kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

ফেরা সহজ নয় শ্যুটারদের

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেরা সহজ নয় শ্যুটারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আর্চারিতে সব একরকম তৈরি। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকেও আইসোলেটেড হয়ে রোমান সানারা ক্যাম্প চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেটা বন্ধ হয় অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়ার খবরে। তবে ক্যাম্প বন্ধ হলেও জার্মান কোচ দেশে ফিরে যাননি। সরকারের অনুমোদন পেলে এই মুহূর্তেই তাঁরা ক্যাম্প শুরু করে দিতে পারেন, যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকে। আর্চারি ফেডারেশন বিশ্ব আর্চারি সংস্থা থেকে পাওয়া স্বাস্থ্যবিধি হাতে নিয়ে তৈরিও। শ্যুটিংয়ে এসব ক্ষেত্রে প্রশ্ন, নতুন ক্যাম্প শুরু করতে হলে এ সব কিছুর উত্তর মেলাতে হবে তাদের।

বিদেশি কোচই নেই আব্দুল্লাহেল বাকীদের। স্থানীয় কাদের অধীনে ক্যাম্প শুরু হবে কবে, সেটাও অজানা। আর ক্যাম্পটা হবেই বা কোথায়? শ্যুটিং রেঞ্জ করোনাকালীন সময়ে ব্যবহৃত হচ্ছে বিমানবাহিনীর কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে। আগে এই ক্যাম্প সরাতে হবে। তা ছাড়া ফেডারেশনের হাতে তৈরি কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই বলেও জানিয়েছেন মহাসচিব ইন্তিখাবুল হামিদ। আর্চারি ফেডারেশন তাই যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলেই ক্যাম্প শুরু করে দিতে পারে, শ্যুটাররা তা পারবেন না। অন্তত ঈদের আগে সেই সম্ভাবনা দেখেন না ইন্তিখাবুল হামিদ, ‘আমাদের কোনো কিছুই এখনো তৈরি না। শ্যুটিং রেঞ্জে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পের ব্যাপারে আমরা মন্ত্রীর (ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন তিনি একটা চিঠি দেবেন, এরপর ক্যাম্পটা সরতে পারে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি কী হবে, সেটা আমাদের জানতে হবে। মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন আমাদের পূর্ণাঙ্গ একটা পরিকল্পনা জমা দিতে। তিনি সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন। তারপর আমরা ক্যাম্প শুরু করতে পারব। সেটা ঈদের আগে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আর পরিকল্পনার জন্য খুব শিগগির আমরা ফেডারেশনে একটা সভা করব।’

ঈদের আগে ক্যাম্প শুরু সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আর পরিকল্পনার জন্য খুব শিগগির আমরা ফেডারেশনে একটা সভা করব।

ইন্তিখাবুল হামিদ

শুট্যিং ফেডারেশনের মহাসচিব

সেই সভায়ই আসলে চূড়ান্ত হবে কতজন নিয়ে, কাদের নিয়ে ক্যাম্প হবে, কোচ থাকবেন কারা। গত অলিম্পিকের পর পর টোকিও আসরের পরিকল্পনা করে ডেনিশ কোচ ক্লাভস ক্রিস্টিয়েনসেনকে নিয়োগ দিয়েছিল ফেডারেশন। তাঁর অধীনে শ্যুটারদের স্কোরেরও উন্নতি হচ্ছিল, বাকী টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস রুপাও উপহার দেন। কিন্তু এরপর সেই কোচকে আর ধরে রাখতে পারেনি ফেডারেশন। বাকীরা সর্বশেষ এসএ গেমসে স্থানীয় কোচের অধীনে বলতে গেলে খালি হাতেই ফিরেছেন। ফেডারেশন মহাসচিবেরও তা নিয়ে আক্ষেপ আছে, ‘অলিম্পিকটা এক বছর পিছিয়ে যাওয়ায় আমরা আবার নতুন করে চেষ্টা করছি ক্লাভসের মানের কোনো কোচ আনা যায় কি না। যদিও সেটা বেশ কঠিন। কারণ টোকিও অলিম্পিকের জন্য সব ভালো কোচই মোটামুটি কোনো না কোনো দলের সঙ্গে জুড়ে গেছেন। তো যত দিন পর্যন্ত তেমন কাউকে আনা যাচ্ছে না আমাদের শ্যুটারদের স্থানীয় কোচদের অধীনেই অনুশীলন করতে হবে।’

টানা দুটি কমনওয়েলথ রুপা জেতা বাকীর সঙ্গে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলেই আতকিয়া হাসান আছেন ওয়াইল্ড কার্ডের অপেক্ষায়। স্বাভাবিকভাবেই এই দুজন ক্যাম্পে থাকছেন। এর বাইরে চার শ্যুটার প্রশিক্ষণের জন্য অলিম্পিক সলিডারিটি স্কলারশিপ পেয়েছেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত রিসালাতুল ইসলাম, শাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন ও উম্মে জাকিয়া সুলতানাও থাকবেন আশা করা যায়। ইন্তিখাবুল জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আরো তরুণ দু-একজন শ্যুটারও যোগ হতে পারেন ক্যাম্পে।

এর মধ্যে নিজেদের রাইফেল নিয়ে অবশ্য বিব্রত অবস্থার মধ্যে পড়েছেন শ্যুটাররা। শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে তাঁদের গোয়েন্দা দপ্তরের জেরার মুখেও পড়তে হয়েছে। সেই রাইফেল নিয়েই আবার তাঁরা অনুশীলনে নামতে পারবেন কি না, এটা একটা প্রশ্ন। ফেডারেশন মহাসচিবও আশা করছেন বিষয়টার দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে, ‘শ্যুটারদের রাইফেল তো ওই একটাই। শ্যুটিং করতে হলে ওটা দিয়েই করতে হবে। এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সঙ্গে আমরাও ফেডারেশন থেকে যোগাযোগ করব। বিষয়টার দ্রুত সুরাহা হতে হবে। নিশ্চয় স্পোর্টস ইকুইপমেন্টের বিষয়টা তারাও বিবেচনায় নেবেন।’ অর্থাৎ শ্যুটিংয়ে শুধু করোনার বাধা পেরোলেও হচ্ছে না, জবাব মেলাতে হবে আরো অনেক প্রশ্নেরও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা