kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

নেইমার বনাম আতালান্তা

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেইমার বনাম আতালান্তা

২২২ মিলিয়ন ইউরোয় পিএসজিতে এসেছেন নেইমার। তাঁর বছরে বেতন ৩৬ মিলিয়ন ইউরো। এই টাকা দিয়ে বেতন হয়ে যায় আতালান্তার সব খেলোয়াড়ের! আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে সেই নেইমারের মুখোমুখি আতালান্তা। ম্যাচে আতালান্তার প্রতিপক্ষ যতটা পিএসজি ততটা নেইমারও।

নিষেধাজ্ঞার জন্য নেই আনহেল দি মারিয়া। পিএসজির সর্বোচ্চ গোলদাতা এদিনসন কাভানি জুনে ক্লাব ছেড়ে গেছেন চুক্তি শেষ হওয়ায়। পায়ের পেশির ইনজুরির কারণে নেই মাঝমাঠের প্রাণ মার্কো ভেরাত্তি। কিলিয়ান এমবাপ্পের পুরো ৯০ মিনিট খেলা অনিশ্চিত। এমনকি চোট পেয়ে ক্রাচে ভর করে হাঁটছেন কোচ টমাস টুখেলও! আজ আতালান্তার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ‘ফাইনাল এইটের’ একাদশ সাজাতেই তাই হিমশিম খাচ্ছে পিএসজি। নেইমারের ফিট আর ছন্দে থাকাটা যা স্বস্তির। লিসবনের ‘দ্য স্তাদিও দ্য লুজ’-এ নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় প্রমাণের ভালো মঞ্চ নেইমারের জন্য।

টানা ৯ বার সিরি ‘এ’ জেতা জুভেন্টাস ছিটকে গেছে শেষ ১৬ থেকে। একই পরিণতি নাপোলিরও। প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সুযোগ পেয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা আতালান্তা এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইতালিকে। সিরি ‘এ’তে এই মৌসুমে সর্বোচ্চ ৯৮ গোল আতালান্তার। ‘লা দেয়া’ নামের দলটির আর্জেন্টাইন অধিনায়ক পাপু গোমেজ চান ছন্দটা ধরে রাখতে, ‘আমাদের শহরে মানুষ মাত্র এক লাখ, কিন্তু সবাই জানি কোথায় যাচ্ছি আর কোথায় যেতে চাই।’

কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপিরিনি অবশ্য পাচ্ছেন না এ মৌসুমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২১ গোল করা জোসিফ ইলিসিচকে। নেই নিয়মিত গোলরক্ষক পিয়ারলুইজি গোলিনও। তবে কলম্বীয় দুভান জাপাতা ও লুই মরিয়েল আশা জাগাচ্ছেন আতালান্তাকে। দুজন মিলে এ মৌসুমে করেছেন ১৯ গোল। একা ১১ গোল করেছেন মারিও পাসালিচও। এমন আক্রমণভাগ থাকায় পিএসজির বিপক্ষেও গোলের পেছনে ছুটবে আতালান্তা। তাদের ভয়টা অবশ্য নেইমারকে নিয়েই।

২০১৮ সালে শেষ ১৬-র দ্বিতীয় লেগে রিয়ালের বিপক্ষে নেইমার খেলতে পারেননি চোটের জন্য। একই কারণে গত বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ছিলেন দর্শক হয়ে। দল প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতেও বাদ পড়ে যায় নেইমারকে ছাড়া খেলতে নেমে। তবে এবার ঘরোয়া তিন শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক নেইমার। গত সপ্তাহেও বলেছেন, ‘পিএসজিতে আসার পর এবারই সেরা ছন্দে আছি।’ নেইমার পারবেন তো দলের ভরসা হয়ে উঠতে? তাহলেই ১৯৯৪-৯৫ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারে পিএসজি। এএফপি

কোয়ার্টার ফাইনাল

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘ইউরোপিয়ান কাপ’ শুরু হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। ১৯৯২ সালে টুর্নামেন্টটির নাম বদলে হয় চ্যাম্পিয়নস লিগ। আজ লিসবনে শুরু হচ্ছে প্রথমবার নকআউট ফরম্যাটের কোয়ার্টার ফাইনাল বা ‘ফাইনাল এইট’। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখে নেওয়া যাক।

৪. কোয়ার্টার ফাইনালের এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৪ গোল লিওনেল মেসির। ২০১০ সালে তিনি আর্সেনালের জালে বল পাঠিয়েছিলেন চারবার।

১৭. সবচেয়ে কম বয়সে, ১৭ বছর ২১৮ দিনে শেষ আটের ম্যাচে গোলের কীর্তি বোজান কিরকিচের। ২০০৮ সালে শালকের বিপক্ষে বার্সার হয়ে গোল করেছিলেন তিনি।

১৮. সবচেয়ে বেশি ১৮ বার করে কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ ও বার্সেলোনা। তবে ইউরোপিয়ান কাপের হিসাব ধরলে সর্বোচ্চ ৩৫ বার শেষ আটে খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

২২. চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি ২২টি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ২১ ম্যাচ খেলেছেন রায়ান গিগস, জেরার্দ পিকে ও জাভি হার্নান্দেস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা