kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাঠের বাইরের জীবনও কঠিন

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠের বাইরের জীবনও কঠিন

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রযুক্তির এই যুগে হাজার মাইল দূরে থেকেও দিব্যি পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা যায়। যায় বলেই লম্বা বিদেশ সফরও এখন আর আগের মতো ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে না বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য। ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশে থাকা স্ত্রী, সন্তান ও বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য পেয়ে থাকেন তাঁরা। কিন্তু এখন তো মমিনুল হকরা দেশেই আছেন। তবু যেন বিদেশে থাকার মতো করেই যোগাযোগে ভরসা সেই ফোন ও ভিডিও কল!

বায়ো-বাবল বা জৈব নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়ামাত্রই যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন তাঁরা। গত ২০ সেপ্টেম্বর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ওঠার পর থেকেই তাঁদের জীবন সীমিত হয়ে পড়েছে নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরে। অনুশীলনের জন্য মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যেতে হচ্ছে। তবে এর বাইরের সময়টা বন্দি থাকতে হচ্ছে হোটেলেই। তাও আবার নির্দিষ্ট একটি ফ্লোরেই নিয়ন্ত্রিত তাঁদের গতিবিধিও। নিজের এবং সতীর্থদের সুস্থতার জন্য এটিই সেরা উপায় বলে মেনেও কেউ কেউ এরই মধ্যে যে এই জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছেন, তরুণ ক্রিকেটার নাজমুল হোসেনের (শান্ত) কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘এত সিকিউরিটির (বায়ো-বাবল) মধ্যে থাকতে ভালো লাগে না।’

ভালো না লাগলেও মাঠের বাইরের কঠিন এই জীবনেই অভ্যস্ত হতে হবে লম্বা সময়ের জন্য। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, শ্রীলঙ্কা সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জাতীয় দলের স্কিল ক্যাম্প চলবে। আপাতত ৩ অক্টোবর দলকে শ্রীলঙ্কা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। ওই সময়েই যাওয়া চূড়ান্ত হলে দেশ ছাড়ার আগেই দুই সপ্তাহের কঠিন জীবন পার করা হয়ে যাবে ক্রিকেটারদের। এরপর শ্রীলঙ্কা পর্ব তো রয়েছেই। যেটিও এর আগের আর দশটি বিদেশ সফরের মতো নয়। আগে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এবার সেই সুযোগ নেই। আবার শ্রীলঙ্কায় কোয়ারেন্টিনের কঠিন নীতিমালায় সফর অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার ঘটনা আগাম জানিয়ে দিচ্ছে, সেখানেও মাঠের বাইরের কঠিন জীবনই অপেক্ষায়। ছাড় বলতে শুধু মাঠে গিয়ে অনুশীলন করার অনুমতি মিলতে পারে। না হলে আর কোথাও বের হওয়া যাবে না। না একটু ঘুরতে, না একটু কোথাও খেতে।

বিদেশ সফরে এভাবেই অভ্যস্ত জীবন বদলে ফেলার সেই মহড়াও এবার দেশেই হয়ে যাচ্ছে। তরুণ নাজমুলের কাছে তা যেমন দুঃসহ লাগছে, ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালেরও অনুভূতি একই রকম, ‘এর ভেতরে (বায়ো-বাবল) যে নেই, সে কখনোই বুঝতে পারবে না এটা কতটা কঠিন।’ তবে নিজ পেশার স্বার্থে তা মেনে না নিয়েও উপায় নেই। হোটেলবন্দি হয়ে থাকার সময়টি তাই নিজেদের মতো করে উপভোগের চেষ্টাও করছেন তামিমরা, ‘এই তো ক্যারম খেলছি, টেবিল টেনিস খেলছি। সময় কেটে যাচ্ছে আর কি!’ সেই সঙ্গে চলছে আরো লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরের কঠিন জীবনে মানিয়ে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও। যে জীবনে কোনো ধরনের সামাজিক সংস্পর্শই অনুমোদিত নয়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা