kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

আগে হাসপাতালে

ভড়কে গেছেন জেমি

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভড়কে গেছেন জেমি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : করোনার থাবায় প্রথম দিনে ক্যাম্প থেকে ছিটকে গেছেন চার ফুটবলার। এরপরই যেন বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পেয়েছেন জেমি ডে। ইংল্যান্ডে বসে বাংলাদেশ দলের কোচ এত দিন বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বড় স্বপ্নের কথা বললেও বাস্তবে দেখছেন ফুটবল ক্যাম্প শুরু করাই কঠিন!

অনেক নিয়ম-নীতি মেনে সারাহ রিসোর্টে গত পরশু শুরু হয়েছে ফুটবল ক্যাম্প। ৩১ ফুটবলারকে তিন ভাগ করে ঢাকা থেকে ক্যাম্পে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে বাফুফে। পরশু করোনা পরীক্ষা করিয়ে ১২ জনকে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চারজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ফেডারেশন। এ ধাক্কার ‘এপিসেন্টার’ ঢাকা হলেও যেন টলিয়ে দিয়েছে হাজার মাইল দূরের ইংল্যান্ডে থাকা কোচের আত্মবিশ্বাস! বেশ ভয়ই পেয়েছেন জেমি, ‘এটা মোটেও ভালো শুরু নয়। স্বাভাবিকভাবে সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে এটা। ক্যাম্পে যারা থাকবে, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। আমরাও বাংলাদেশে যাব; কিন্তু ওখানে সংক্রমণের হার বেশি।’

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনিসহ আরো চার বিদেশি কোচিং স্টাফের ঢাকায় আসার কথা। এরপর আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ‘সিরিয়াস ফুটবল ট্রেনিং’ শুরুর পরিকল্পনা ছিল কোচের। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আসা নিয়েই খানিকটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে জেমির মনে, ‘১৬ তারিখের দিকে আমার ঢাকায় আসার কথা। বাফুফে এখনো টিকিট পাঠায়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে, বাফুফের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

আরেকটা ভাবনার বিষয় হলো, যে চারজনের করোনা শনাক্ত হয়েছেন, তাঁদের শরীরে কোনো উপসর্গই ছিল না। দীর্ঘদিন ক্যাম্পের মাঝপথে কেউ আক্রান্ত হলেও বাইরে থেকে বোঝারও সাধ্য নেই। আবার গাজীপুরের অবকাশ কেন্দ্রটি শুধু ফুটবলারদের জন্য সংরক্ষিত নয়, অন্য কক্ষগুলো উন্মুক্ত থাকবে সাধারণের জন্য। তাতে ঝুঁকি থাকবেই, তা এড়িয়ে চলার দায়িত্ব ক্যাম্পের খেলোয়াড়সহ অন্যদের। কিন্তু দেশের ফুটবলাররাও যে করোনা সুরক্ষা নিয়ম খুব মেনে চলেন, তা বলার উপায় নেই। মহামারির মধ্যেও মামুনুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলেছেন। ক্যাম্প চলাকালীনও কারো বাইরে গিয়ে চা খাওয়ার শখ হতে পারে! কিংবা ক্যাম্পের নিরাপত্তার চেয়ে পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করাটাও জরুরি মনে হওয়াও অসম্ভব নয়। জাতীয় দলের কোচের কণ্ঠে তাই কঠিন সুর, ‘ফুটবলারদের সব সুরক্ষা নিয়ম মেনে ক্যাম্পে থাকতে হবে। করোনা গাইডলাইন পুরোপুরি মেনে ক্যাম্প চালানো গেলে হয়তো কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া কিছুদিন পর পর ক্যাম্পে সবার করোনা পরীক্ষাও করানো যেতে পারে। ম্যাচ পর্যন্ত সবার সুস্থ থাকাটাই মুখ্য।’

আগামী ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। প্রথম দিন ছিটকে গেছেন চারজন, গতকাল শনাক্ত হয়েছেন আরো সাতজন। তাঁরা হলেন টুটুল হোসেন, শহীদুল আলম, সোহেল রানা, ইব্রাহিম, সুশান্ত ত্রিপুরা, রবিউল হাসান ও আনিসুর রহমান। অর্থাৎ দুই দিনে ২৪ জনের করোনা পরীক্ষা শেষে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ১৩ জন সুস্থ ফুটবলার। কাল জানা যাবে শেষভাগের সাত ফুটবলারের নিয়তি। শেষ পর্যন্ত কতজনের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার সৌভাগ্য হবে, বলা মুশকিল। তবে আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠলেও ক্যাম্পে যোগ দেওয়াটা কঠিন মনে করেন বাফুফে মেডিক্যাল কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আলী ইমরান, ‘যাঁদের সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাঁরা ফিট হয়ে কবে মাঠে ফিরতে পারবেন, সেটা বলা মুশকিল। শুধু সংক্রমণমুক্ত হলেই তো হবে না, করোনায় দুর্বল হয়ে পড়া শরীরে আগের সক্ষমতা ফিরে পেতে সময় লাগবে। এদিকে ম্যাচের বাকি আছে মাত্র আট সপ্তাহ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা