kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

মারিয়ার চোখে বিশ্বকাপের স্বপ্ন!

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মারিয়ার চোখে বিশ্বকাপের স্বপ্ন!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাদের অনেক প্রত্যাশার মেয়ে ফুটবল লিগ শুরু হয়েও এগোতে পারেনি। করোনার ছোবলে থেমে গেলেও তাঁদের স্বপ্ন বেঁচে আছে অনেক বড় হয়ে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের মেয়ে ফুটবল দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার, ‘আমরা এখন ভালো খেলছি, এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে চাই। এভাবে এগোতে পারলে আমরা একসময় বিশ্বকাপ খেলতে পারব। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারব।’

বাংলাদেশের সিনিয়র নারী ফুটবল দলের পারফরম্যান্স দেখলে বিশ্বকাপের স্বপ্নটা হাস্যকর মনে হবে। এই দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলেও বিশেষ কোনো অর্জন নেই সিনিয়র দলের। সাফে একবার ফাইনাল এবং তিনবার সেমিফাইনাল খেলেছে। আবার তাদের উত্তরসূরিদের দিকে তাকালে বিশ্বকাপের স্বপ্নকে খুব বাড়াবাড়ি মনে হবে না। বয়সভিত্তিক ফুটবলে এ দেশের মেয়েরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। সুবাদে বিস্ময়কর সাফল্যে তারা নারী ফুটবলকে বিজ্ঞাপিত করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম সম্ভাবনাময় জায়গা হিসেবে। বিশেষ করে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাই পর্ব পেরিয়ে তারা দু-দুবার খেলেছে মূল পর্বে। জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো এশীয় পরাশক্তিদের সঙ্গে! এটা দারুণ গর্বের অনুভূতি অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার জন্য, ‘দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারছি, এটা খুব গর্বের ব্যাপার আমার জন্য। এ রকম সৌভাগ্য সবার হয় না, এটা আমাকে আরো ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে।’ এই দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা সিনিয়র দলে যোগ হলে বদলে যেতে পারে লাল-সবুজের নারী ফুটবলের চেহারা। এটা সবার স্বাভাবিক প্রত্যাশা। এমনকি বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলিও বলতেন, ‘বয়সভিত্তিক দলটা পরিণত হলে, আরেকটু বয়স বাড়লে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সিনিয়র দলের চেহারা অন্য রকম হয়ে যাবে।’ এই ইংলিশ-অস্ট্রেলিয়ানের চোখে এটাই হলো জাতীয় দলের রংবদলের সূত্র।

এভাবে এগোতে পারলে আমরা একসময় বিশ্বকাপ খেলতে পারব। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারব।

কিন্তু এই সূত্রে যে বড় গোলমাল আছে। সিনিয়র দলে যাওয়ার আগেই যে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলারের জীবনের গতিপথ বদলে যায়। এ দেশের সামাজিক বাস্তবতা যেন তাদের স্বপ্নের সমান বড় হতে দেয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা বিয়ে করে পুরোপুরি সংসারী হয়ে যায়, আরেক দল আয়হীন ফুটবল বাদ দিয়ে বিকল্প কিছু খুঁজে নেয়। মজার ব্যাপার হলো, ছেলেদের ফুটবলে এমন কিছু আন্তর্জাতিক সাফল্য নেই, এখন তো সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালের চৌকাঠও মাড়াতে পারে না বাংলাদেশ। এর পরও এটা চমৎকার এক পেশা, লিগ খেলে তাদের আয়ের সুযোগ আছে। সুবাদে বদলে যায় তাদের জীবন। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন মেয়ে ফুটবলেও এ বছর সে রকম লিগের ব্যবস্থা করলেও বাদ সেধেছে করোনা মহামারি। বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলতে শুরু করা মারিয়ার তাই আফসোস, ‘অনেক দিন পর মেয়েদের একটা লিগ শুরু হয়েছিল, তা-ও আটকে গেল। অথচ প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য লিগটা খুব দরকার। লিগের আয় দিয়ে আমরা পরিবারকে সাহায্য করতে পারব।’

এই ফুটবল লিগকে ঘিরে তাঁদের স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তাই করোনাকালেও ঘরে বসে নেই তাঁরা। কোচের পরামর্শ মেনে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করছেন ময়মনসিংহের মেয়েটি। কারণ ফুটবল তাঁর জীবন বদলানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ফুটবলে আসা গরিব ঘরের মেয়েদের জন্য এটা নতুন জীবিকাও বটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা