kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

সাকিব বলেই কুলিং পিরিয়ড নেই

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাকিব বলেই কুলিং পিরিয়ড নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের চোখে তিনি, ‘থ্রি ইন ওয়ান’। আর গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিমের চোখে শিষ্য সাকিব আল হাসান ‘টু ইন ওয়ান’। একাধারে ব্যাটে-বলে দলে এই অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করার মতো কেউ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই বলেও নিশ্চিত ওই দুই বিশেষজ্ঞ। কাজেই ২৮ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরায় কোনো বাধা দেখেন না তাঁরা।

যদিও এর আগে নিষেধাজ্ঞা শেষ করে অনেক ক্রিকেটারকেই একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ‘কুলিং পিরিয়ড’ পার করে তবেই ফিরতে হয়েছে আন্তর্জাতিক ম্যাচে। সাকিবের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রয়োজনই দেখেন না ফারুক, ‘‘সাকিব যে মানের খেলোয়াড়, তাতে ওর ‘কুলিং পিরিয়ড’-এর কোনো দরকারই নেই। ও কেমন প্রতিভাবান খেলোয়াড় সেটি আমরা জানি। খেলোয়াড় অনেক ধরনেরই হয়। অনেককে খুব খেটেখুটে ও কষ্ট করে ভালো খেলোয়াড় হতে হয়। সে জন্য অনেক অনুশীলনও করতে হয় ওদের। সাকিব কিন্তু এর মধ্যে পড়ে না। কাজেই অন্য কারো ক্ষেত্রে যে নিয়ম অনুসরণ করা হতো, সাকিবের জন্য এর প্রয়োজন আমি দেখি না।’’

বরং করোনা পরিস্থিতির কারণে জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হওয়া ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দরজা আরো উন্মুক্তই দেখতে পাচ্ছেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার। সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো এই সাবেক অধিনায়ক শুধু এটুকুই বলেছেন, ‘একটি ব্যাপার ওর পক্ষে যাবে বলেই আমার ধারণা। জাতীয় দলে অন্য যারা আছে, তারাও তো অনেক দিন ধরে খেলছে না। সাকিবও তাই। কাজেই...।’

কাজেই নিষেধাজ্ঞা শেষে চটজলদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অপেক্ষা সাকিবের। দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনও যেন তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিনের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট, ‘আমরা তো অবশ্যই চাইব যত দ্রুত সম্ভব সাকিবকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য। তবে আমরা চাইলেই তো হবে না। খেলোয়াড় কতটুকু প্রস্তুত, সেটি সে নিজেই বলতে পারবে সবচেয়ে ভালো। ওর সঙ্গে আলোচনা না করে তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’ আলোচনার আগে বোর্ডের মনোভাব গণদাবির প্রভাবমুক্ত কি না, সে সংশয় অবশ্য কিছুটা রয়েই যাচ্ছে, ‘আমাদের পরিকল্পনা কী ছিল বলুন তো? নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরদিনই আমরা ওকে বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে ঢুকিয়ে দেব, তাই না? এটিই সবাই আলোচনা করেছে এবং এভাবেই কথা হয়েছে।’

এই মাসের শেষে দেশে ফিরে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে যাঁর অধীনে ফেরার লড়াই শুরু করবেন সাকিব, সেই ফাহিম অবশ্য শিষ্যের ক্ষেত্রে আগপাশ ভাবার কোনো কারণই দেখেন না, ‘একজন সাধারণ খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে যেটি হয়, সে অনেক দিন খেলেনি বলে তার ফর্ম কেমন, তা দেখার ব্যাপার থাকে। সে জন্য তাকে খেলানো (ঘরোয়া আসরে) হয়। তবে সাকিবের ক্ষেত্রে মনে হয় না এটি প্রযোজ্য হবে।’ ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘সাকিবের জায়গায় ওর চেয়ে ভালো কারো আসার সুযোগ এই মুহূর্তে আমি দেখি না। অলরাউন্ডারের যে ভূমিকাটি সে পালন করে, সেটি পূরণ করার মতো কেউ অবশ্যই নেই। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে সে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা