kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

কর্তাদের দ্বন্দ্বে বিপাকে শ্যুটাররা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্তাদের দ্বন্দ্বে বিপাকে শ্যুটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শ্যুটারদের অলিম্পিক ক্যাম্প শুরু হবে, কিন্তু তাঁরা যে রাইফেল-পিস্তলহীন নিধিরাম সর্দার! তিন বছর যে অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছেন, পদক জিতেছেন, তাঁদের সেসব অস্ত্র এখন আর ব্যবহারের অনুমতি নেই। পদক জেতানো অস্ত্রগুলো পড়েছে ট্যাক্সের ফাঁদে। তাই চার শ্যুটারের প্রশ্ন, অলিম্পিকের ক্যাম্পে কোন অস্ত্র দিয়ে প্রস্তুতি নেবেন তাঁরা?

ছয় শ্যুটারকে নিয়ে বিকেএসপিতে অলিম্পিক ট্রেনিং শুরু হওয়ার কথা গত ১২ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে জাকিয়া সুলতানা ও আনোয়ার হোসেন ছাড়া বাকি চার শ্যুটার বিপাকে পড়েছেন অস্ত্র নিয়ে। আবদুল্লাহ হেল বাকী, শাকিল আহমেদ, সৈয়দা আতকিয়া হাসান ও রিসালাতুল ইসলাম চার বছর ধরে ব্যবহার করা অস্ত্রগুলো দিয়ে ট্রেনিং করতে পারবেন না। ২০১৭ সালে অস্ত্রগুলো জার্মানি থেকে এনেছিলেন তাঁরা উপহার হিসেবে। তিন বছর পর আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে সেগুলো ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। দুই মাসেও ব্যাপারটার কোনো সুরাহা হয়নি। তাই এখনো রাইফেল হাতে রেঞ্জে দাঁড়াতে পারেননি শ্যুটাররা। গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের রুপাজয়ী শ্যুটার বাকী তাই হতাশ, ‘আমাদের অস্ত্রগুলো ব্যবহারের আপৎকালীন একটা অনুমতি আনলেও হতো। সেটাও করেনি ফেডারেশন। এখন বলছে, আমাদের ক্লাব থেকে অন্য অস্ত্র এনে ট্রেনিং করতে হবে। অন্য কোনো রাইফেল দিয়ে ট্রেনিং শুরু করলে আমরা খুব বিপদে পড়ে যাব। সবই নতুন করে শুরু করতে হবে। একটা রাইফেলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে।’

শ্যুটাররা এরই মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বিওএ মহাসচিবকে জানিয়েছেন তাঁদের সমস্যার কথা। কিন্তু ফেডারেশন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপুর বক্তব্য, ‘কখন এই ক্যাম্প ডাকা হয়েছে, সেটা আমিও জানি না। শ্যুটাররা বলার পর আমি জানতে পেরেছি। সভাপতি তাঁর কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমার অগোচরে সব কিছুই করছেন।’ শ্যুটিংয়ে বেশির ভাগ গৌরব বিদেশি কোচের তত্ত্বাবধানে এলেও অলিম্পিক গেমসের প্রস্তুতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাইফুল আলম রিংকিকে, যিনি সর্বশেষ এসএ গেমসে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া ক্যাম্পের পিস্তল কোচ করা হয়েছে আব্দুর রহমানকে।  

শ্যুটারদের পুরনো অস্ত্রগুলো ব্যবহারের ফায়সালা না করা ও কোচ নিয়োগ— সব কিছুতেই যেন খেলাটির উল্টোযাত্রার ইঙ্গিত। ফেডারেশনের সভাপতি-মহাসচিবের দ্বন্দ্বই শুধু প্রকট হচ্ছে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা