kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পেরেজের প্রাসাদটা এখন শুমাখারের

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পেরেজের প্রাসাদটা এখন শুমাখারের

আবারও জাগবেন তো মাইকেল শুমাখার? হাসবেন প্রাণ খুলে, স্কি করবেন বরফঢাকা কোনো পাহাড়ে? আল্পসে স্কি করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২০১৩ সাল থেকেই ‘কোমায়’ তিনি। রেকর্ড সাতবারের ফর্মুলা ওয়ান জয়ী এই কিংবদন্তির জেগে ওঠার খুব কম সম্ভাবনা দেখছেন বিখ্যাত ডাক্তাররা। তাতে বয়েই গেছে শুমাখারের স্ত্রী কোরিনার। সুখের দিনে যেমন ছিলেন স্বামীর পাশে, কঠিন এই সময়েও আছেন ছায়া হয়ে।

শুমাখারের জীবন হয়তো ঘরবন্দি, তবে তাতেও বৈচিত্র্য আনতে স্পেনের মায়োরকায় কোরিনা কিনেছেন একটি বিশাল অট্টালিকা। রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ মালিক ছিলেন এটার। স্ত্রী মারিয়া অ্যাঞ্জেলসের মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে এটা বিক্রি করে দেন পেরেজ, যা ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনেন কোরিনা। মায়োরকার দৈনিক ‘দিয়ারিও দ্য মায়োরকা’ ও কাতালান দৈনিক ‘লা ভেনগুরাদিয়া’ নিশ্চিত করেছে, কোরিনা কিছুদিন আগে শুমাখারকে নিয়ে উঠেছেন সেখানে। এই অট্টালিকায় আছে একটি হেলিপ্যাড, দুটি সুইমিং পুল, বিশাল বাগান, অতিথিদের জন্য আলাদা বাসভবন। শুমাখারের চিকিৎসায় সেখানে ছোটখাটো একটা হাসপাতালও গড়ে তুলেছেন তাঁর স্ত্রী।

শুমাখারের স্বাস্থ্যের খবর শুরুতে জানানো হচ্ছিল পরিবারের পক্ষ থেকে। কয়েক মাস পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সব। ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা অবশ্য দেখা করে এসে হতাশার খবর দেন মাঝেমধ্যে। ফর্মুলা ওয়ানের সাবেক প্রধান ফ্লাভিয়ো ব্রিয়াতোরের সাবেক স্ত্রী গ্রিগোরাসি ইতালিয়ান ‘বিগ ব্রাদারে’ কিছুদিন আগে জানান, ‘শুমাখার কথা বলতে পারেন না। যা বলার চোখের ভাষাতেই বলেন। কেবল তিনজনের অনুমতি আছে তাঁর সঙ্গে দেখা করার। আমি জানি কে তাঁরা।’

বিখ্যাত নিউরোসার্জন এরিচ রেইদেরারও একই কথা বলেছেন গত সপ্তাহে, ‘আমার মনে হয় শুমাখারের অবস্থা এখন গাছপালা বা উদ্ভিদ জাতীয়। এর অর্থ তিনি জেগে আছেন, কিন্তু সাড়া দিতে পারছেন না। শুমাখার নিঃশ্বাস নিচ্ছেন, হৃদযন্ত্রও কাজ করছে। হয়তো কারো সাহায্যে বসতে পারেন, দুই-এক পা হাঁটতেও পারেন। এর বেশি কিছু না। প্রশ্ন হচ্ছে দুর্ঘটনার আগের স্বাভাবিক জীবনে কি ফিরতে পারবেন শুমাখার? আমার সেটা মনে হয় না।’

গত সপ্তাহে রাশান গ্রাঁপ্রি জিতলে লুইস হ্যামিল্টন ভাগ বসাতেন শুমাখারের ৯১টি ফর্মুলা ওয়ান রেস জয়ের রেকর্ডে। তৃতীয় হওয়ায় অপেক্ষা বেড়েছে তাঁর। শুমাখারের ছেলে মিক আগাম শুভ কামনা জানিয়ে রাখলেন হ্যামিল্টনকে, ‘বাবা সব সময় বলতেন, রেকর্ড ভাঙার জন্যই। হ্যামিল্টন অসাধারণ ড্রাইভার। তাঁর জন্য শুভ কামনা।’

হ্যামিল্টনের হাতে নিজের মুকুট তুলে দিতে পারলে সবচেয়ে খুশিই হতেন শুমাখার। সেই সুযোগটা আসবে তো এই কিংবদন্তির জীবনে? দিয়ারিও দ্য মায়োরকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা