kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ছয়ে চোখ তবে চারেও খুশি!

সনৎ বাবলা   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ছয়ে চোখ তবে চারেও খুশি!

জাতীয় দলের ফুটবলারদের নিয়ে একের পর এক সভা করছেন বাফুফে কর্তারা। তাঁরা সবাই মাতোয়ারা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের হাওয়ায়। বাকি চার ম্যাচ থেকে তাঁদের বিশাল কিছু অর্জনের স্বপ্ন। আর স্বপ্নের পালে হাওয়া দিচ্ছে আফগানিস্তান ও ভারত। মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দল কাতার ও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির ফল যা-ই হোক, বাকি দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঘরের মাঠে ম্যাচগুলো যেন তাদের পয়েন্টের সাহস জোগাচ্ছে। প্রত্যাশা এমনই তীব্র যে তাঁরা দিব্যদৃষ্টিতে ৬ পয়েন্ট দেখতে পাচ্ছেন! তবে সেটা ৪ পয়েন্ট হলেও তাঁরা অখুশি হবেন না।

তাঁদের প্রত্যাশার মূলে আসলে ভারত ও আফগানিস্তানের অ্যাওয়ে ম্যাচ দুটি। ভারতের বিপক্ষে জেতা ম্যাচ বাংলাদেশ ড্র করেছিল শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে। ম্যাচ ড্র হয় ১-১ গোলে। শুরুতে আফগানিস্তানের ম্যাচ হেরেছিল শেষদিকে গোল হজম করে। দুই ম্যাচের দুর্ভাগ্য ঝেড়ে নিজেদের মাঠে আশরাফুল-তপুরা চান সৌভাগ্য ফেরাতে। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ভারতের সঙ্গে নিজেদের কোনো পার্থক্য দেখেন না, ‘ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচটি দুর্ভাগ্যবশত ড্র হলেও সেই ইতিবাচক খেলাটা এখানে কাজে লাগবে। ওই ম্যাচের পর আমার একটা বিশ্বাস জন্মেছে, ওদের সঙ্গে আমাদের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। দুটি দলই এখন প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। দেশের মাঠে ভালো খেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেটা প্রমাণ করতে পারলেই হয়।’ ভারত ৫ ম্যাচ খেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে। ৪ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ ১ পয়েন্ট নিয়ে আছে সবার নিচে। ভারতের বিপক্ষে লাল-সবুজের এই ম্যাচটি হবে ১২ নভেম্বর। এই ম্যাচ নিয়ে বেশি আগ্রহ দেশের মানুষের, তবে ম্যাচটি কোন ভেন্যুতে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাফুফে তিনটি হোম ম্যাচ সিলেটে করতে চাইলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার অনুমোদন লাগবে।

তার আগে ৮ অক্টোবর সিলেটে আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে করোনা বিরতি-পরবর্তী বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। তবে এটা সত্য যে, আফগানদের সঙ্গে অ্যাওয়ে ম্যাচে অত ভালো খেলেনি বাংলাদেশ। গোলরক্ষক আশরাফুল রানাও স্বীকার করেন, ‘প্রথমার্ধে ওরা ভালো খেলেছে, এরপর আমরা মোটামুটি খেলেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেরেছি। এটাও বলতে হবে, আফগানিস্তান একদম আহামরি দলও নয়।’ আবার এতটা সহজ প্রতিপক্ষও নয় যে জয়ের ঘোষণা দিয়ে তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা যাবে। তবে লড়াইয়ের জায়গা আছে, স্বপ্ন দেখারও সুযোগ আছে বলে মনে করেন আশরাফুল রানা। ‘ভারত ও আফগানিস্তান কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও তাদের সঙ্গে খেলার অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সাহসী করে তুলছে। পাশাপাশি নিজেদের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা আমরা পাব। তাই দুই ম্যাচ থেকে আমরা ৬ পয়েন্টের স্বপ্ন দেখি, তবে ম্যাচ শেষে সেটা ৪ পয়েন্ট হলেও মন্দ নয়’—বাংলাদেশ গোলরক্ষকের কণ্ঠে যেন পুরো দলের প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি। বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে-ও চান বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মিশন স্মরণীয় করে রাখতে, ‘চার ম্যাচে একটি জিতলে দারুণ ব্যাপার হবে। আমিও এমন কিছুর কথা ভাবি, তবে সেটা খুব কঠিন। ফুটবলারদের চেষ্টা ও পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে সব।’

দারুণ কিছু ঘটাতে হলে ‘হোম ম্যাচে’র পারিপার্শ্বিক সুবিধা পাওয়াটাও জরুরি। তবে এটা পাওয়া, না-পাওয়া নির্ভর করছে দেশের করোনা পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সিলেটে ম্যাচ হবে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে। দর্শকদের পাশে না পেলে স্বাগতিক সুবিধা বাংলাদেশ দল কতটা কী নিতে পারবে বলা মুশকিল। এর সঙ্গে আশরাফুলের আছে আরেক শঙ্কা, ‘করোনা বিরতির পর্বে আমরা কতটা ভালো খেলতে পারব, তা এখনো নিশ্চিত নই। এই চার মাসে আমাদের ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস কমেছে। আগে জাতীয় দলের যে সুন্দর একটা চেহারা ছিল সেটা না ফিরলে সব তালগোল পাকিয়ে যাবে।’ এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, গ্রুপের বাকি দলগুলোও এখন ফুটবলের বাইরে। নিজেদের দেশে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির কারণে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ফুটবল দলকে ক্রোয়েশিয়া পাঠানোর কথা ভাবছে। তাদের ক্রোয়াট কোচ ইগর স্টিমাচের অধীনে প্রস্তুতি পর্ব হবে নিরাপদ।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে ঢাকার বাইরে রিসোর্টসহ মাঠ খুঁজছে। চূড়ান্ত হলেই আগামী মাস থেকে শুরু হবে আইসোলেশন ফুটবল ট্রেনিং ক্যাম্প। ৩০ থেকে ৪০ জন ফুটবলারকে নিয়ে প্রাথমিকভাবে শুরু হবে এই ক্যাম্প। সেখানে জেমির বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলটিকে আবার পুরনো চেহারায় ফেরানো। তবে বাফুফে এখনো প্র্যাকটিস ম্যাচের নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। নির্ভর করছে কভিড-১৯ পরিস্থিতির ওপর। ভয়াবহতা কমে গেলে প্র্যাকটিস ম্যাচের প্রতিপক্ষের ব্যবস্থা হতেও পারে। করোনা মহামারির খারাপ খবরের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক খবর পেয়েছেন কোচ। ইনজুরি সেরে খেলার জন্য তৈরি হচ্ছেন ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া। সুবাদে আবার পূর্ণশক্তির দল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা