kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশ গেমস নতুন ছকে

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ গেমস নতুন ছকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৩১টি ডিসিপ্লিন, প্রায় ১০ হাজার অ্যাথলেটের মিলনমেলা। করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বাংলাদেশ গেমসের কথা ভাবাই যায় না। তবে এখন ‘নিও নরমাল’ নিয়মে সব কিছুই আসলে চলছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভাবছে সেভাবে বাংলাদেশ গেমসও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এক জায়গায় হাজার হাজার অ্যাথলেটের সম্মিলন হবে না, এক শহরেও হবে না সব খেলা—এমন নতুন ফর্মুলা নিয়েই আগামী ফেব্রুয়ারিতে নবম বাংলাদেশ গেমস মাঠে গড়ানোর আশা।

কাল এই ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব আশিকুর রহমান বলছিলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় দুটি উপায়ে গেমস আয়োজনের কথা ভেবেছি। প্রথমত, সবগুলো ডিসিপ্লিনের খেলা একযোগে আয়োজন না করা। চার-পাঁচ দিন করে করে হয়তো চারটি করে ডিসিপ্লিন আয়োজন করব। আর কিছু খেলা ঢাকার বাইরে অন্য কোনো বিভাগীয় শহরে আয়োজন করতে পারি। সে ক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেক অ্যাথলেটের চাপ সামলাতে হচ্ছে না আমাদের। স্বাস্থ্যবিধিও মানা সম্ভব।’ এই ফর্মুলা নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে, অর্থাৎ মুজিববর্ষেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের ব্যাপারে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। সভাপতির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই বিওএর পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গেমস আয়োজনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। শাহেদ রেজাও আশাবাদী মুজিববর্ষের মধ্যেই গেমস আয়োজনের ব্যাপারে, ‘করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে তো এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব না। তবে সবার সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি, কিভাবে কী করা যায় সে ব্যাপারে। আমরা আশা করছি, মুজিববর্ষের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসটা করব। সভাপতির কাছে সময় চেয়েছি। উনার সঙ্গে বসেই এটা আমরা ঠিক করতে পারব।’

ফেডারেশনগুলোও ইতিবাচক খবরের আশায় আছে। বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামও বলছিলেন নতুন আঙ্গিকে গেমস আয়োজনের সম্ভাবনার কথা, ‘এটা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে ধাপে ধাপে এবং ঢাকার বাইরেও কয়েকটি ভেন্যুতে গেমস আয়োজন সম্ভব।’ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলাধুলা আয়োজনের অনুমোদন দেওয়ার পর ডিসেম্বরে বিজয় দিবস বক্সিং টুর্নামেন্টেরও পরিকল্পনা করছেন তিনি। জানিয়েছেন পরিস্থিতির আরেকটু উন্নতি হলে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপটাও করে ফেলবেন। বাংলাদেশ গেমসের জন্য বসে না থেকে অ্যাথলেটিকসও জাতীয় মিটের সূচি ঘোষণা করেছে, নভেম্বরে জুনিয়র ও জানুয়ারিতে হবে সিনিয়র প্রতিযোগিতা। আর্চারিতে অলিম্পিকের ক্যাম্প শুরু হয়েছে আগেই, ডিসেম্বরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনা তাদেরও। ভলিবলে প্রিমিয়ার লিগের ১০টি ক্লাব নিয়ে আগামী মাসেই হবে বঙ্গবন্ধু কাপ। টেবিল টেনিস প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থগিত হয়ে যাওয়া লিগ আয়োজনের, হ্যান্ডবলে ডিসেম্বরে হবে ফেডারেশন কাপ। এ বছরের মধ্যে জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা কারাতে, ভারোত্তোলন, বাস্কেটবলেও।

তা ছাড়া আগামী জানুয়ারিতে ঢাকায় বসছে জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির আসর। তাতে এ বছরের শেষ নাগাদ ক্রীড়াঙ্গন আবার সচল হয়ে ওঠার আশা। তাতে গেমস আয়োজনেরও একটা পরিবেশ তৈরি হবে। গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল যা। সব প্রস্তুতি শেষ করেও করোনার হানায় থমকে যেতে হয়েছে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা