kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রথম পরীক্ষা শেষে স্বস্তিতে বিসিবি

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথম পরীক্ষা শেষে স্বস্তিতে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাত ম্যাচে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি মাত্র ২৭ রানের। দুই শ রানের দলীয় ইনিংসও মোটে চারটি। এক দিবসীয় কোনো টুর্নামেন্টে এটা হয় নাকি, যেখানে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের সবাই খেলেছেন! তবু বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান খুশি। খুশি বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ নামে মাঠে ক্রিকেট ফিরেছে, কারো কারো নৈপুণ্য প্রশংসিতও হয়েছে—এমনটা ভেবেই কিনা একগাদা ব্যক্তিগত পুরস্কারের বাইরে আরো পাঁচজনকে পুরস্কৃত করেছেন বিসিবি প্রধান।

এ তো আর প্রায় সাত মাস পর মাঠে ক্রিকেট ফেরানোর লড়াই ছিল না। আরো বড় লড়াইটা ছিল মাঠের বাইরে, অজানা শত্রু করোনার বিরুদ্ধে। তাই পুরস্কারের মঞ্চে নাজমুল হাসানের কণ্ঠে ক্রিকেটের মান নিয়ে উচ্ছ্বাসের চেয়ে বেশি ছিল স্বস্তি, ‘ক্রিকেট মাঠে ফেরানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। মনের মধ্যে একটা শঙ্কা ছিল এই টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে যদি কোনো ছেলে আক্রান্ত হয়, তখন কী হবে? এ জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। বায়ো-বাবল বজায় রেখেছি।’ এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছেন তিনি নিজেও। ফাইনালের দিন সন্ধ্যায় নিজের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ নিশ্চিত হয়েই এসেছেন মিরপুরে।

এত কড়াকড়ির পেছনের কারণ শুধু ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোই না, বহির্বিশ্বের কাছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের ব্যাপারও রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি যত গড়িয়েছে ততই ভ্রমণবিধি শিথিল করেছে বিভিন্ন দেশ। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। বরং বায়ো-বাবলের মতো ব্যয়বহুল এবং সর্বোচ্চ সচেতনতামূলক বিধি-ব্যবস্থা বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল খোদ আয়োজকদের মনেই। গত পরশু সমাপ্ত প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে অন্তত কঠিন এ পরীক্ষার প্রথম ধাপ উতরে গেছে বিসিবি। দফায় দফায় করোনা পরীক্ষায় ক্রিকেটারদের আবাসস্থল সোনারগাঁও হোটেলের দুজন কর্মী ছাড়া আর কারো পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসেনি। যদিও বায়ো-বাবলের কঠোর বিধি অনুসরণ করা গেছে, সেটি বলা যাবে না। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনও খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ করতে দেখা গিয়েছিল বায়ো-বাবলের বাইরে থাকা কর্মীদের। তবু ভালো যে, সেটি করোনার সংক্রমণের কারণ হয়ে দেখা দেয়নি।

একটা সাফল্য নতুন লক্ষ্যের অনুপ্রেরণা জোগায়। বিসিবি অবশ্য আগেই ছক এঁকে রেখেছিল নভেম্বরের ১৫ তারিখ করপোরেট টি-টোয়েন্টি আসর আয়োজনের। তবে ফাইনালের পর বোর্ড সভাপতির উচ্চারণেই পরিষ্কার, করোনাকে হারিয়ে প্রেসিডেন্টস কাপ শেষ করতে পেরে পরের টুর্নামেন্টকে ঘিরে আশাবাদ আরো বেড়েছে আয়োজকদের, ‘এটা (প্রেসিডেন্টস কাপ) তিন দলের হলো। পরেরটা টি-টোয়েন্টি, পাঁচ দলের হবে। দলের সংখ্যা বাড়ায় আরো বেশি কিছু ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পাবে। খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ায় বায়ো-বাবল ব্যাপারটা আরো চ্যালেঞ্জিং হবে। এটা কঠিন কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছি।’ আসলে নিতে হবে। জানুয়ারিতে পূর্বনির্ধারিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিশ্চিত করতে হলে এর বিকল্পও নেই। বাংলাদেশে ক্রিকেট আয়োজন নিরাপদ—এ বার্তা দেওয়া না গেলে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়ার জায়গায় নেই বিসিবি।

এদিকে আরো বড় চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটারদের। সেটি করোনা-পরবর্তী নতুন জীবনধারার। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই বায়ো-বাবলে নিজেকে বন্দি করে ফেলা। সেখানে হোটেল আর মাঠ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু নেই। নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ছাড়া কারো সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেরও উপায় নেই। একরকম বন্দি এ জীবন নিয়ে বৈশ্বিক ক্রিকেটে এরই মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ডেভিড ওয়ার্নার, বিশ্বজয়ী ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগ্যানও আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের না হিড়িক পড়ে যায়। স্পর্শকাতর এসব ব্যাপারে সাধারণত মুখ খোলেন না বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। তবে তাঁরাও এ ‘বন্দিজীবন’ উপভোগ করেন না। বিসিবি সভাপতি কোনো ব্যতিক্রম নন, ‘এখন তো এভাবেই খেলতে হবে। তাই ওদের (ক্রিকেটারদের) খাপ খাওয়ানোর জন্য এটা করছি।’

রান-উইকেট কিংবা ফলের চেয়ে প্রেসিডেন্টস কাপের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল সম্ভবত এ দুটি—করোনায়ও ক্রিকেট হয় বাংলাদেশে এবং বায়ো-বাবলে তামিম ইকবালদের অভ্যস্ততা গড়ে তোলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা