kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ফুটবলের ফেরা এবং জয়ের স্বপ্ন

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবলের ফেরা এবং জয়ের স্বপ্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আট মাস পর ফুটবল মাঠে ফিরবে। এই ফেরাকে রাঙিয়ে তোলার একমাত্র উপায় হলো জয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতা! এই সমীকরণে আগামী নভেম্বরে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কমিটির অধীনে ফুটবলের মাঠে ফেরার পাশাপাশি যেন আগামী চার বছরের ইঙ্গিত পাওয়া যাবে।

৩ অক্টোবর নির্বাচনে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েই ফুটবলের দায়িত্ব নিয়েছে কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন কমিটি। নির্বাচন জেতার পরপরই তারা ফুটবলকে মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। করোনাকালের নতুন বাস্তবতায় ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলা ঘরোয়াভাবে মাঠে ফিরলেও ফুটবল এখনো ফেরেনি। তারা ফিরতে চাইছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের চ্যালেঞ্জ নিয়ে, নেপালের সঙ্গে ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ঢাকায় দুটো ম্যাচ খেলে। এতে জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ যেমন আনন্দিত, তেমনি চ্যালেঞ্জও অনুভব করছেন, ‘ম্যাচের ঘোষণা দিতে পেরে আমি খুব খুশি। বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব উপলক্ষে অনুশীলন শুরু করতে গিয়েও আমরা পারিনি। এখন আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে ফেরার উদ্যোগ শুরু করেছি। চ্যালেঞ্জটা হলো কভিড মহামারির মধ্যে ম্যাচ আয়োজন করা। ক্রিকেট আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো, ওখান থেকে শিক্ষা নিতে পারতাম। কভিড পরিস্থিতিতে আমাদের খুব সতর্ক হয়েই সব কিছু করতে হবে। আমরা কেউ সব কিছু জানি না, অন্যদের সাহায্য লাগবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

আগামীকাল থেকে স্থানীয় কোচদের তত্ত্বাবধানে শুরু হচ্ছে জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প। ফুটবলাররা কভিড পরীক্ষা করিয়ে যোগ দেবেন ক্যাম্পে। ক্যাম্প চলাকালীন তাঁদের আরো দুই-তিনবার করোনা পরীক্ষা করানো হবে। এ মাসের শেষের দিকে ঢাকায় পৌঁছে যাবেন প্রধান কোচ জেমি ডেসহ অন্য কোচিং স্টাফরা। তাঁদের বেলায় কোয়ারেন্টিনের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফেরার পর দুই-তিন দিনের মধ্যে কভিড পরীক্ষা করিয়ে তাঁরা ট্রেনিং ক্যাম্পে যোগ দেবেন। হাতে সময় কম হলেও নেপালের ম্যাচকে ঘিরে ফুটবল ফেডারেশনের অনেক স্বপ্ন।

ইংল্যান্ড থেকেই গতকাল জুমে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে জেমি ডে জানিয়েছেন ম্যাচ জয়ের স্বপ্নের কথা, ‘আমার মনে হয় প্রত্যেক কোচই মাঠে নামে ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে। তা ছাড়া বাংলাদেশে ফুটবল আবার মাঠে ফিরছে, এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে উইন্ডোগুলোতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ২০২১ সালের জন্য নিজেদের তৈরি করাটাই মূল লক্ষ্য।’ ম্যাচের আগে ছয় সপ্তাহ ট্রেনিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন দুই দিন আগে। বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তিন সপ্তাহেই মানিয়ে নিচ্ছেন ইংলিশ কোচ, ‘সাত-আট মাসের লম্বা বিরতির পর ফুটবলারদের ট্রেনিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিরতির সময় খেলোয়াড়রা আমাদের দেওয়া প্রগ্রাম মেনে ট্রেনিং করেছে। সবাই আসলে ফুটবলে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছে।’ লম্বা বিরতির পর ফুটবলারদের আগের ফর্মে মাঠে ফেরা কঠিন হবে। সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিসের চোখে বড় চ্যালেঞ্জ ফুটবলারদের ফিটনেস ফেরানো, ‘নতুন বাস্তবতায় ২০ দিন ট্রেনিং করে খেলতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে এটা কঠিন। এখন কম সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ফেরাতে হবে, এরপর ট্যাকটিক্যাল ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। তাই ফিটনেস প্রগ্রামটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বল্প সময়ে ফিটনেস ফেরাতে গিয়ে খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে চাপও দেওয়া যাবে না, আবার কম ট্রেনিংয়ে তাদের ইনজুরির ঝুঁকিও থাকে।’

যত ঝুঁকিই থাকুক ফুটবলাররাও সেসব এক পাশে সরিয়ে মাঠে ফেরাটা উপভোগ করতে চান। ফুটবলহীন জীবনে তাঁরাও বিষিয়ে গেছেন। তাই জাতীয় দলের কোচ জেমি ডেও সম্ভাব্য ইনজুরি শঙ্কা ঝেড়ে নিজের ফোকাসটা নিয়ে গেছেন নেপাল ম্যাচের দিকে, ‘নেপালও অনেক দিন পর ট্রেনিং শুরু করবে। এই মুহূর্তে প্রস্তুতি ও ফিটনেসের জায়গায় বাংলাদেশ ও নেপাল প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। আমাদের দলের কিছু ফুটবলার এখনই ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি, আবার কিছু আছে পারফরম করতে চার-পাঁচ ম্যাচ লাগবে। শেষ কথা হলো আমরা ভালো খেলতে পারলে তার ভালো ফল মাঠে মিলবে।’

একই জায়গায় দাঁড়ানো দুই দলের লড়াইকে নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অনেক স্বপ্ন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা