kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

অজুহাত দেওয়ারও মুখ নেই ওপেনারদের

সাইদুজ্জামান   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অজুহাত দেওয়ারও মুখ নেই ওপেনারদের

প্রেসিডেন্টস কাপের পাঁচ ম্যাচ নিয়ে হতাশার অনেকগুলো স্তর আছে। তবে শীর্ষে ওপেনিং জুটি। করোনা-পরবর্তী ক্রিকেট প্রত্যাবর্তনকালের প্রেসিডেন্টস কাপ কিংবা এরও আগে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। প্রেসিডেন্টস কাপের আগে অনুষ্ঠিত দুই দিনের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে তামিমকে বিশ্রাম দেওয়ার মূল কারণ অন্যদের একটু বাজিয়ে দেখা। প্রেসিডেন্টস কাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে সেই দেখার ফল শূন্য। অশ্বডিম্ব বলা ভালো, যখন স্কোরকার্ড দেখাচ্ছে ১০ ইনিংসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি মোটে ২৭ রান!

তামিম ইকবাল নিজে ওপেনার এবং ওয়ানডে দলের কাণ্ডারি। তাই প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনালে জায়গা পাওয়ার দুশ্চিন্তা ঠেলে তাঁকে পোড়াচ্ছে সব ওপেনারের দুর্দশা, ‘অবস্থা খুবই হতাশাজনক। এটা গোপন করার কিছু নেই। কেউ রান করছে না। প্রথম চার-পাঁচ ওভারে চার উইকেট পড়ে যাচ্ছে। এমন না যে এক-দুটি ম্যাচে এমনটা ঘটছে। সব ম্যাচেই এটা হচ্ছে। এমন অবস্থা থেকে বড় ইনিংস গড়া কঠিন। এ অবস্থার পুরো দায় অবশ্যই টপ অর্ডারের, বিশেষ করে ওপেনারদের।’

একজন ব্যাটসম্যানের ফর্মে নিম্নচাপ আঘাত হানতেই পারে। তাই বলে তিন দলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলা আট ওপেনার একসঙ্গে ফ্লপ মারবেন! ইনিংসের সূচনায় নেমে সর্বোচ্চ স্কোর তামিমের ৩৩। ওয়ানডেতে তাঁর উদ্বোধনী সঙ্গী লিটন দাসের সর্বোচ্চ ইনিংস ২৭ রানের। তাঁর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা সৌম্য সরকার কিংবা আন্ডারস্টাডি নাইম শেখ, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, এমনকি অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসও আশার আলো জ্বালতে পারেননি। পাঁচ ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ২০ ওপেনারের ইনিংস দুই অঙ্কই ছুঁয়েছে মাত্র সাতবার!

গামিনি ডি সিলভা ফেরেননি। তাই উইকেট খুব খারাপ। খুব আওয়াজ উঠেছে। কিন্তু ওপেনারকুলের শিরোমণি তামিম এটাকে অজুহাত মানতে নারাজ, ‘উইকেট খুব যে ভালো তা বলব না। আবার এমনও না যে উইকেটের কারণেই আমরা রান পাচ্ছি না। তিন দলে আমরা আটজন ওপেন করেছি। হাতে গোনা এক-দুটি বাদ দিলে সবাই বাজে আউট হয়েছে। আমি যেমন রুবেলের বলে এলবিডাব্লিউ হওয়া ছাড়া বাকি তিনটি ম্যাচেই নিজে আউট হয়েছি। খেয়াল করে দেখবেন, এই মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচে আমরা আরো কঠিন উইকেটে খেলি। বল ওঠে-নামে, হঠাৎ করে লাফায়। কিন্তু এখানে তেমন কিছু হচ্ছে না। উইকেট হয়তো একটু স্লো। কিন্তু বিপজ্জনক না। এর পরও আমরা রান পাচ্ছি না।’

অনভ্যাসের ব্যাপারটিকেও এমন বিয়োগান্ত ছবির প্রেক্ষিত বলে মনে করেন না তামিম, ‘কিছুটা... হয়তো। তবে উইকেটের মতো এই অনভ্যস্ততার ওপরও আমি দায় চাপাতে চাই না। ১৩ বছর ক্রিকেট খেলে ফেলেছি। এখনো যদি কোনো বাহানা খুঁজি, সেটা আমার অভিজ্ঞতার সঙ্গে যায় না। বাজে শট খেলে আউট হওয়াটা তো আর উইকেট কিংবা অনভ্যাসের দোষ নয়। আমি যতক্ষণ ক্রিজে থেকেছি, মনে হয়নি অনেক দিন ক্রিকেট খেলি না। ব্যাটে সুন্দর বল এসেছে। কিন্তু হঠাৎ আউট হয়ে গেছি। এমনও না যে বলটা আনপ্লেএবল ছিল। তার মানে সমস্যাটা আমার। এটার সমাধানও আমাকেই করতে হবে।’

সেই সমাধানের পথও বাতলে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘আমার বিশ্বাস প্রত্যেক পেশাদারের নিজস্ব মানসিক ছক আছে। আমি যেমন বুঝতে পারছি, আউট হচ্ছি নিজের দোষে। ছোট ছোট ভুলগুলো না করলে বড় রান করবই। হয়তো রিস্ক নেওয়া কমিয়ে দিয়ে চেষ্টা করব বড় ইনিংস খেলার। বড় ইনিংস আমাকে খেলতেই হবে। আমি আশা করব সবাই তার নিজের মতো করে বড় ইনিংস খেলার কথা ভাবছে এবং রানও করবে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটই বাংলাদেশ ক্রিকেটের যক্ষের ধন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রচারণার সেরা অবলম্বন। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ যেন হন্যে হয়ে খুঁজছেন তামিম, ‘এই ফরম্যাটে আমরা সবচেয়ে ভালো খেলি। তাই আবারও বলছি, উইকেট কিংবা অনভ্যাস খুব বড় বাধা নয়। বোলাররা ভালো করছে। তাই বলে এমন না যে ওদের খেলাই যাচ্ছে না। দায়টা আমাদের ব্যাটসম্যানদেরই। বিশেষ করে টপ অর্ডার শুরুতেই আউট হয়ে বাকিদেরও বিপদে ফেলে দিচ্ছি। দরকার হলে প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ২০ রান তুলি না কেন। তাহলে দেখবেন বড় ইনিংস হয়ে গেছে। বিশ্বের সেরা উইকেটেও শুরুতে বল মুভ করে। আমার বিশ্বাস একটু ধৈর্য ধরলে এই উইকেটে সেই সময়টা পার করে দিতে পারলে এই বোলারদের বিরুদ্ধেও ওপেনাররা ভালো করবে। ম্যাচের জন্যও এটা দরকার।’

আজ তামিমের দলের ফাইনালে জায়গা করার মরণ লড়াই। এক দিন পর কাপ জেতার ম্যাচ, ফাইনাল। জেগে ওঠার জন্য জ্বালানির কোনো অভাব নেই ওপেনারদের জন্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা