kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

সমাধান কি তবে কেন্দ্রীয় ভেন্যু?

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমাধান কি তবে কেন্দ্রীয় ভেন্যু?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশের এমন করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে একটা ফুটবলীয় হাওয়া উঠেছিল। ৩০ ফুটবলারের করোনা পরীক্ষায় ১৮ জনের পজিটিভ হওয়ার রিপোর্টে সেই হাওয়া ঝড়ের রূপ নিতে বসেছে! প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের ভেন্যুটা থাকবে তো? করোনা জেরবার দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি হবে তো প্রতিপক্ষ? এ রকম শঙ্কার সূত্র ধরেই সম্ভবত খুলে যাচ্ছে ‘সেন্ট্রালাইজড ভেন্যু’ বা কেন্দ্রীয় ভেন্যুর দুয়ার। মানে সব ম্যাচ হবে এক ভেন্যুতে।

করোনার মধ্যেও দেশে এক ধরনের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছে। করোনা সুরক্ষা মেনে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে জীবনেরই প্রয়োজনে। তারই ধারাবাহিকতায় ফুটবলের প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের মাঠে নামাতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে ফুটবল ফেডারেশন। তবে ফুটবলের কাজে সমন্বয়হীনতা ও ভুল সিদ্ধান্ত থাকবে না, এটা হতে পারে না। যেমন, ৩০ ফুটবলারের মধ্যে ১৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণের ছবিটা মোটেও ইতিবাচক নয়। সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে এই বাংলাদেশ ফুটবলে করোনা সংক্রমণের খবর।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে উঠছে কিছু সংগত প্রশ্ন। ৮ অক্টোবর সিলেটে যে ম্যাচটি হওয়ার কথা সেটাও আদৌ সেখানে হবে কি না, প্রতিপক্ষ খেলতে রাজি হবে কি না, ভাবাচ্ছে ফুটবলসংশ্লিষ্টদের। তার আগে ফিফা-এএফসিও পাঠাতে পারে বিকল্প নির্দেশনা। তবে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের বিশ্বাস ভেন্যু বাতিলের মতো কিছু হবে না, ‘শনি-রবিবার বন্ধ ছিল ফিফা-এএফসি, এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। আশা করি, ভেন্যু বাতিলের মতো কিছু হবে না। এএফসির দেওয়া প্রটোকল মেনে আমরা খেলা চালাতে পারব। স্বাগতিক দলের জন্য তো অবশ্যই, বিদেশি দল এলে এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে তাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং হোটেল থেকে মাঠ পর্যন্ত সব রকমের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা আমরা করতে পারব।’ কিন্তু যাঁরা নিজেদের ফুটবলারদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ, তাঁদের ওপর ফিফা-এএফসি কি পূর্ণ আস্থা রাখবে? এমন সংশয় থেকেই কিন্তু এএফসি কাপের খেলা নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠানে রাজি হয়নি বসুন্ধরা কিংস।  

করোনা মহামারির কারণে এএফসি ইদানীং ‘সেন্ট্রালাইজড ভেন্যু’র সহজ পথ বেছে নিচ্ছে। এএফসি কাপ ও এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের বেলায়ও করেছে তাই। প্রথাগত হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে বাদ দিয়ে এক ভেন্যুতে দলগুলোকে নিয়ে গিয়ে খেলা শেষ করতে চাইছে দ্রুত। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ‘ই’ গ্রুপে করোনা সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, তার চেয়েও ভয়ংকর ভারতের অবস্থা। মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে হাজার জীবন। এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে সেখানে ৮ অক্টোবর কাতার খেলতে যাবে কি না, তা-ও এক বড় প্রশ্ন। আবার কাতারে ১৩ অক্টোবর খেলা আছে বাংলাদেশেরও, তার আগে ওখানে গিয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকারও সুযোগ নেই জামাল ভূঁইয়াদের। কাতার সরকার সম্মতি দেবে কি না, কে জানে। তার আগে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানও বেঁকে বসতে পারে সিলেটে ম্যাচ খেলা নিয়ে। ইউরোপপ্রবাসীদের নিয়ে গড়া এই আফগান ফুটবল দলটি শুরু থেকেই খেলে আসছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এই সুযোগে তারাও সেন্ট্রালাইজড ভেন্যুর (কেন্দ্রীয় ভেন্যু) দাবি তুলতে পারে।

এরই মধ্যে সেন্ট্রালাইজড ভেন্যুর দাবি জানিয়ে বসেছে চীন। ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে আছে সিরিয়া, মালদ্বীপ, গুয়াম ও ফিলিপাইন। এএফসি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, আবার চীনের দাবি উড়িয়েও দেয়নি। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ভেন্যুর বিকল্প চিন্তাও তাদের মাথায় আছে। বাংলাদেশের গ্রুপের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভেন্যুটি হতে পারে কাতার বা ওমানে। ওমানে এ মাসে শুরু হচ্ছে ঘরোয়া ফুটবল আর কাতারে চলছে স্টার্স লিগের খেলা। তবে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক এএফসির চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত বিকল্প কিছু ভাবতে চান না। তাঁর বিশ্বাস, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি বদলাবে। দুটি জায়গায় আজ আবার ৩৬ জনের পরীক্ষা করানো হয়েছে, সেই রিপোর্টের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’ ৩০ ফুটবলার ও ক্যাম্পসংশ্লিষ্ট ছয়জনের পরীক্ষা করানো হয়েছে প্রাভা হেলথকেয়ার ও আইসিডিডিআরবিতে। নতুন পরীক্ষায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা কমলে এএফসির কাছে অন্তত একটা ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে পারবে ফেডারেশন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা