kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

রোমাঞ্চ নিয়ে ফিরছে চ্যাম্পিয়নস লিগ

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোমাঞ্চ নিয়ে ফিরছে চ্যাম্পিয়নস লিগ

ফুটবল ফিরেছে আগেই। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফিরছে আজ। গ্যালারি একই রকম দর্শকশূন্য থাকলেও ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চের শেষ নেই। জিবে জল আনার মতো দুটি ম্যাচও আজ। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিজ শহরে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে থাকতে হলে আজ লিওঁর বিপক্ষে জেতাতেই হবে জুভেন্টাসকে। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ—এই ম্যাচের উত্তেজনা অনুভব করতে এর চেয়ে বেশি তথ্যের হয়তো প্রয়োজনই নেই।

তবু জানা থাকা ভালো, রিয়ালের লিগ শিরোপা জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সের্হিয়ো রামোসকে পাচ্ছেন না জিনেদিন জিদান এই অগ্নিপরীক্ষায়। রামোসকে অবশ্য দলের সঙ্গে এনেছেন, রেখে এসেছেন তিনি গ্যারেথ বেলকে। গ্যালারিতে একজনকে হাই তুলতে দেখার চেয়ে দর্শক রামোস নিশ্চয়ই অনুপ্রাণিত করবেন লস ব্লাংকোদের। এডেন হ্যাজার্ড লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার ম্যাচে গোড়ালিতে হালকা চোট পেয়েছিলেন। জিদানের বিশ্বাস এই বিরতিতে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন তিনি। আজ হ্যাজার্ডের জন্যও যে বিশেষ উপলক্ষ। রিয়ালে প্রথম মৌসুমে এখনো অনুজ্জ্বলই এই বেলজিয়ান। চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ৫ ম্যাচেও গোলহীন। তবে ইংল্যান্ড তাঁর পরিচিত। ২০১৬-১৭ মৌসুমে চেলসিকে লিগ শিরোপা জেতানোর পথে পেপ গার্দিওলার সিটিকেই হারিয়েছিল তাঁর দল দুই লেগে। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগটা অবশ্য মাত করে এসেছেন হ্যাজার্ডেরই জাতীয় দল সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইন। ২-১ গোলের জয়ে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দিয়ে গোল করানোর পাশাপাশি লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন নিজেও। আজ ঘরের মাঠে ড্র করলেই হচ্ছে তাঁদের। ১-০ গোলে হারলেও বেশি অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে সিটিই যাবে শেষ আটে। রিয়ালকে জিততে হবে ২ গোলের ব্যবধানে অথবা দুইয়ের বেশি গোল করে। প্রতিপক্ষের মাঠে হলেও দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচ। সেটি কিছুটা হলেও রিয়ালকে সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন ক্যাসেমিরো, ‘এটা ভিন্ন একটা ম্যাচ হবে। ওরা ওদের দর্শক সমর্থনটা পাবে না, সেটা কিছুটা হলেও আমাদের পক্ষে যাবে।’

লিওঁর বিপক্ষে অতশত না ভেবে জুভেন্টাসের অবশ্য অনায়াস বাজি আছে—রোনালদো। গত মৌসুমের শেষ ষোলো মনে আছে তো? অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে দ্বিতীয় লেগে রোনালদোর সেই হ্যাটট্রিক। আজও যে তেমন কিছু হবে না, এমনটা জোর দিয়ে বলার লোক নেই বললেই চলে। এমনটা মনে করেন খোদ জুভেন্টাস গোলরক্ষক ওয়েজেক সেজনি, ‘অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে গতবার দলের ভেতর যে ক্ষুধা দেখেছিলাম, এবারও তা-ই দেখছি। এবারও আমরা পারব। রোনালদোর হ্যাটট্রিক? এই পৃথিবীতে এমন কে আছে, যে বিশ্বাস করে রোনালদো এবারও তা পারবে না?’ করোনা বিরতির পর জুভেন্টাসের ফর্ম অবশ্য বেশ নড়বড়ে। টানা নবম স্কুদেত্তো জিতলেও খুব কম ম্যাচেই তারা সমর্থকদের তৃপ্ত করতে পেরেছে। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ভিন্ন, রোনালদো বিশেষত মুখিয়ে থাকেন যে আসরে। চোটের কারণে পাউলো দিবালার খেলা নিয়ে সংশয় থাকলেও তাই জুভেন্টাসকে পিছিয়ে রাখা যাচ্ছে না, প্রথম লেগে ১-০-তে হেরে এলেও। লিওঁ অধিনায়ক মেমফিস দেপেই ঘরের মাঠে প্রথম লেগটা খেলতে পারেননি চোটের কারণে। করোনা তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছে দ্বিতীয় লেগে আজ মাঠে নামার। জুভেন্টাসের মাঠে ভয়হীন ফুটবল উপহার দেওয়ারই প্রতিশ্রুতি ডাচ স্ট্রাইকারের কণ্ঠে, ‘জুভেন্টাস এই পর্যায়ে ভয়ংকর, অভিজ্ঞ কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরাও কিছু করে দেখানোর জন্য তৈরি। তাই কোনো ভয় ছাড়াই মাঠে নামব।’ মার্চের পর লিওঁ অবশ্য প্রথম ম্যাচ খেলেছে গত সপ্তাহেই ফ্রেঞ্চ লিগ কাপের ফাইনালে।

রিয়াল বা সিটির কোনো দলেরই অবশ্য সেই অনভ্যস্ততা নেই। রিয়াল তো ধারাবাহিকতার ফুল ফুটিয়ে জিতেছে লা লিগা। কোনো সন্দেহ নেই আজ সিটির বিপক্ষে ঘরোয়া মৌসুমের শেষ লেগের সেই নৈপুণ্যই তাদের অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে লিগ, এফএ কাপ হারিয়ে পেপ গার্দিওলার দলের জন্য এই চ্যাম্পিয়নস লিগই যে একমাত্র আশা। গোলডটকম

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা