kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পদক জিতে মান রাখলেন বাকী

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পদক জিতে মান রাখলেন বাকী

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শ্যুটিং রেঞ্জে পিনপতন নীরবতা। যাঁর যাঁর রাইফেলের সামনে আব্দুল্লাহেল বাকী ও আতকিয়া হাসান গভীর ধ্যানে মগ্ন। পেছনে দর্শকদের আসন একটাও ফাঁকা নেই। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পূর্ণ আবহই তাতে। ব্যতিক্রম বলতে বাকি প্রতিযোগীদের দেখা যাচ্ছে একটা ডিজিটাল স্ক্রিনে। তাঁরা নিজ নিজ দেশের রেঞ্জ থেকে যুক্ত। শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক অনলাইন শ্যুটিংয়ের এ আসরে শেষ পর্যন্ত একটি ব্রোঞ্জ জিতে দেশের মান রেখেছেন বাকী।

করোনায় দীর্ঘদিন রাইফেল হাতে নিতে পারেননি শ্যুটাররা। মাসখানেকও হয়নি তাঁরা রেঞ্জে ফিরেছেন। এর মধ্যেই তাঁদের প্রতিযোগিতার স্বাদ দিতে শ্যুটিং ফেডারেশন আয়োজন করে সাত দেশের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। করোনার কারণেই অনলাইন আসরের ধারণাটা তৈরি হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকেই আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা হয়েছে। শ্যুটিংয়ের এ আসরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ভারত, জাপান, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার নামকরা সব শ্যুটারের অংশগ্রহণে। মেয়েদের ১০ মিটারে বর্তমান ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান ভারতের ইলাভেনিল ভালারিভান অংশ নিয়েছেন। অন্যদের কোনো সুযোগ না দিয়ে তামিলনাড়ুর ২১ বছর বয়সী এই শ্যুটারই জিতে নিয়েছেন প্রথম পুরস্কার। ৬২৭ স্কোর করেছেন ইলা। আতকিয়া ৬১৬.৪ স্কোর করে ছয়জনের মধ্যে হয়েছেন পঞ্চম।

অনলাইন ইভেন্ট বলেই ৬০ শটের স্কোরেই ফল নির্ধারণ করা হয়েছে। আলাদা করে আর কোনো ফাইনাল হয়নি। বাকী ৬০ শটে ৬১৭.৩ স্কোর করে জিতেছেন ব্রোঞ্জ। এই ইভেন্টে জাপানের নায়ো ওকাদা সোনা জিতেছেন ৬৩০.৯ স্কোর করে। ৬২৩.৮ মেরে রুপা জিতেছেন ভারতের তুষার মানে। অনলাইনে এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রযুক্তিগত যে চ্যালেঞ্জ ছিল, তা সফলভাবেই উতরেছে শ্যুটিং ফেডারেশন। শুধু তুষার যান্ত্রিক জটিলতায় নির্দিষ্ট সময়ে শ্যুটিং শুরু করতে পারেননি। প্রতিটি শ্যুটারের জন্যই তাঁর নিজস্ব রেঞ্জে একজন করে জাজ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানেই তুষার পরে বাড়তি সময় নিয়ে ৬০ শট শেষ করেন। বাকী নিজে অনলাইনের তেমন পার্থক্যই নাকি ধরতে পারেননি, ‘আসলে আজ পুরো শ্যুটিং রেঞ্জের পরিবেশ যেমন ছিল, এমনটা আমরা শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সময়ই পাই। আমার তাই মনেই হয়নি অনলাইনের বিষয়টা। একই রকম চাপ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুভব করেছি। কতটা তাতো বুঝতেই পারছেন, না হলে হয়তো স্কোরটাও আরো ভালো হতো।’ অনুশীলনেও নাকি ৬২২, ৬২৩ মারছিলেন তিনি। সেটা প্রতিযোগিতায় থাকলে ব্রোঞ্জটা রুপাও হতে পারত। বেশি খারাপ করে ফেলেছেন দ্বিতীয় সিরিজে। একটা শট ৮- মারেন। সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটা সহজ ছিল না। তবে দীর্ঘদিন পর শ্যুটিংয়ে ফিরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারাটাকেও বড় করে দেখছেন তিনি, ‘সেই এসএ গেমসের পর আবার একটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দাঁড়ালাম। করোনা না থাকলে তো এই সময়ে আরো অনেক টুর্নামেন্টই খেলার সুযোগ হতো। আশা করি, এই আসরটি দিয়েই আমরা আবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক হয়ে যেতে পারব।’

অলিম্পিকের আগে আগামী বছর তিনটি বিশ্বকাপ শ্যুটিং আছে। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ জানিয়েছেন সেগুলো স্থগিত না হলে অবশ্যই বাংলাদেশ তাতে অংশগ্রহণ করবে। শেখ রাসেল আন্তর্জাতিক শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপটাকেও ধারাবাহিকভাবে করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি, ‘শ্যুটিংয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করলাম আমরা। চাইব এই ধারবাহিকতা যেন থাকে। এক মাসও পুরো হয়নি আমাদের অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। এর মধ্যেই আমরা এই টুর্নামেন্টটা করলাম। আরো অনেক কিছুই করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’ অনলাইন এই প্রতিযোগিতায় সোনাজয়ী এক হাজার ডলার, রুপাজয়ী ৭০০ ও ব্রোঞ্জজয়ী শ্যুটার ৫০০ ডলার করে অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন।

মন্তব্য