kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

বাস্কেটবল

করোনার আগেই কাবু

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে সব খেলাধুলা বন্ধ। কিন্তু সব ফেডারেশনে এর প্রভাব কি এক? কিছু কিছু ফেডারেশন তো নিয়মিত খেলাই আয়োজন করে না। একটা লিগের জন্য বছরের পর বছর তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয় খেলোয়াড়দের, বড়জোর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয় নামকাওয়াস্তে। কোথাও তাও নয়, যেমন বাস্কেটবল। তেমনি কয়েকটি ফেডারেশনকে নিয়ে শাহজাহান কবিরের ধারাবাহিক শুরু হচ্ছে বাস্কেটবল ফেডারেশনকে দিয়েই—

দেশে তুলনামূলক কম প্রচলিত খেলা যেমন উশু, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, কুস্তি, তায়কোয়ান্দোতে আর কিছু না হোক বছরে অন্তত একটা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয়। বাস্কেটবল সে তুলনায় বেশ জনপ্রিয়। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অনেক স্কুলেই নিয়মিত খেলা হয়। কিন্তু চার বছর হলো বাস্কেটবলের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপও হয়নি। সর্বশেষ লিগ হয়েছে ২০১৮ সালে, তার আগের চার বছরে হয়েছে মাত্র একবার। গত বছর সিনিয়রদের কোনো খেলাই হয়নি।

তাতে একে একে ঝরে পড়ছেন বাস্কেটবলাররা। জাতীয় দলে খেলা নৌবাহিনীর মিঠুন কুমার বিশ্বাস যেমন বলছিলেন, ‘বাহিনীর খেলোয়াড়রাই বাস্কেটবলে যা নিয়মিত, আর বিকেএসপির কিছু খেলোয়াড়। এর বাইরের খেলোয়াড়রা আসলে ভালোবাসা নিয়ে খেলাটায় এসেও টিকে থাকতে পারে না। স্কুল, কলেজ পর্যন্তই। এটাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবতেই পারে না তারা।’ চার বছরে একবার লিগ, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয়, সেখানে বড় খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন আসলে জলাঞ্জলিই দিতে হয় উঠতি তরুণদের। জাতীয় দলের আরেক খেলোয়াড় বর্তমানে বিকেএসপির কোচ খালেদ মাহমুদ ভীষণ আক্ষেপ করেন বাস্কেটবলের এই অবস্থা নেই, ‘দেশে খেলাটা আছে মনেই হয় না। অথচ খুব বেশিদিন আগেও নয়, বেশ জমজমাট ছিল বাস্কেটবল অঙ্গন। বিশেষ করে আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কয়েকটা বছর ২০১০-১৩তে নিয়মিত খেলা হয়েছে, লিগ হয়েছে। আমেরিকার খেলোয়াড়রা এসেছে। কিন্তু হঠাৎ ২০১৩-এর পর আর খেলা নেই। এরপর আমরা লিগ পেলাম ২০১৭ তে। সেই শেষ। কেউ যেন দেখারও নেই।’

২০১৪-১৫ থেকে বাস্কেটবল অঙ্গন মলিন হয়ে পড়ার অবশ্য একটা কারণ দেখেন মিঠুন, ‘ওই সময় থেকে বাস্কেটবল কোর্টটা নষ্ট হতে শুরু করে। কিন্তু কখনোই পুরোপুরি সংস্কার করা হয়নি এটি। জোড়াতালি দিয়ে খেলা চলছিল। কারণ শোনা যাচ্ছিল শেখ কামাল কমপ্লেক্সের জন্য আমাদের ইনডোরটি ভেঙে ফেলা হবে। ফলে এটার পেছনে টাকা ঢালতে চাইছিল না জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা ফেডারেশন। ইনডোরটা ভেঙে ফেলা হলে আমরা কোথায় যাব, তা-ও জানি না।’ অবাক ব্যাপার, জাতীয় ফেডারেশনের নিজস্ব একটা খেলার জায়গা নেই। আবাহনী মাঠের পাশে জিমন্যাশিয়ামটা ভেঙে ফেলা হলে জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলা কোথায় হবে জানেন না ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক এ কে সরকারও, ‘আমরা এ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা এখনো হয়নি।’ লিগ বা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ অনিয়মিত হয়ে যাওয়ার পেছনে এটিকেও একটি কারণ মানেন সরকার। অন্য কারণগুলো কী, তিনি অবশ্য জানাতে পারেননি, ‘নিশ্চয় কোনো কারণ ছিল বিভিন্ন সময় টুর্নামেন্ট করতে না পারার পেছনে। গত বছর এসএ গেমসের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আমরা সিনিয়রদের কোনো খেলা করতে পারিনি। তবে এবার করোনা কাটলে আমরা একে একে সব খেলাই আয়োজন করব।’

কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের এ আশ্বাসে আস্থা রাখার শক্তি অতীতের ঘটনাবলিতে নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা