kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কিংসের হাত ধরে আরেক ইরানি

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিংসের হাত ধরে আরেক ইরানি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নাসের হেজাজি, ভিজেন তাহিরি, রেজা নালজেগার—বাংলাদেশ ফুটবলে সেরা বিদেশিদের নাম করলে ওপরের দিকেই থাকবেন এই তিন ইরানি। তাঁদের পথ ধরে বাংলাদেশ ফুটবলে নাম লেখালেন আরেক ইরানি খালেদ শাফিই। গতকাল বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসানের সঙ্গে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সেরে জানালেন বাংলাদেশ অপরিচিত নয় তাঁর কাছে, ‘ইরানের অনেকে খেলেছেন বাংলাদেশে। বসুন্ধরা কিংসের প্রস্তাব পাওয়ার পর আমি কথা বলেছি ভিজেন তাহিরির সঙ্গে। তাঁর কাছ থেকেই জেনেছি, দেশটা খুব সুন্দর। মানুষগুলোও আন্তরিক। এখানে মাত্র এক দিন আগে এলেও কিংসের সবাই আপন করে নিয়েছেন আমাকে।’

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন ভিজেন তাহিরি। সেই মৌসুমে লিগে ২৪ গোল করে স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি। ১৯৮২ সালে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৭ গোলের সালাম মুর্শেদীর রেকর্ডটা অল্পের জন্য ভাঙতে পারেননি তাহিরি। ১৯৮৭ ও ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে মোহামেডানের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ছিলেন ইরান জাতীয় দলের জার্সিতে আট ম্যাচ খেলা রেজা নালজেগার। সেই দুই মৌসুমে লিগ জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তাঁর।

তাহিরি ও নালজেগারের পাশাপাশি মোহামেডানের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে খেলা গোলরক্ষক নাসের হেজাজির নামও। ১৯৮৭ সালে তিনি এসেছিলেন কোচ কাম খেলোয়াড় হিসেবে। ১৯৮৭-র ৬ সেপ্টেম্বর লিগের শেষ ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামেন তিনি। আবাহনী জিতলে বা ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত। কিন্তু মোহামেডান ৩-২ গোলে জেতায় শিরোপা নির্ধারণের জন্য আয়োজন করা হয় দুই দলের প্লে-অফ ম্যাচের। ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাপক হাঙ্গামার পর প্লে-অফ গোলশূন্য ড্র হলে আবাহনী-মোহামেডান দুই দলের খেলোয়াড়রা নজিরবিহীনভাবে নিজেদেরই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন! বাফুফে সেই সিদ্ধান্ত মানবে কেন? নানা বিতর্কের পর আর্মি স্টেডিয়ামে দুই দল শূন্য গ্যালারিতে মুখোমুখি হয় ২৬ অক্টোবর। নাসের হেজাজির দল ২-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয় শিরোপা। মোর্তজা ও বোরহানজাদেহ নামের আরো দুই ইরানি সে সময় ছিলেন মোহামেডানে। আর হেজাজি কোচ ছিলেন ১৯৯২ পর্যন্ত।

পূর্বসূরিদের দেখানো পথে এশিয়ান কোটায় বসুন্ধরা কিংসে এবার এলেন বাঁ পায়ের লেফট সেন্টারব্যাক খালেদ শাফিই। ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রথম ইরানি ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন তিনি কে লিগের দল এফসি সিউলে। গত মৌসুমে খেলেছেন পার্সিয়ান গালফ প্রো লিগের (ইরানের শীর্ষ লিগ) দল সেপাহানে। কিংসের হয়ে শিরোপা জেতাই লক্ষ্য তাঁর, ‘আমি জেনেছি কিংস বাংলাদেশের বড় ক্লাব। এটা আমার নতুন চ্যালেঞ্জ। আশা করছি ক্লাব আর আমি মিলে ভালো কিছুই করতে পারব।’

মন্তব্য