kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সময় শিখিয়েছে মাহমুদকে

সাইদুজ্জামান   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সময় শিখিয়েছে মাহমুদকে

আপনি যদি টেস্ট ক্যাপ্টেন হতেন, মাহমুদ উল্লাহকে শ্রীলঙ্কায় নিতেন?

খুব বেশি সময় নেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘অবশ্যই। অন্যরা কী ভাবে জানি না। তবে ওকে আমি ছয় নম্বরে খেলাব, যাতে বিপর্যয়ের সময় হাল ধরতে পারে। দল যদি ৪ উইকেটে ৩৫০ রান করে ফেলে, তবে রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) রান করল কি করল না, কিচ্ছু যায়-আসে না। রিয়াদ আমার কাছে ক্রাইসিস ম্যান।’

ক্রিকেট থেকে আপাতত দূরে থাকা মাশরাফির এই ক্রাইসিস ম্যান এখন নিজেই প্রবল ঝুঁকিতে আছেন! ভেতরের যা খবর, তাতে শ্রীলঙ্কাগামী টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা হারানোর পথে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট ছেড়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে মনোনিবেশ করতে। আধুনিক যুগে যা হয় আর কি, মাহমুদ টেস্টেও চালিয়ে খেলতে লাগলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের পর থেকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে টেস্টের বিবেচনা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার শুরু। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজ সেটির মাইলফলক হতে যাচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে ৫০তম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা মাহমুদ উল্লাহ অবশ্য চারপাশের এমন আলোচনা শুনে হাসেন, ‘এসব আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। যা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে ভাবি না। বলতে পারেন বয়স বাড়ার এটা সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। চুলে পাক ধরেছে বলেই এখন হয়তো এ বিষয়গুলো ভালো বুঝতে পারি (হাসি)!’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কখনোই লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়নি তাঁকে। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে খুব খারাপ না করলেও লম্বা লে অফে যেতে হয়েছে মাহমুদকে। একটা সময় নিয়মিত হলেও সংশয়ের মেঘ তাঁর মাথার ওপর থেকে কখনোই সরেনি। ‘অন্তত চার-পাঁচবার এমন হয়েছে যে আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারই হয়তো শেষ। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি ফিরে এসেছি। ওপেন ছাড়া সব পজিশনেই খেলেছি! তাই আমি আমার চেষ্টা করে যাব, থামব না’, চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা মাহমুদের।

৪৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে তাঁর গড় ৩১.৭৭। ১৬ ফিফটির বিপরীতে সেঞ্চুরি মাত্র চারটি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্টই চলনসই। তিনি আবার ব্যাটিংয়ে নামেন এমন একটা সময়ে যখন পাশে থাকেন মূলত টেল এন্ডাররা। টেস্ট ক্যারিয়ারই শুরু হয়েছিল লোয়ার অর্ডারে। প্রথম পাঁচটি টেস্টই খেলেছেন ৮ আর ৯ নম্বরে। প্রথম সেঞ্চুরিটা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে ৮ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে।

সময় গেছে, মাহমুদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে দলে গুরুত্বও বেড়েছে। তাই একটা সময় পছন্দের মিডল অর্ডারে জায়গা পেলেও টিম কম্বিনেশনের কারণে লোয়ার মিডল অর্ডারেই ফিরে যেতে হয়েছে মাহমুদকে। মাশরাফির কাছে অবশ্য তিনি ‘পারফেক্ট সিক্স’, ‘রিয়াদের চারে ব্যাট করারও সামর্থ্য আছে। কিন্তু মুশফিক ওর আগে। ছয়ে রিয়াদের ওপর আমার ফুল কনফিডেন্স থাকবে।’ আরেকটা যুক্তিও মাহমুদের পক্ষে দাঁড় করিয়েছেন মাশরাফি, ‘ওর অভিজ্ঞতা আমার কাছে অমূল্য। রিয়াদ আমার টেস্ট দলে থাকবে, সেটা সাকিবের উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতিতে হলেও।’

নিজের উন্নতির ভাবনায় আচ্ছন্ন মাহমুদ অবশ্য অত যুক্তির ধার ধারেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্র্যাকটিসের অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই দীর্ঘ সময় নেট করছেন। রুটিনে ৪৫ মিনিট থাকলেও আগে এসে বাড়তি সময় ব্যাটিং করছেন তিনি। শরীরটাকে নিংড়ে দড়ি দড়ি করে ফেললেও অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ‘পাওয়ার’ অনুভব করছেন মাহমুদ, ‘বিশ্বাস করবেন না, অনেক বেশি শক্তিশালী মনে হয় নিজেকে। দারুণ ব্যাটিং করছি।’

কিন্তু শুনলাম টেস্ট বিবেচনায় আপনি নেই!

‘জীবনটাকে এখন অন্যভাবে দেখি। ক্রিকেট উপভোগ করি নিজের জন্য। এরপর কী হলো না হলো, আর ভাবি না’, মাহমুদ উল্লাহর এ হাসিতে কোনো আক্ষেপ নেই, সবটাই আত্মবিশ্বাস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা