kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

হকি থেকে ছাঁটাইয়ের মুখে সাঈদ

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হকি থেকে ছাঁটাইয়ের মুখে সাঈদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আর অপেক্ষা করতে পারছে না হকি। ‘ক্যাসিনোকাণ্ডে’র পর থেকে তিনি গরহাজির হকি ফেডারেশনে। টানা ৯ মাসেরও বেশি অনুপস্থিত থাকায় সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদকে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠিয়েছে হকি ফেডারেশন।

সাঈদের অবর্তমানে যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরেই গতকাল কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠিয়েছে ফেডারেশন। ই-মেইলে এবং ফেডারেশনে নথিবদ্ধ ঠিকানায় চিঠি পৌঁছে যাবে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের কাছে। তবে মোহাম্মদ ইউসুফ এটাকে কারণ দর্শাও নোটিশ বলতে চান না, ‘হকি ফেডারেশনের মাননীয় সভাপতির অনুমতিক্রমে সাধারণ সম্পাদকের কাছে অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনেক দিন হয়ে গেছে তিনি অনুপস্থিত, এভাবে একটি ফেডারেশন চলা মুশকিল। তাই তাঁর কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তা দিতে হবে।’ ক্যাসিনোকাণ্ডের পর থেকেই ‘উধাও’ হয়ে যান হকি ফেডারেশনের নির্বাচিত সম্পাদক। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার ক্লাবপাড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। পাঁচটি ক্লাবে কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো খেলার নানা সরঞ্জাম উদ্ধারের পর সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল ক্লাবগুলো। এগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, যে ক্লাবের সভাপতি মমিনুল হক সাঈদ ওই সময় দেশে ছিলেন না। গুঞ্জন আছে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি এড়াতে আর দেশেই ফেরেননি তিনি।

হকির গঠনতন্ত্র বলছে, কেউ টানা তিন সভা কিংবা ছয় মাস অনুপস্থিত থাকলে বাতিল হয়ে যাবে তার নির্বাহী কমিটির পদ। ছয় মাস পেরোনোর পরপরই হকি ফেডারেশন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত উদ্যোগ নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদককে চিঠি পাঠানোর।

কিন্তু হকি যে পড়েছে বিপাকে। হকি দল দেশে ফিরলেও ফেরেননি সাধারণ সম্পাদক সাঈদ। তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানা গেছে, পরিবার-পরিজন ওখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আসেন। সেই সেপ্টেম্বর থেকে ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে হকি ফেডারেশন চলছে সাধারণ সম্পাদক ছাড়া। তা ছাড়া গভর্নিং বডির টানা চার সভায়ও তিনি অনুপস্থিত। এর পরই হকি অঙ্গনে তাঁর পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এক চিঠিতে সাঈদের আপাত রক্ষা হয়েছিল। সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি চেয়ে নিয়েছিলেন ছেলের অসুস্থতার কথা বলে। ছুটির পরও ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। হকির গঠনতন্ত্র বলছে, কেউ টানা তিন সভা কিংবা ছয় মাস অনুপস্থিত থাকলে বাতিল হয়ে যাবে তার নির্বাহী কমিটির পদ। ছয় মাস পেরোনোর পরপরই হকি ফেডারেশন সভাপতি এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত উদ্যোগ নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদককে চিঠি পাঠানোর। সভাপতির ডাকেই গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসেন যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ। সাঈদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে তাঁকে সঙ্গে করে সভাপতি আইনি পরামর্শ নেন একজন আইনজীবীর। অর্থাৎ আইনি দিকগুলোও ভালোভাবে পরখ করে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে সাঈদকে।

অবশ্য সাধারণ সম্পাদকের অবর্তমানে গত নয় মাস হকি ফেডারেশনে কর্মব্যস্ততা ছিল। স্কুল হকি টুর্নামেন্ট, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস আয়োজন করেছে তারা। কিন্তু হয়নি খেলোয়াড়দের পরম আরাধ্য হকি লিগও, এরপর করোনা মহামারিতে চার মাস ধরে অচল ক্রীড়াঙ্গন। করোনার সংকট না এলে দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও হয়তো হয়ে যেত। ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু জুনিয়র এশিয়া কাপ ও বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকি। খেলাধুলা কোনো রকমে চললেও ইউসুফের চোখে প্রধান নির্বাহীর অনুপস্থিতি বড় ঘাটতি, ‘সাঈদ ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে আমরা ফেডারেশন চালিয়ে নিচ্ছি, খেলাধুলাও হয়েছে। স্পন্সররা এগিয়ে আসায় আমরা টুর্নামেন্টগুলো করতে পেরেছি, এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো হয়েছে স্কুল হকি টুর্নামেন্ট। এর পরও সাধারণ সম্পাদক ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী। তাঁকে ছাড়া অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।’

আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সাধারণ সম্পাদককে নিজের অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। এর পরই ফেডারেশন হাঁটবে নতুন সিদ্ধান্তের পথে। তবে মোহাম্মদ ইউসুফ জবাব পাওয়ার আগে কিছু বলতে চান না, ‘সাধারণ সম্পাদকের জবাবের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা মুশকিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা