kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

আহা কী আনন্দ ফুটবলারদের

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আহা কী আনন্দ ফুটবলারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আট মাস পর ফুটবলাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ খেলবেন। ফুটবল মাঠে ফিরবে, সুবাদে মাঠের খেলা আবার আলোচনায় ফিরবে। এই আনন্দের সঙ্গে কোনো কিছুই তুলনীয় নয়। ফিটনেসের সমস্যা ও ইনজুরির শঙ্কা একপাশে সরিয়ে রেখে মাঠে ফেরার আনন্দটা উপভোগ করতে চান ফুটবলাররা।

করোনায় মাঠের ফুটবল উঠে গিয়েছিল টেবিলে। এ নিয়ে শুধু কথাবার্তাই হয়েছে এত দিন। এবার ফুটবল মাঠে ফিরছে আগামী ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। ঢাকায় শেষ ম্যাচটি হবে ১৭ নভেম্বর। যদিও ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র এখনো পাঠায়নি নেপাল। এর পরও জাতীয় দলের মিডফিল্ডার সোহেল রানার কাছে এর চেয়ে ভালো খবর হয় না, ‘অনেক দিন খেলার বাইরে থাকার পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলব, এই অনুভূতিটা দারুণ। আবার ফুটবল মাঠে ফিরব, এই আনন্দের সঙ্গে কিছুর তুলনা হয় না। তাই নেপালের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলার খবর আমার কাছে খুব ইতিবাচক।’ সর্বশেষ সেই মার্চে তাঁরা খেলেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ। ১৫ মার্চ ম্যাচ হওয়ার পর স্থগিত হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগ, এরপর লিগ বাতিলই করতে হয়েছিল। সব নেতিবাচক ঘটনার পর বসুন্ধরা কিংসের তপু বর্মণ ইতিবাচক আগামীর প্রত্যাশায় আছেন, ‘ম্যাচগুলোর খুব দরকার ছিল। আমরা ফুটবলার হয়ে আট মাস ধরে ম্যাচ খেলি না, এটা চিন্তা করলে খারাপ লাগে। আমাদের এএফসি কাপটাও বাতিল হয়ে গেল। তাই নেপালের সঙ্গে ম্যাচগুলো খুব ইতিবাচক। ফুটবলাররা ফুটবল খেলতে না পারলে কিছু থাকে!’

কিন্তু জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে ইনজুরির শঙ্কা দেখছেন নেপালের ম্যাচে। শেখ রাসেলের গোলরক্ষক আশরাফুল রানাও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছেন না, ‘ম্যাচ হওয়াটা ইতিবাচক, কিন্তু ট্রেনিং ক্যাম্প আরো দুই সপ্তাহ আগে শুরু করা গেলে হয়তো ইনজুরির ঝুঁকিটা কম থাকত। আমাদের কোচও চেয়েছিলেন আরো আগে ট্রেনিং শুরু করতে। এখন কোচ-খেলোয়াড় সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেল।’ দীর্ঘ বিরতির পর ফুটবলারদের ম্যাচে ফেরাতে কোচ চেয়েছিলেন ছয় সপ্তাহের ট্রেনিং ক্যাম্প। এখন সেটা হয়ে যাচ্ছে মাত্র তিন সপ্তাহের। কভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে আগামী ২৩ তারিখ ক্যাম্পে যোগ দিতে বলা হয়েছে ফুটবলারদের। কিন্তু মাঠে ফুটবল ফেরানোর জন্য সব চ্যালেঞ্জ নিতে রাজি সোহেল রানা, ‘আমরা দীর্ঘদিন প্র্যাকটিসে নেই। ম্যাচগুলো খেলতে গেলে ফিটনেসের সমস্যায় পড়ব, এটা জানি। কিন্তু কিছু করারও নেই, কোনো না কোনো জায়গা থেকে খেলা শুরু করতে হবে। তাই ঝুঁকি নিয়ে হলেও আমি ম্যাচ দুটি খেলতে রাজি।’

জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের মতো অন্যরাও সম্ভাব্য ইনজুরিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে মাঠে ফিরতে মরিয়া। আসলে ফুটবলহীন জীবন যেন বিষিয়ে গেছে তাঁদের। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণের যুক্তি, ‘খেলা না থাকলেও গত আট মাস জাতীয় দলের প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে ট্রেনিং করেছে। তা ছাড়া বসুন্ধরা কিংসে আমরা গত আট সপ্তাহ ভালো ট্রেনিং করেছি। অন্যদের জন্য একটু সমস্যা হলেও আমাদের ফিটনেস নিয়ে খুব সমস্যা হবে না আশা করি।’ সর্বশেষ জাতীয় দলের ক্যাম্পে বসুন্ধরা কিংসের ১৪ জন ডাক পেয়েছিলেন। এই মুহূর্তে তাঁরা ফিটনেসেও এগিয়ে। বাকিদের সেই মানে তুলে নেওয়াটা কোচের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই ম্যাচ ঢাকায় হলেও গোলরক্ষক আশরাফুল রানা নিজেদের এগিয়ে রাখতে পারছেন না, ‘সবার আত্মবিশ্বাস তলানিতে নেমে গেছে। পঞ্চাশ-পঞ্চাশ সম্ভাবনা।’ তবে সোহেল রানা চান জেতার জন্য মাঠে নামতে, ‘হারলে অনেক কথা হবে, তবে অজুহাত দেওয়ার কিছু থাকবে না। কষ্ট হলেও জেতার জন্যই নামতে হবে।’ তপুর বিশ্লেষণে, ‘নেপালি ফুটবলাররাও প্র্যাকটিসের বাইরে ছিল। তাই অত ভয়ের কিছু নেই।’ ডর-ভয়-ঝুঁকির পরোয়া না করেই খেলোয়াড়রা ফুটবলের ফেরাটা উপভোগ করতে চাইছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা