kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

মেসির রাতে উড়ল বায়ার্ন

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেসির রাতে উড়ল বায়ার্ন

লিওনেল মেসিকে স্বপ্নে বা প্লে স্টেশনে আটকানো সম্ভব, বাস্তবে নয়—কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন নাপোলি কোচ জেনারো গাত্তুসো। ন্যু ক্যাম্পে সেটা বুঝলেন আরো একবার। মেসি ঝলকে ৩-১ (দুই লেগে ৪-২) ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা। লিসবনের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ, দ্বিতীয় লেগেও যারা উড়িয়ে দিয়েছে চেলসিকে। প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানের হারে বিপন্ন চেলসিকে পরশু নিজেদের মাঠে ৪-১ ব্যবধানে গুঁড়িয়েই দিয়েছে বায়ার্ন। জোড়া গোল রবার্ত লেভানদোস্কির, করেছেন জোড়া অ্যাসিস্টও। এ মৌসুমে গোল ৫৩; সুযোগ রয়েছে সংখ্যাটা আরো বাড়ানোর। 

ন্যু ক্যাম্পে দ্বিতীয় মিনিটে ড্রিস মের্টেন্সের ভলি পোস্টে লেগে ফিরলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি নাপোলির। দশম মিনিটে ইভান রাকিতিচের কর্নারে ক্লেমন্ত লেংলের হেডে প্রথম গোল বার্সার। ২৩ মিনিটে জাদুই দেখান লিওনেল মেসি। লুই সুয়ারেসের উঁচু করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে দৌড় শুরু করেন বার্সা অধিনায়ক, গোলপোস্ট সেখান থেকে ৪০ গজ দূরে। পায়ের কারুকাজে পেছনে ফেলেন তিন ডিফেন্ডারকে। এরপর বক্সের ভেতর দুবার পড়তে গিয়েও সামলে নেন নিজেকে। গ্রিক ডিফেন্ডার কস্তাস মনোলাসের পাশের সামান্য জায়গা দিয়ে নেওয়া শটে চোখ-ধাঁধানো গোল। তখনই গোল ডটকমের টুইট, ‘লিওনেল মেসি মানুষ নয়!’

৩০ মিনিটে মেসির একটি গোল ভিএআর বাতিল করে বুক দিয়ে বল নামানোর সময় হাতে লাগায়। সেই ভিএআরেই ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করেন মেসি। ডি-বক্সে কালিদু কুলিবালি শট নেওয়ার সময় পেছন থেকে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মেসি, লাথিটা পড়ে তাঁর বাঁ পায়ের পেশিতে। মেসি যেভাবে কাতরাচ্ছিলেন, তাতে হৃদ্কম্পন বেড়ে গিয়েছিল সমর্থকদের। এর পরও পুরো ম্যাচ খেলেছেন তিনি, আর পেনাল্টি থেকে গোলটা করেন লুই সুয়ারেস।

বিরতির বাঁশি বাজার আগে পেনাল্টি থেকে এক গোল ফেরান ইনসিনিয়ে। বিরতির পর নাপোলি গোলের জন্য মরিয়া হলেও লক্ষ্য ভেদ করতে পারেননি আর। জয়ের পর চাকরি হারানোর চাপ সরিয়ে বায়ার্নের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বার্সা কোচ কিকে সেতিয়েন, ‘আমাদের জন্য ম্যাচটা কঠিন হবে, ওদের জন্যও একই ব্যাপারটা। বায়ার্ন অসাধারণ দল, আমরাও তাই।’ মেসির চোট নিয়ে বললেন, ‘খুব বাজেভাবে আঘাতটা পেয়েছিল ও। পায়ে চিকিৎসা করা হবে এখন, মনে হয় না এই চোটের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে আমাদের।’

আলিয়াঞ্জ অ্যারোনায় চেলসির বিপক্ষে দশম মিনিটের পেনাল্টিতে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন রবার্ত লেভানদোস্কি। ২৪ মিনিটে ইভান পেরিসিচ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লেভানদোস্কির ক্রসে। তাঁর কাছ থেকে বল পেয়েই ৭৬ মিনিটে তৃতীয় গোল করেনতিন তোলিসোর। ওদ্রিওসোলার ক্রসে দারুণ হেডে ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল লেভানদোস্কির। চেলসির হয়ে ৪৪ মিনিটে একমাত্র গোলটি টেমি আব্রাহামের। চ্যাম্পিয়নস লিগে লেভানদোস্কির গোল এখন ১৩টি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ১৭ গোলের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি আছে ভালোভাবে। তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না এই পোলিশ, ‘রেকর্ড মাথায় নেই। অবশ্যই গোল করে ও করিয়ে ভালো লাগছে। বার্সেলোনার মতো বড় দলের সঙ্গে ম্যাচটা চ্যালেঞ্জ সবার জন্য।’

এই মুহূর্তে মেসি সেরা নাকি লেভানদোস্কি? জবাবটা দিলেন বায়ার্ন তারকা থমাস ম্যুলার, ‘শুক্রবার দেখা যাবে, লেভাকে জবাব দিতে হবে প্রশ্নটার। মেসিও ভালো খেলেছে, তবে লেভার পক্ষ নিয়ে জবাব দেওয়ার দায়িত্বটা তার ও আমাদের ওপর।’ এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা