kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ফুটবলারদের ইনজুরি শঙ্কায় জেমি ডে

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবলারদের ইনজুরি শঙ্কায় জেমি ডে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাফুফের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলছে না জেমি ডের ফুটবল চিন্তা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যখন আগামী মাসের মাঝামাঝি নেপালের সঙ্গে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছে, তখন জাতীয় দলের কোচ দুশ্চিন্তা করছেন ফুটবলারদের সম্ভাব্য ইনজুরি নিয়ে। আট মাস বিরতির পর পর্যাপ্ত ট্রেনিং না করে ম্যাচ খেলতে নামলে ইনজুরির শঙ্কা থাকবেই।

পরশু হঠাৎ করে শোনা গেছে, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ-নেপালের দুটি প্রীতি ম্যাচের কথা। এখনো শতভাগ চূড়ান্ত না হলেও বাফুফের প্রস্তাবে মৌখিক সম্মতি দিয়েছে অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। নভেম্বরের ১১ থেকে ১৯ তারিখের ফিফা উইন্ডোতে নেপাল ঢাকায় এসে দুটি ম্যাচ খেলার জন্য তাদের সরকারের অনুমতি নিয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে ট্রেনিংও শুরু করবে তারা। অথচ বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানেন গতকাল দুপুর পর্যন্ত। প্রধান কোচ জেমি ডে ইংল্যান্ডে বসে নেপালের সঙ্গে ম্যাচের খবর শুনেছেন, ‘আমি নেপালের সঙ্গে ম্যাচ খেলার কথা শুনেছি, এখনো বোধ হয় চূড়ান্ত হয়নি কিছু। তবে ফুটবল ফেডারেশন কিছু জানায়নি আমাকে।’ এরপর এই ইংলিশ কোচ নিজের মতামত জানিয়ে দেন স্পষ্ট করে, ‘এই মুহূর্তে কোনো ম্যাচ চাই না আমি, কারণ ফুটবলারদের এখন ট্রেনিং ক্যাম্প খুব দরকার ফিটনেস ফেরানোর জন্য। তারা দীর্ঘ আট মাস ট্রেনিংয়ের বাইরে আছে, তাই মাত্র দুই সপ্তাহ ট্রেনিং করে ম্যাচ খেলতে নামা যাবে না।’

আমি নেপালের সঙ্গে ম্যাচ খেলার কথা শুনেছি, এখনো বোধ হয় চূড়ান্ত হয়নি কিছু। তবে ফুটবল ফেডারেশন কিছু জানায়নি আমাকে।

করোনায় গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ দেশে ফুটবল বন্ধ। এর পর থেকে ফুটবলাররা মাঠের বাইরে। গত আগস্টে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ক্যাম্প শুরু করতে গিয়েও পারেনি, ১৮ জন ফুটবলারের শরীরে ধরা পড়েছিল কভিড সংক্রমণ। বিশ্বকাপ বাছাই স্থগিত হয়ে যাওয়ায় রক্ষা হয়েছিল। বাফুফের নতুন উদ্যোগে নেপালের সঙ্গে ম্যাচ নভেম্বরে। ১৫ তারিখ ম্যাচ ধরলে হাতে সময় মাত্র এক মাস। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের কভিড পরীক্ষা আর কোচ-ফিজিওর দেশে ফিরতে চলে যাবে আরো দুই সপ্তাহ। অর্থাৎ ট্রেনিং ক্যাম্পের সময় থাকবে মাত্র ১৫ দিন। আর এই দুই সপ্তাহ ট্রেনিংয়ের পুঁজি নিয়ে ম্যাচ খেলতে নামলে কোচ বিপদ দেখছেন, ‘খেলোয়াড়রা এখন যে অবস্থায় আছে তাদের ম্যাচ খেলতে নামার আগে অন্তত ছয় সপ্তাহ ট্রেনিং দরকার। এর কম হলে তাদের ইনজুরিতে পড়ার শঙ্কা থাকবে। অথচ সামনে তাদের পুরো মৌসুম পড়ে আছে। তাই খুব ভেবে-চিন্তে ম্যাচের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’ আগামী ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে নতুন ফুটবল মৌসুম। তাই ট্রেনিংয়ের ঘাটতি নিয়ে ফুটবলাররা জাতীয় দলের ম্যাচ খেললে ইনজুরির শঙ্কা থাকবে এবং ভোগান্তিতে পড়বে তাদের ক্লাবগুলোও।

এগুলো আধুনিক ফুটবল কোচিং বুকের তত্ত্ব। এসব চিন্তা করে জেমি ডে আরো আগে ট্রেনিং শুরু করতে চেয়েছিলেন, ‘আমার মতামত আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম ফেডারেশনকে। এখন যে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, তা আমার নয়।’ অর্থাৎ ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাফুফের। কোচ চেয়েছিলেন আগে ট্রেনিং শুরু করে ফুটবলারদের ম্যাচ খেলার ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে। এমনকি অক্টোবরের উইন্ডোতেও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ দাবি করছেন, ‘আগেও কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, তারা কেউ খেলতে রাজি হয়নি। তাই ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু করা হয়নি। এখন নেপাল রাজি হয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যে তাদের লিখিত সম্মতি পেয়ে যাব আশা করি। খেলোয়াড়দের ইনজুরির যে শঙ্কা সেটা নেপালেরও আছে, তারাও তো ট্রেনিংয়ে ছিল না। অনেক দিন পর খেলার সুযোগ এসেছে, কোনো রকমে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে।’ স্পষ্টতই খেলোয়াড়দের সম্ভাব্য ইনজুরি খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না বাফুফে সম্পাদকের কাছে। হঠাৎ করেই বাফুফে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, ‘এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের ট্রেনিং ক্যাম্প শুরুর ব্যাপারগুলো চূড়ান্ত করে ফেলব। আগামীকাল (আজ) কোচের সঙ্গে জুম মিটিং হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা