kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বীরত্বগাথায় বেঁচে থাকবেন নওশের

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বীরত্বগাথায় বেঁচে থাকবেন নওশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল হলো দেশের স্বাধীনতার এক বটবৃক্ষ। এই বয়সী বৃক্ষে পাতা ঝরা শুরু হয়েছে আগেই। পরশু আরেকটি ঝরাপাতা হয়ে নওশেরুজ্জামান ছুটি নিলেন জীবন থেকে। তবে দেশের মুক্তিসংগ্রামের বীরত্বগাথায় থাকবেন অমর হয়ে।

তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থতার খবর পেয়ে এই বীর ফুটবলযোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেও পারেননি নওশেরের চলে যাওয়া ঠেকাতে। প্রধানমন্ত্রী ব্যথিত হৃদয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। জানাজা শেষে তাঁর প্রিয় মাঠ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে তাঁকে শেষবিদায় জানিয়েছেন তাঁর খেলার সাথিরা। সেখানে তাঁর প্রিয় মোহামেডান ক্লাব, ফুটবল ফেডারেশনসহ অনেক সংগঠন নওশেরুজ্জামানকে শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছে। সাদা-কালো জার্সিতে ফুটবল-ক্রিকেট দুটিই খেলেছেন। ওয়ারী, ফায়ার সার্ভিস, ওয়াপদা, ভিক্টোরিয়া, মোহামেডান ও ওয়ান্ডারার্সে খেলে তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেন ১৯৮০ সালে। তবে প্রথম বিভাগে ক্রিকেট খেলে গেছেন ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। খেলার সুবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’-এর সম্মান পেয়েছেন।

খেলার মাঠের সাথি গোলাম সারোয়ার টিপুর চোখে ভাসে নওশেরের আমুদে স্বভাবটা, ‘সব সময় হাসিখুশি ও ফুর্তির মধ্যে থাকত সে। তার গানের গলাটা ভালো ছিল, খেলা না থাকলে গান আর আড্ডায় মেতে থাকত। ১৯৭৫ সালে কায়কোবাদ ভাইয়ের বিয়েতে দেখেছি, তার কী উৎসাহ। এ রকম আমুদে চরিত্র আর হবে না।’ আর খেলার মাঠে? ‘সে ছিল চমৎকার স্ট্রাইকার। তার শরীরের একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল, দুদিন ট্রেনিং না করলেই ওজন বেড়ে যেত। এটা পরিবারিকভাবে পাওয়া। ১৯৭২ সালে ওয়াপদার হয়ে সে দারুণ খেলছিল, সে বছর তো লিগ শেষ হয়নি, তবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নওশেরই গোলের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল। পরের দুই বছরও ওয়াপদায় সে দুর্দান্ত খেলেছে এক স্কটিশ কোচের অধীনে। ওই পারফরম্যান্স দেখেই তাকে নিয়ে আসে মোহামেডান’—বলেছেন সাবেক তারকা টিপু।

খেলার মাঠের এত কীর্তিকে পেছনে ঠেলে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে দেখতেন যুদ্ধে যাওয়াকে। ফুটবল খেলে অন্য রকম এক যুদ্ধ। তাইতো স্বাধীন বাংলা দলের স্বীকৃতি না পাওয়ার আক্ষেপও তাঁর ছিল ভীষণ। বলতেন, ‘আমাদের কাজ আমরা করেছি, বাকিটুকু রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ রাষ্ট্রও নওশেরের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়ে পারেনি করোনার হাত থেকে তাঁকে বাঁচাতে। সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে চলে যাওয়া মুক্তিসংগ্রামের এই ফুটবলযোদ্ধাকে বীরের মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে দাফন করা হয় মতলবে বদরপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। এ সময় মন্ত্রিপরিষদসচিব আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও মতলবের নির্বাহী কর্মকর্তা স্নেহাশীষ ঘোষ প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা