ফুটবলার। তাতে ক্যাম্পে এখন দুই ধরনের ফুটবলার— ফিটনেসের নির্দিষ্ট মানে এক দল এবং আরেক দল পিছিয়ে। কিন্তু এখন হাতে সময় আছে মাত্র দুই সপ্তাহ। স্বল্প সময়ে দুটি দলকে একই সমতায় নিয়ে আসা বেশ কঠিন। ফুটবলারদের নিয়ে ছয় দিন পার করে সহকারী কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার বলছেন, ‘প্রথম সপ্তাহে আমরা মূলত খেলোয়াড়দের ফিটনেস ফেরানোর কাজটাই করেছি। এরপর সবার অবস্থা বুঝে কোচ আগামী দুই সপ্তাহের জন্য একটি ট্রেনিং প্রগ্রাম সাজাবেন।’ ইংল্যান্ড থেকে হেড কোচ জেমি ডে’র আজ দেশে পৌঁছানোর কথা। নেপাল ম্যাচের জন্য সামনের দুই সপ্তাহে কিভাবে দলটিকে তৈরি করেন, সেটাই দেখার বিষয়। 

আপাতত বাংলাদেশ দলের আলোচনায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস মুখ্য বিষয় হলেও খেলোয়াড়দের আনন্দ ফুটবলে ফেরায়। তাঁদের পৃথিবী আবার ফুটবলময় হয়ে উঠছে, এই ভেবে তপু বর্মণ খুব খুশি, ‘সাত মাস বিরতির পর আজ সবাই মিলে ট্রেনিং করেছি। অমনক দিন পর সবাই একসঙ্গে হয়েছি, সামনে দুটি ম্যাচ খেলব। এটা দারুণ ব্যাপার। সবাই ট্রেনিংয়ে খুব মনোযোগী, নেপালের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে দলে ঢোকার লড়াই শুরু হয়ে গেছে।’ স্বল্প সময়ে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স পরীক্ষার সুযোগ নেই, প্র্যাকটিসে দৌড়-ঝাঁপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই হয়ে যাবে। ফিটনেসই হয়ে যাচ্ছে দলে ঢোকার বড় মানদণ্ড।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা