kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

শেষের ঝলকে সেমিতে পিএসজি

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেষের ঝলকে সেমিতে পিএসজি

ম্যাচ ঘড়ির কাঁটা তখন ৯০ ছুঁই ছুঁই। আতালান্তা স্বপ্নযাত্রায় আরো এক অবিশ্বাস্য ধাপ পার হতে চলেছে। কিন্তু শেষ মিনিটেই হলো নাটক, মার্কিনিওস সমতায় ফেরালেন প্যারিস সেন্ত জার্মেইকে। এরপর যোগ করা সময়ে এরিক চুপো মোটিংয়ের গোল ট্র্যাজেডির শিকার বানিয়ে দিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটিকে। ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ে পিএসজিই তাই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে, ১৯৯৫ সালের পর প্রথমবার।

বারবার শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের শিকার হতে হয়েছে পিএসজিকেই। এবার তারাই পেল এর বিপরীত পাশে থাকার সেই অপার্থিব আনন্দ। নেইমার বলেছেন বটে, এক মুহূর্তের জন্য তিনি বিশ্বাস হারাননি। শেষ মুহূর্তে গোলের নায়ক চুপো মোটিংও বলছিলেন, ‘নামার সময় নিজেকে একটা কথাই বলছিলাম, এভাবে আমরা ফিরতে পারি না, এই দল নিয়ে।’ তাই তো; যে দলের এক খেলোয়াড়ের দাম দিয়ে প্রতিপক্ষের গোটা দল কিনে ফেলা যায়, তারাই কেন বারবার ট্র্যাজেডির শিকার হবে? গতবার মাঠের বাইরে বসে নেইমার দেখেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে পিএসজির শেষ মুহূর্তের স্বপ্নভঙ্গ। এবার তিনিই ছিলেন আশা-ভরসা। চোটের কারণে এমবাপ্পে একাদশে না থাকায় তাঁকেই কাঁধে দায়িত্বটা তুলে নিতে হয়েছিল। দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ছিটকে ফেললেও তাঁর গোল মিস ছিল অবিশ্বাস্য। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আতালান্তা গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল মারেন পোস্টের অনেক দূর দিয়ে। উল্টো আতালান্তাই এগিয়ে যায় ম্যাচের ২৬ মিনিটে মারিও পাসালিচের দুর্দান্ত এক গোলে। এর পরও নেইমারের পায়েই ছিল পারিবাসীর ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন। কিন্তু এদিন যেন গোল আড়ি পেতে বসে ছিল এই ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গে। তাই তাঁর কোনাকুনি শট পোস্টে থাকে না, দারুণভাবে জায়গা তৈরি করে নেওয়া শটটিও চলে যায় তেকাঠির বাইরে দিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি হতাশ করেননি। গোল করিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়েছেন। মার্কিনিওসের গোলটি বক্সের ভেতর থেকে বাড়ানো তাঁর ছোট্ট ক্রসেই। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে চুপো মোটিং যে বলটি জালে ঠেলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পের কাটব্যাকে, সেই বলটিও নেইমারেরই বাড়ানো।

এমবাপ্পে ৬১ মিনিটে মাঠে নেমেছেন। এর আগ পর্যন্ত পিএসজির আক্রমণ এক নেইমারনির্ভরই ছিল। এমবাপ্পে যোগ হতে তাতে ধার বাড়ে। ১ গোলে এগিয়ে থেকে তখন সেই লিড ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ। করোনা বিরতির পরও টানা লিগ খেলেছে আতালান্তা। ওদিকে সেই মার্চের পর মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা পিএসজি। দুই দলের চ্যালেঞ্জটা তাই ছিল ভিন্ন। শেষ পর্যন্ত সেই মানসিক লড়াইয়েও জয় টমাস টুখেলের দলের। ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন পিএসজি কোচ যে বিদায়ের কথা তিনি ভেবে ফেলেছিলেন, ‘৮৫ মিনিট পেরিয়ে যাওয়া ম্যাচে সেই ভাবনাটা আশা স্বাভাবিকই। তবে আমার বিশ্বাস ছিল তখন যদি একটা গোলও পাই, পরের গোলটাও পাব।’ প্রতিপক্ষ জিয়ান পিয়েরো গাসপিরিনির অনুভূতিটা অনুমেয়ই, ‘হতাশ অবশ্যই। আমরা সেমিফাইনালে পা রেখেই ফেলেছিলাম। সেটা হলে অসাধারণ এক ব্যাপার হতো। অবশ্য এখনো পর্যন্ত যা হয়েছে তা-ও অসাধারণ, কোনো সন্দেহ নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা