kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

কোচদের ভিসায় সমস্যা হবে না তো!

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোচদের ভিসায় সমস্যা হবে না তো!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিকেটের বিদেশি কোচরা সাধারণত আগমনী ভিসাতেই (ভিসা অন অ্যারাইভাল) বাংলাদেশে এসে থাকেন। করোনার কারণে তাঁদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ দেশে আছেন। তবে আগস্টের মাঝামাঝি জাতীয় দল, হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলন শুরুর আলোচনা তাঁদের ঢাকায় ফেরার দিন ঘনিয়ে আনছে। কিন্তু তাঁরা যথাসময়ে আসতে পারবেন তো?

প্রশ্নটি উঠছে কারণ, এখন বিদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আছে বাংলাদেশ সরকারের। গত ১৬ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের বহির্গমন-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘কভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব দেশের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে আগমনী ভিসা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।’ যাঁদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তাও, ‘তবে শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান ভিসা নীতিমালার আলোকে আগমনী ভিসা প্রদান করা যাবে।’ জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ব্যাটিং উপদেষ্টা নেইল ম্যাকেঞ্জি ও পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনসহ কোচিং স্টাফের অন্যান্য সদস্য এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ নাভিদ নেওয়াজরা তাই আগমনী ভিসার ক্ষেত্রে ছাড়ের আওতায় পড়ছেন না।

না পড়লেও এই সমস্যাকে সমাধানযোগ্য নয় বলেও মনে করছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ‘এটা অবশ্যই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ বিবেচনায় আমরা ছাড় পাওয়ার আশা করছি। তবে কোন কোন কোচের ভিসা লাগবে, আমরা আগে সেই তালিকা করছি এখন। কারণ কয়েকজনের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা আগে থেকেই নেওয়া আছে। তাঁদের এটি লাগবে না। দু-একজনের লাগবে বা যাঁদের সঙ্গে আমরা নতুন চুক্তিতে যাব, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেব। এ বিষয়ে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথাও হয়েছে আমাদের।’ সেই সঙ্গে আরো যোগ করেছেন, ‘আমরা যেটা জানি এই পরিস্থিতিতে বিদেশি কোচদের জন্য আলাদা অনুমতি লাগবে। কারণ সাধারণ ভিসার বিষয়ে এখন কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। যদি এখন কাউকে আনতে হয়, তাহলে বিশেষ বিবেচনায় আমরা ভিসার অনুমোদন চাইব।’

জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সেই অনুমোদন মিলবে বলেও যেন একরকম নিশ্চিত বিসিবি প্রধান নির্বাহী, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভিসা দেওয়া হবে, কারণ তাঁদের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ জড়িত। আর যাঁরা জাতীয় দলের জন্য কাজ করতে আসবেন, সেটিও তো জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই পড়ে। এক্স, ওয়াই, জেড এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজে তো তাঁরা আসবেন না। তাই অনুশীলন শুরুর আগেই আমরা আমাদের বিদেশি কোচদের নিয়ে আসতে পারব বলে বিশ্বাস।’ আগস্টের মাঝামাঝি অনুশীলন শুরুর বিষয়েও সরকারি সবুজ সংকেত পাওয়ার কথাও জানাতে ভুললেন না নিজাম উদ্দিন, ‘অনুশীলন শুরুর বিষয়েও আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় মোটামুটি ইতিবাচক। তবে অনুমোদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। আশা করছি যখনই আমরা অনুশীলন শুরু করতে চাই, অনুমতি পেয়ে যাব। জাতীয় দল, এইচপি কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলনের ক্ষেত্রে হয়তো কোনো বিধি-নিষেধ থাকবে না।’

জাতীয় স্বার্থে বিদেশি কোচদের আগমনী ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও উঠে যাচ্ছে বিধি-নিষেধ!

মন্তব্য