kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

খেলায় ফিরতে চান তাঁরাও

শাহজাহান কবির   

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলায় ফিরতে চান তাঁরাও

‘অনেক দিন তো হলো। এভাবে আর কত বসে থাকব আমরা? এখন মনে হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলাটা শুরু করতে পারি। অ্যাথলেটিকসে প্রতিবছর তিনটি মিট হয়, এর কোনোটিই এখনো আমরা করতে পারিনি। খুব শিগগিরই আমরা ফেডারেশনে সভা করে অন্তত শেষ দুটি মিট কিভাবে আয়োজন করা যায় তার একটি পরিকল্পনা করে ফেলব’—বলছিলেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি এস এম আলী কবির। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য ফুটবলের ক্যাম্প বা হকিতে ফিটনেস ক্যাম্পের তোড়জোড়ই শুধু নয়, এ সময়ে আসলে গোটা ক্রীড়াঙ্গনেই খেলায় ফেরার হাওয়া বইছে, যেমনটা বলছিলেন অ্যাথলেটিকস সভাপতি।

আর্চারি ও শ্যুটিং তো ঈদের আগেই আবেদন জানিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয় দলের ক্যাম্প করার। আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল কালও জানিয়েছেন তাঁরা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন। সেটি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন বলেও মনে করছেন তিনি, এর পরই শুরু হয়ে যাবে ক্যাম্প।

ফুটবলে একের পর এক করোনা পজিটিভের খবরও আসলে আর্চারদের খুব একটা দমাতে পারছে না। রোমান সানা যেমন বলেছেন, ‘ফুটবলে অনেকে পজিটিভ হয়েছে শুনেছি। কিন্তু এই ঝুঁকিটা মাথায় রেখেই স্বাস্থ্যবিধি করা হয়েছে। আমরা সেভাবে সব কিছু মেনে চলে ক্যাম্পটা করতে পারি।’ ফুটবলে ৩০ জনে ১৮ জনের আক্রান্তের খবর বড় ঘটনা অবশ্যই। তবে গতকালই হকিতে ১৬ জনে দুজন পজিটিভ হয়েছেন। তবে এসব খবরে আতঙ্কের কিছু দেখছেন না অন্য অনেক খেলোয়াড়ই। রোমানের মতো খেলায় ফিরতে তাই মুখিয়ে অ্যাথলেট শিরিন আক্তারও। বিকেএসপিতে ব্যক্তিগত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া এই স্প্রিন্টার আশা করছেন ডিসেম্বরের মধ্যেই তাঁরা খেলায় ফিরতে পারবেন, ‘প্রতিযোগিতা ছাড়া আসলে অনুশীলনটা যথাযথ হয় না। আমি আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো না কোনো খেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশ গেমসও আছে। সে কারণেই অনুশীলনটা নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছি।’

মার্চের পর সব রকম খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কারাতেকা হুমায়রা আক্তার বাসাতেই তাঁর বোনদের সঙ্গে মিলে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই গৃহবন্দি জীবনও শেষ হচ্ছে তাঁর। কারণ বাংলাদেশ আনসার এরই মধ্যে তার খেলোয়াড়দের নিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করতে যাচ্ছে, সেটি হবে গাজীপুরে। হুমায়রারও আশাবাদী, ‘কারাতেতে এ মাসেই একটি অনলাইন প্রতিযোগিতা করব আমরা, এশিয়ান কারাতের আয়োজনে একটা প্রশিক্ষণ কর্মশালাও হবে। তবে খুব শিগগিরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা স্বাভাবিক খেলাধুলায় ফিরতে পারব বলেই আশা করছি। আনসারের ক্যাম্পটা শুরু হবে সে কারণেই।’

অনলাইন প্রতিযোগিতা হচ্ছে তায়কোয়ান্দোতেও। গত দুদিন থাইল্যান্ড তায়কোয়ান্দো অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে সেই অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচ খেলোয়াড়। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুমসে ইভেন্টের (শারীরিক সংস্পর্শহীন) ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও আয়োজন করতে চান তাঁরা, ‘মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে আমরা আবেদন করেছি পুমসে ইভেন্টের প্রতিযোগিতাগুলো যেন অন্তত আয়োজন করা যায়। কারণ এই খেলায় শারীরিক সংস্পর্শের ব্যাপার নেই।’ অর্থাৎ করোনার আতঙ্ক ভুলে সবাই এখন মাঠে ফেরার আশায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা