kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাও দেখছেন মমিনুল

মাসুদ পারভেজ   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাও দেখছেন মমিনুল

জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টনে প্রাসাদোপম বাড়ি আন্দ্রে রাসেলের। জিম, সুইমিং পুল থেকে শুরু করে উঠানে নেট অনুশীলনের ব্যবস্থা, কী নেই সেখানে? কভিড-১৯ মহামারির কারণে ঘরে থেকে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টায় রাসেল একজন সঙ্গীও জুটিয়ে নিয়েছিলেন। একঘেয়েমিও তাই আর জাপটে ধরতে পারেনি বিস্ফোরক টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানকে। সঙ্গীকে নিয়ে রোজ দুই বেলা খাটতেন। এক বেলায় নেটে সর্বোচ্চ শ্রম নিংড়ে দিতেন তো আরেক বেলায় কঠোর ব্যায়ামে ডুবিয়ে রাখতেন নিজেদের।

রাসেলের সঙ্গী সেই পরিশ্রমের ফলও পেয়েছেন হাতেনাতেই। তাঁর বাসা থেকে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে থাকা জার্মেইন ব্ল্যাকউড সাউদাম্পটনে টেস্ট জেতানো ৯৫ রানের ইনিংস খেলার পর তাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাসেল লিখেছেন, ‘দেখো, কঠোর পরিশ্রম কী এনে দিতে পারে!’ যা ভীষণ অনুপ্রাণিত করছে মমিনুল হককেও। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক ঘরে থেকে অক্লান্তে খেটে যাওয়ার সুফলও একদিন মাঠে তুলতে চান, ‘জানি, বাইরে থেকে অভ্যস্ত মানুষের ঘরে এত দিন আটকে থাকা অসহনীয়ই। তবু থাকতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ি। নিজের মনকে বোঝাতে পারলে এবং কষ্ট করে যেতে থাকলে নিশ্চয়ই আমরাও মাঠে ফিরলে সফল হব। ব্ল্যাকউড খাটুনির ফল পেলে আমরা কেন নয়?’

নতুন বলে পেসাররা ভালোই করেছে। কিন্তু বল পুরনো হয়ে যাওয়ার পর ওদের সমস্যা হচ্ছিল। হয়তো বলে এখন থুতু ব্যবহার করা যায় না বলেই। আর্চারকে দেখুন, প্রথম দিকে কী দারুণ কার্যকর ও আগুনে। কিন্তু পরের দিকে বল পুরনো হওয়ার পর মনে হয়েছে খুব সমস্যা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে এমনই উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ব্ল্যাকউড। যাঁর টেস্ট অভিষেকের দুয়ার খুলে যাওয়ার সঙ্গে যোগসূত্র আছে বাংলাদেশেরও। ২০১৪ সালে ঘরোয়া আসরে সর্বোচ্চ রান করার পর সফরকারী বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরিই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিবীয় দলে ঢুকিয়ে নিয়েছিল তাঁকে। চোখের সামনে ব্ল্যাকউডকে সেই সেঞ্চুরি করতে দেখা মমিনুল এই জ্যামাইকানের ব্যাটিংয়ের ইতিবাচকতা সাউদাম্পটনেও অপরিবর্তিতই দেখেছেন, ‘‘আমি ‘এ’ দলের হয়ে ওর বিপক্ষে খেলেছি। তখনো ধুপধাপ মেরে খেলে সেঞ্চুরি করেছিল। ওর বৈশিষ্ট্যই হলো যতক্ষণ উইকেটে থাকে, আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এই টেস্টেও কিন্তু সে ওপর দিয়ে মারা চালিয়ে গেছে। খুবই ইতিবাচক ব্যাটসম্যান। ওর ইতিবাচকতাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের অল্প রান (২০০) তাড়া করে জেতায় বড় ভূমিকা রেখেছে।”

অধিনায়ক এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেও একদিন এ রকম ভূমিকা রাখার আশায় বুক বেঁধে থাকা বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কের আপাতত খুশির সীমা নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অবশেষে শুরু হলো বলে, ‘অনেক অনুষঙ্গই হয়তো নেই, তবু শুরু তো হলো। এটাও কম নয়।’ ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গতিপথ ঠিক করে দেবে বলে মন্তব্য করা ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল অবশ্য এখনই কোনো উপসংহার টানতে রাজি নন, ‘আমি সিরিজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। কোনো সমস্যা ছাড়াই শেষ হলে নিশ্চিন্ত হয়ে মন্তব্য করতে পারব।’ তবে সাউদাম্পটনে স্বাস্থ্যবিধির যে চর্চা দেখেছেন, তাতে সমস্যা কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না মমিনুলের, ‘সবাই দেখলাম, নিয়ম মেনেই খেলেছে। একাদশের বাইরে যারা ছিল, তাদেরও দেখলাম হাতে গ্লাভস ছিল। উদ্‌যাপনেও দেখলাম, আগের মতো সেই গায়ে মাখামাখি নেই। কনুই ঠুকে উদ্‌যাপন হচ্ছে।’ যা দেখে নিজেদের ভবিষ্যৎও সেভাবেই কল্পনা করে নিতে পারছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘আমাদেরও আসলে এভাবেই অভ্যস্ত হতে হবে। এখনই খেলি কিংবা আরো তিন মাস পরে, আমাদেরও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত এভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেলে যেতে হবে।’ স্বাস্থ্যবিধি মানার নানা চ্যালেঞ্জও তাঁর চোখ এড়ায়নি। যদিও সাউদাম্পটনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলই। প্রথম ইনিংসে আরেক পেসার জেসন হোল্ডারও নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। সাফল্য পেয়েছেন ইংলিশ পেসাররাও। তবু বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের চোখ খুঁজে বের করেছে তাঁদের চ্যালেঞ্জ, ‘পেস বোলারদের আমার কাছে একটু অসহায়ই মনে হয়েছে। নতুন বলে তারা ভালোই করেছে। কিন্তু বল পুরনো হয়ে যাওয়ার পর ওদের সমস্যা হচ্ছিল। হয়তো বলে এখন থুতু ব্যবহার করা যায় না বলেই। সেটি জোফ্রা আর্চারকে দেখেই মনে হয়েছে আমার। (ক্যারিবীয়দের রান তাড়ার শুরুতে) প্রথম দিকে কী দারুণ কার্যকর ও আগুনে। কিন্তু পরের দিকে বল পুরনো হওয়ার পর মনে হয়েছে খুব সমস্যা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার পর ক্রিকেট শুরু হতেই চ্যালেঞ্জ বলে এটিই চোখে পড়ল সবার আগে।’

এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিজের সাধনার সুফল পাওয়ার সম্ভাবনাও মমিনুলকে দেখিয়ে রেখেছেন ব্ল্যাকউড!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা