kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ব্যাডমিন্টন

দশ বছরে দুই লিগ

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দশ বছরে দুই লিগ

করোনাকালে সব খেলাধুলা বন্ধ। কিন্তু সব ফেডারেশনে এর প্রভাব কি এক? কিছু কিছু ফেডারেশন তো নিয়মিত খেলাই আয়োজন করে না। একটা লিগের জন্য বছরের পর বছর তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয় খেলোয়াড়দের, বড়জোর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয় নামকাওয়াস্তে। কোথাও তাও নয়। এমন কয়েকটি ফেডারেশন নিয়ে শাহজাহান কবিরের ধারাবাহিকের আজ দ্বিতীয় দিনে থাকছে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন

২০১৩ সালের বাংলাদেশ গেমসে মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাড়া ফেলেছিল আয়মান ইবনে জামান। ব্যাডমিন্টনের ভবিষ্যৎ তারকা হওয়ার সব সম্ভাবনাই ছিল তার মধ্যে। আয়মানের বাবা নিজ খরচে ছেলেকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দিতে নিয়ে যেতেন, সেই আয়মান বছর দুয়েক পরই হারিয়ে গেছে।

বাবা কামরুজ্জামান রতনের জন্য যা এক দীর্ঘশ্বাস হয়েই আছে, ‘ব্যাডমিন্টনে একজন অভিভাবক হয়ে আমি আমার ছেলের জন্য যা করেছি, তা সচরাচর কেউ করে না। সেই আমি যখন ছেলেকে ব্যাডমিন্টনে ধরে রাখতে পারিনি, এই ব্যর্থতা অবশ্যই ফেডারেশনের। এখানে ঢুকে দেখেছি শুধু দলাদলি-রাজনীতি, খেলা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারো।’ গত দশ বছরে যেখানে মাত্র দুটি লিগ হয়েছে, সেখানে আয়মানের বাবার মতো ক্ষোভ-হতাশা নিয়ে নীরব থাকতে হয় আসলে সবাইকে। কিন্তু যাঁরা বছরের পর বছর ফেডারেশনের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা নীরব থাকেন কি করে—সেটাই প্রশ্ন।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহারের চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী মাসে। সর্বশেষ লিগ হয়েছে ২০১৫ সালে। অর্থাৎ এই পুরো মেয়াদে তিনি লিগটাকে ফেরাতে পারেননি। অথচ বলছেন করোনা সংকট কেটে গেলে যদি দায়িত্বে থাকেন তাঁর প্রধান কাজই হবে লিগ আয়োজন করা, ‘দরকার হলে চার দল নিয়ে লিগ করব। তবু আমাকে এটা করতে হবে।’ এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েই বছরের পর বছর পার করেছে ফেডারেশন।

অবশ্য দলাদলি, রাজনীতির শিকার নাকি সাধারণ সম্পাদক নিজেও, ‘লিগ নিয়ে ক্লাবগুলো এখানে রাজনীতি করে। উদ্যোগ নিয়েও তাই পারি না। আর খেলোয়াড়রাও তো গ্রুপিং করে। তা নিয়ে তাঁরা যতটা ব্যস্ত, খেলা নিয়ে ততটা নয়।’ ফেডারেশন সম্পাদকের এমন বক্তব্যের আবার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন আহসান হাবিব পরশ, ‘খেলোয়াড়রা গ্রুপিং করে, এটা যদি মেনেও নেই, তবু তো কেউ বিশ্বাস করবে না যে আমরা খেলার বিপক্ষে। খেলা বন্ধ থাকুক—এমনটা কোনো খেলোয়াড়ই কোনো দিন চাইতে পারি না। বছরের পর বছর এখানে লিগ নেই, নিয়মরক্ষার নামে একটা জাতীয় আসর হয়। সামার ওপেনটাও তো হয় না নিয়মিত। আমাদের জন্য আর কোনো টুর্নামেন্ট নেই ব্যাডমিন্টনে। শীর্ষ খেলোয়াড়রা টিকে কী করে বলতে পারেন? আমরাই সারা দেশে একাডেমি চালাই, কিন্তু যে খেলোয়াড়টিকে তৈরি করি, তার তো কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া, কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করায় ব্যস্ত আয়মানও তাই খেলাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

করোনা তাই ব্যাডমিন্টনকে কাবু করবে কী, অবস্থাদৃষ্টে মনে হতে পারে এই বিরতি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের জন্য আশীর্বাদ! খেলা আয়োজনের কোনো চেষ্টাই করতে হচ্ছে না, ছুটতে হচ্ছে না স্পন্সরের পিছু। এই হাল শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হয় দক্ষিণ এশীয় গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গিয়ে। ব্যর্থতা নিয়ে তখন হা-হুতাশ শুরু হয়, কিন্তু বছরজুড়ে ফেডারেশনগুলোতে কী হয়, তার খবর রাখে না কেউ। পরশের মতো খেলোয়াড়দের মনে তাই ক্ষোভের মেঘ ভারী হয় আরো, ‘কর্মকর্তারা  খেলোয়াড়দের চেয়ে গদি আঁকড়ে থাকা নিয়েই বেশি ভাবেন। করোনায় সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলেও তাঁদের কোনো সমস্যা হবে বলে আমার মনে হয় না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা